কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) আল কোরআন অ্যান্ড কালচারাল স্টাডি ক্লাবের উদ্যোগে ‘প্রোডাক্টিভ রমাদান’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে অংশ নেয় প্রায় ৮ শতাধিক শিক্ষার্থী, যা পরিণত হয় এক মিলনমেলায়। অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের জন্য সম্মিলিত ইফতার আয়োজন করা হয়।
বুধবার (৫ মার্চ) বিকাল ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারের সঞ্চালনায় ছিলেন পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী আজাহার উদ্দীন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হায়দার আলী। বিশেষ অতিথি ছিলেন কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহাম্মদ সোলায়মান। এছাড়া, প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. যুবাইর মুহাম্মদ এহসানুল হক।
অধ্যাপক যুবাইর মুহাম্মদ এহসানুল হক বলেন, “রোজা কেবল উপবাস থাকার নাম নয়, বরং পানাহার, কামাচার ও পাপাচার—এই তিনটি বিষয় থেকে বিরত থাকার মাধ্যম।” তিনি রমজানে দান-সদকা, রোজাদারকে ইফতার করানো এবং পিতা-মাতার সাথে সদাচরণের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
বিশেষ অতিথি অধ্যাপক মোহাম্মদ সোলায়মান বলেন, “রমজানের সঠিক শিক্ষা ও প্রস্তুতির অভাবে আমরা এই মাস থেকে যথাযথ উপকার নিতে পারি না। তরুণ বয়সে ইবাদতের অভ্যাস গড়ে তুললে তা সারাজীবন কাজে আসে।”
প্রধান অতিথি অধ্যাপক ড. মো. হায়দার আলী বলেন, “রমজানকে আরও অর্থবহ করতে হবে। প্রতি বছর এমন আয়োজন হলে শিক্ষার্থীরা উপকৃত হবে।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের পেশ ইমাম বলেন, “১৬ বছরের ইতিহাসে এমন বৃহৎ আয়োজন আগে হয়নি। তাই আমি ক্লাবের সভাপতি কায়েস ভাইকে আহ্বান জানাই, যেন তারা প্রতি বছর এমন উদ্যোগ গ্রহণ করেন।”
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থী ওবায়দুল্লাহ খান বলেন, “আজকের আয়োজন এক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী একসঙ্গে ইফতার করেছে, যা আমার বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত। পাশাপাশি রমজানের ফজিলত সম্পর্কেও জানতে পারলাম।”
কুরআন অ্যান্ড কালচারাল স্টাডি ক্লাবের আহ্বায়ক কায়েসুর রহমান জানান, ক্লাবটি কুরআনের জ্ঞান প্রচার এবং ইসলামিক সংস্কৃতি চর্চায় কাজ করছে। তারই ধারাবাহিকতায় ‘প্রোডাক্টিভ রমাদান’ শীর্ষক সেমিনারের আয়োজন করা হয়, যেখানে শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল অনুপ্রেরণাদায়ক।
তিনি আরও জানান, ক্লাবের পরবর্তী প্রকল্প কুরআন বিতরণ, যা আগামী সপ্তাহেই অনুষ্ঠিত হতে পারে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে অন্তত ৫০০ শিক্ষার্থীর হাতে কুরআন পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
আলোচনা সভা ও ইফতার আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা রমজানের তাৎপর্য সম্পর্কে সচেতন হন এবং ইবাদতের প্রতি অনুপ্রাণিত হন। অংশগ্রহণকারীরা এমন আয়োজনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার আহ্বান জানান।