লাখাইয়ের মোজাম্মেল মাওয়ার পদ্মা নদীতে নিখোঁজের ৫দিন হলেও, আজও সন্ধান মিলেনি,হতাশায় স্বজনরা।
লাখাইয়ের মোজাম্মেল মাওয়ার পদ্মা নদীতে নিখোঁজের ৫দিন হলেও, আজও সন্ধান মিলেনি,হতাশায় স্বজনরা।
ঢাকার মাওয়া ফেরিঘাটে পদ্মা নদীতে স্পিডবোট ও ট্রলারের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষে নিখোঁজ মো. মোজাম্মিল হকের (৩৭) সন্ধান পাঁচ দিন পেরিয়ে গেলেও মেলেনি। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আরও তিনজন আহত হয়েছেন, তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নিখোঁজ মোজাম্মিলের সন্ধানে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ এবং নৌবাহিনীর কোস্টগার্ডের সম্মিলিত উদ্ধার অভিযান এখনও চলছে।
আহতরা হলেন অ্যাডভোকেট আব্দুর রউফ, অলটেক ফ্লোরের স্বত্বাধিকারী ও হবিগঞ্জ জেলার গণঅধিকার পরিষদের সহ-সভাপতি নূর আলম, এবং বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আলামিন। তাদের সবার বাড়ি হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার পূর্ব সিংহ গ্রামে হলেও তারা সবাই ঢাকায় বসবাস করেন। নিখোঁজ মোজাম্মিল হকের বাড়ি লাখাই উপজেলার পশ্চিম সিংহ গ্রামে এবং তিনি ঢাকায় চাকরি করতেন।
জানা গেছে, এই চার বন্ধু শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর ঢাকা থেকে প্রাইভেটকারে মাওয়া ঘাটে ঘুরতে গিয়েছিলেন এবং সেখানে একটি স্পিডবোট ভাড়া করেন। সন্ধ্যা নাগাদ পদ্মা নদীর মাঝামাঝি পৌঁছালে হঠাৎ একটি ট্রলার তাদের স্পিডবোটের ওপর উঠে যায়, যার ফলে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর থেকেই মোজাম্মিল হকের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
মোজাম্মিলের নিখোঁজ হওয়ার খবর তার গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে সেখানে শোকের ছায়া নেমে আসে এবং পরিবারের সদস্যদের মধ্যে কান্নার রোল পড়ে যায়। স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যেও নেমে এসেছে বিষাদের সুর। মোজাম্মিলের পরিবারে আহাজারি চলছে, তাদের প্রশ্ন, “আমাদের মোজাম্মিল কি এখনো বেঁচে আছে? নাকি অন্য কিছু হয়েছে।
আহতদের মধ্যে ব্যবসায়ী নূর আলম জানান, স্পিডবোট চালকের অবহেলায় এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। তিনি অভিযোগ করেন, স্পিডবোটে ওঠার সময় তারা লাইফ জ্যাকেট চেয়েছিলেন, কিন্তু চালক তা দিতে পারেননি। তার মতে, চালকের অবহেলার কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।
উদ্ধারকারী দল নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে, কিন্তু এখন পর্যন্ত নিখোঁজ ব্যক্তির কোনো খোঁজ মেলেনি। বিভিন্ন কুশঘাট ফায়ার সার্ভিসসহ বিভিন্ন দপ্তরে খোঁজাখুঁজির পরও মোজাম্মিলের সন্ধান না পাওয়ায় পরিবারের হতাশায় দিন পাড় করছে।