জবি প্রতিনিধি
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের দুই শিক্ষক ও তিন শিক্ষার্থীর উপর শাখা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন ওই বিভাগের শিক্ষার্থীরা। সমাবেশ শেষে ক্যাম্পাসে অছাত্রদের রাজনীতি নিষিদ্ধসহ তিন দাবিতে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছেন তারা।
গত বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সাজিদ একাডেমিক ভবনের নিচে বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী রফিক বিন সাদেক রেসাদের ছাত্রলীগ সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলে মারধর শুরু করে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এসময় বিভাগের শিক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ উপদেষ্টা ড. এ কে এম রিফাত হাসান এবং সহকারী প্রক্টর শফিকুল ইসলাম রক্ষা করতে গেলে তাদেরকে গালিগালাজ ও হামলা করে ছাত্রদলের নেতকর্মীরা। একই সাথে শাখা বাগছাস সভাপতি, মুখ্য সংগঠক ও যুগ্ম-আহ্বায়ক যথাক্রমে মো. ফয়সাল মুরাদ, ফেরদৌস হাসান এবং ফারুককে ছাত্রলীগ ট্যাগ দিয়ে তাদের উপরও হামলা ও মারধর শুরু করে তারা।
এদিকে এ ঘটনায় শাখা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কোনো শিক্ষকের উপর হামলা হয়নি মর্মে বিবৃতি দেয়। কিন্তু অপরদিকে শিক্ষক সমিতি শিক্ষকদের সঙ্গে ছাত্রদলের ধ্বস্তাধ্বস্তির উল্লেখ করে বিবৃতি দেয়। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য গঠিত তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. মোশাররফ হোসেন ও সদস্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন পদত্যাগ করেন। তারা দুজন উভয়েই বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন সাদাদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দ্বায়িত্বে আছেন।
গতকাল রোববার সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সাজিদ একাডেমিক ভবনের নিচে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। পুরো ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে প্রশাসনিক ভবনের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে এ মিছিল শেষ হয়। এরপর সংবাদ সম্মেলন করে দাবিগুলো জানায় শিক্ষার্থীরা।
সংবাদ সম্মেলনে ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী বাঁধন আহমেদ মারুফ বলেন, বিভাগে গিয়ে ছাত্রদল কর্তৃক হামলার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন নিরব। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতিও কোনো বিবৃত দেয় নি। শিক্ষকদের উপর হামলা ও লাঞ্ছিত করার ঘটনা হয়তো ছাত্রলীগের আমলেও হয়নি। তাহলে ৫ আগস্টের পর তারা এই সাহস কোথায় পায়? এখন এসব কথা বললে আমাকেই আবার ছাত্রলীগ ট্যাগ দিবেন? দেন। ছাত্রলীগের সময়ও শিবিরের ট্যাগ খেয়েছি। শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো তুলে ধরে বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ইরফান হোসেন বলেন, এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত না হওয়া পর্যন্ত বিভাগের সকল ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকবে।
তাদের তিন দাবি হলো- আজ ১৩ জুলাই রবিবারের মধ্যেই তদন্ত কাজ সম্পন্ন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে; যেসব রানিং স্টুডেন্ট শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের উপর এরকম বর্বর হামলায় সরাসরি জড়িত তাদের অবিলম্বে বহিষ্কার করে বিচারের আওতায় আনতে হবে; একই সাথে সাবেকদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ক্যাম্পাসে প্রবেশ নিষিদ্ধ করতে হবে ও উল্লেখ্য ঘটনায় জড়িত সাবেকদের ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
তদন্ত কমিটি থেকে পদত্যাগ :
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষকের উপর ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের হামলার ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও জবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড.মোশাররফ হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড.রইছ উদদীন পদত্যাগ করেছেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেন শিক্ষক সমিতি ও সাদা দলেতর সভাপতি অধ্যাপক ড.মোশাররফ হোসেন বলেন, আমি নিজেই তো বিচারপ্রার্থী আমি কিভাবে তদন্ত কমিটিতে থাকি। আমি এই ঘটনার বিচার চাই সুতরাং তদন্ত কমিটিতে আমার থাকা আইনের সাথে সাংঘর্ষিক। এখন আমি ও আমার ভুক্তভোগী শিক্ষকের হয়ে কথা বলতে পারছি। কোষাধ্যক্ষকে আহ্বায়ক করে নতুন তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে
শিক্ষকদের উপর হামলা নিয়ে শিক্ষক সমিতি ও ছাত্রদলের পাল্টাপাল্টি বিবৃতি:
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) কোনো শিক্ষকের গায়ে হাত তোলা হয়নি বলে দাবি করেছে জবি ছাত্রদল। শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল এবং সদস্য সচিব শামসুল আরেফিন স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ দাবি করে সংগঠনটি। বিবৃতিতে বলা হয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শহীদ সাজিদ একাডেমিক ভবনের নিচে বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সাথে যুক্ত এবং ছাত্রদলের কর্মীদের উপর সুস্পষ্ট হামলার সাথে যুক্ত রফিক বিন সাদেক রেশাদকে প্রশাসনের হাতে তুলে দিতে গিয়ে সংগঠিত ভুল বোঝাবুঝির অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় সন্মানিত শিক্ষকমন্ডলী ও শিক্ষার্থীদের সাথে কোন হামলার ঘটনা ঘটেনি।
এদিকে এ ঘটনাকে ধস্তাধস্তি বলে দাবি করে গণমাধ্যমে বিবৃতি দেয় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি (জবিশিস)। বিবৃতি বলা হয়, গত ১০ জুলাই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের একজন শিক্ষার্থীকে কেন্দ্র করে যে অনাকাঙ্ক্ষিত ও দুঃখজনক ঘটনা সংঘটিত হয়েছে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি এ ব্যাপারে উদ্বেগ ও নিন্দা প্রকাশ করছে। একটি নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্র সংগঠনের (ছাত্রলীগ) এক নেতাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও শৃঙ্খলার পরিবেশকে বিঘ্নিত করেছে।
এদিকে এঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, 'ঘটনার সঠিক কারণ উদ্ঘাটন ও দায়ীদের চিহ্নিত করার লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কর্তৃক গঠিত পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। কমিটি ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করে দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করবে।'
সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড.রেজাউল করিম বলেন, আমরা একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। তদন্ত কমিটি দ্রুতই কার্যক্রম শেষ করে পদক্ষেপ নিবে। এব্যাপারে এখনই আর কিছু বলত
১ দিন ১ ঘন্টা ৫৩ মিনিট আগে
১ দিন ১ ঘন্টা ৫৪ মিনিট আগে
১ দিন ২ ঘন্টা ১৩ মিনিট আগে
৪ দিন ১ ঘন্টা ৩ মিনিট আগে
৬ দিন ৭ ঘন্টা ১১ মিনিট আগে
৬ দিন ২৩ ঘন্টা ১৪ মিনিট আগে
৮ দিন ৩ ঘন্টা ২৮ মিনিট আগে
৮ দিন ৭ ঘন্টা ৩৮ মিনিট আগে