লাখাইয়ে সারের জন্য কৃষকের হাহাকার,কৃষকেরা দোকানে দোকানে তালাশি।
লাখাইয়ে সারের জন্য কৃষকের হাহাকার,দোকানে দোকানে তালাশি।
লাখাই উপজেলার বিভিন্ন বাজারে দোকানে দোকানে কৃষকেরা ঘুরছে সারের জন্য দোকানদারের কাছে সার চাইতেই বলছে সার নেই, একটু তাগিদ দিলেই দোকান বন্ধ করে পালাচ্ছে সার ব্যবসায়ীরা। লাখাইয়ের বিভিন্ন বাজারে সার আছে, সার নেই– এমন গোলকধাঁধায় কৃষককুল। সরকার বলছে, ডিলারের গুদাম সারে ভরা। বিপরীতে ডিলাররা প্রচার করছেন, তাদের গুদামে সারের খরা। অনুসন্ধানে নেমে দেখা গিয়াছে গুদামে মজুত রেখে ডিলাররা বলছেন, ‘সার নেই।’ একটু বেশি তাগিদ দিলেই দোকান বন্ধ করে পালাচ্ছে সার ব্যবসায়ীরা, তবে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দিলে তাদের কাছেই মিলছে যত খুশি তত। ডিলার, অসাধু কিছু সরকারি কর্মকর্তা ও আওয়ামী লীগের পুরোনো মোড়লরা এখনও ঘোরাচ্ছেন ছড়ি। কিছু আওয়ামী লীগ নেতা কৃত্রিম সার সংকট তৈরি করে পরিস্থিতি ঘোলাটে করার খেলায় মেতেছেন। বেশি দামে কালোবাজারে সার বিক্রির অভিযোগও রয়েছে বিস্তর।
করাব গ্রামের আব্দুল কাইয়ুম বলেন, আমরা কয়েকজন বুল্লা বাজারে প্রতিটা সারের দোকানে গিয়েছি,আমাদেরকে দেখেই সার ব্যবসায়ীরা সার নেই বলেই দোকান তালা দিয়ে অন্যথায় চলে যায়,শেষ পর্যন্ত বুল্লাসড়ক বাজারের রাজকুমার সারের ডিলারের দোকানে আসি,এসে দেখি সারের বস্তা টমটম গাড়ীতে তুলছেন,সার আছেনি জানতে চাইলে আমাদেরকে বলেন ৫মিনিট পরে আসেন,সে কথা বলাতে আমরা একটু দুরে দাড়িয়ে থাকি, কিছুক্ষণ পর দেখতে পাই ২৫/৩০ বস্তা সার গাড়ীতে উঠিয়ে দোকান বন্ধ করে অন্যতায় চলে যায়, আমরা প্রায় ২-৩ ঘন্টা দাঁড়িয়ে থাকি কিন্তু দোকান আর খুলে নাই, আমরা অসহায়ত্ব বোধ করছি, যদি সার কিনতে না পারি তাহলে আমাদের জমিগুলা নষ্ট হয়ে যাবে, আমাদের অনেক লস হবে।
আরেক কৃষক জমির আলী বলেন,আমি ৫খানি জমি ধান ছারা রোপণ করেছি, সারের অভাবে ছাড়াগুলো হিমসিম খাচ্ছে, সঠিক সময়ে যদি সার দিতে না পারি, তাহলে আমার ২৫/৩০ হাজার টাকা লস হবে, আমি সরকারের কাছে আব্দার জানাই বাজারে ভরপুর সার থাকে,তাহলে কৃষকের প্রাণ রক্ষা হবে,
লাখাই উপজেলার কৃষকরা ইউরিয়া, টিএসপি, ডিএপি, এমওপি সার জমিতে ব্যবহার করছে। তবে সারের বাড়তি দরের কারণে বিপাকে পড়েন কৃষকরা । লাখাই উপজেলায় সরকার নির্ধারিত দরে লাখাই বাজার বুল্লাবাজার , বামৈ মোড়াকরি ঘুরে দেখা যায় মূল্য তালিকায় প্রতি বস্তা ইউরিয়ার দাম ১৩৫০টাকা হলেও বিক্রয় হচ্ছে ১৫০০ টাকা পর্যন্ত,ডিএপি সার ১০৫০ টাকার স্থলে ১৩৫০ টিএসপি ১৪৫০ টাকার স্থলে ১৬০০ টাকা এবং এমওপি ১০০০ টাকা না নিয়ে বিক্রয় করছে ১২৫০ টাকা পর্যন্ত।