বাঘারপাড়া ও শালিখা উপজেলার সংযোগ স্থাপনকারী চিত্রা নদীর ওপরের একটি বাঁশের সাঁকো ভেঙে যাওয়ায় ১৫ গ্রামের মানুষের জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়েছে। পানির প্রবল তোড়ে ভেঙে যাওয়া সাঁকোটির কারণে এখন ঝুঁকি নিয়ে কলাগাছের ভেলায় নদী পারাপার হচ্ছেন স্থানীয়রা। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন স্কুল শিক্ষার্থী, নারী, বৃদ্ধ ও শিশুরা।যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার খানপুর গ্রাম এবং মাগুরার শালিখা উপজেলার হরিশপুরের মধ্যে প্রবাহিত চিত্রা নদীর ওপর প্রায় ৪০০ মিটার দীর্ঘ ও ৪ ফুট চওড়া এই বাঁশের সাঁকোটি ছিল দুই পাড়ের ১৫টি গ্রামের মানুষের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম। প্রতিদিন হাজারো মানুষ এই সাঁকো দিয়ে যাতায়াত করতেন। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়রা এখানে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে এলেও কোনো কাজ হয়নি। স্বাধীনতার ৫৪ বছর পার হলেও এখানকার চিত্র বদলায়নি।
সাঁকো ভেঙে যাওয়ায় খানপুর, পাঠানপাইকপাড়া, হরিশপুর, পাঁচকাওনিয়াসহ বিভিন্ন গ্রামের মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছে শিক্ষার্থীরা। খানপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পলাশ কুমার মন্ডল জানান, "নদীর ওপার থেকে প্রায় ৩০-৩৫ জন শিক্ষার্থী প্রতিদিন আমার স্কুলে আসে। সাঁকো ভেঙে যাওয়ায় তারা এখন স্কুলে আসতে পারছে না।" একই অবস্থা প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও।অন্যদিকে, বাজারের ব্যবসায়ী ও কৃষকরাও বিপাকে পড়েছেন। বাজার কমিটির সভাপতি অশোক বিশ্বাস জানান, "সপ্তাহে দুই দিন এখানে হাট বসে। নদীর উত্তর পাড়ের শালিখা উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্য বিক্রি করতে আসেন। সাঁকো না থাকায় এখন তাদের জন্য পণ্য আনা-নেওয়া খুবই কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে।এই দুর্ভোগের বিষয়ে জানতে চাইলে যশোর জেলা এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী আহমেদ মাহবুবুর রহমান জানান, "নদীর দুই পাড়ে কোনো রাস্তার আইডি আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হবে। এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশলীকে সরেজমিনে গিয়ে খোঁজ নিতে বলেছি। এরপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"তবে স্থানীয়রা দ্রুত একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন, যাতে আর কোনোদিন এই ধরনের দুর্ভোগের শিকার হতে না হয়। তাদের দাবি, দীর্ঘদিনের এই সমস্যার সমাধান না হলে হাজারো মানুষের জীবন ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করতে হবে।
৭ ঘন্টা ১৮ মিনিট আগে
১১ ঘন্টা ৫১ মিনিট আগে
১২ ঘন্টা ৩০ মিনিট আগে
১২ ঘন্টা ৪৫ মিনিট আগে
১২ ঘন্টা ৪৯ মিনিট আগে
১৩ ঘন্টা ১৯ মিনিট আগে
১৩ ঘন্টা ২৯ মিনিট আগে