লাখাইয়ে রং আর সোডা দিয়ে তৈরি হচ্ছে মিষ্টি, স্বাস্থ্যঝুকিতে সাধারণ মানুষ।
লাখাইয়ে রং আর সোডা দিয়ে তৈরি হচ্ছে মিষ্টি, স্বাস্থ্যঝুকিতে সাধারণ মানুষ।
মিষ্টি, আপনার হয়তো ভীষণ প্রিয়। কিন্তু কারখানায় তৈরির অবস্থা দেখে প্রিয় থাকবে তো? লাখাইয়ের বিভিন্ন হাটবাজারে চরম অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে রং এবং সোডা মিশিয়ে বানানো হচ্ছে মিষ্টি, আর সবার পছন্দকে চমকে দেবে যে কাউকে।
মিষ্টি, স্বাদে অনন্য,কাঁচের ঘরে সাজিয়ে রাখা রংবেরংয়ের মিষ্টি, খেতে ইচ্ছে করবে যে কারো।লাখাইয়ের বুল্লাবাজারে একটি দোকানের ফিটফাট অবস্থা দেখে অনেকেই আকৃষ্ট হন, কিন্ত ভেতরটা পাক্কা সদরঘাট, স্যাঁত-স্যাঁতে পরিবেশে ঘার্মাক্ত খোলা হাতে কারিগর বানাচ্ছে মিষ্টি,পাশেই নোংরা আবর্জনায় ভরপুর।
চমক আছে লাখাইয়ের মুড়াকড়ি বাজারের আরেক মিষ্টির কারখানায়, দেখতে খুব সুন্দর ফিটফাট, কারিগররা মিষ্টি ভাঁজছেন। অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে মিষ্টিগুলোই বানানো হয়েছে পাউডার দুধের সঙ্গে সোডা মিশিয়ে, একটু খুঁজতেই বেরিয়ে এলো, বস্তাভর্তি নিম্নমানের গুড়ো দুধ, সোডা ও রং। এসব দিয়েই তৈরি স্বাদের, শখের মিষ্টি।
বামৈ বুল্লা বাজারের কারখানায় তো একি অবস্থা। কিন্তু বুল্লাবাজারের এক কারখানার মালিক বেশ মাস্তান গোছের, অন্ধকার ঘরে তৈরি করছে মিষ্টি। আছে পোকামাকড়ও, এসব নিয়ে কারখানা মালিককে প্রশ্ন করতেই তিনি বেশ রেগে যান।
নিম্নমানের গুঁড়ো দুধ এবং সোডা দিয়ে তৈরি মিষ্টি খেয়ে অনেকেই পেটের রোগে ভুগছেন এমন এক ভুক্তভোগী সাতাউক গ্রামের সানা উল্লাহ, তিনি বলেন আমি স্থানীয় বুল্লা বাজার থেকে পাঁচ কেজি মিষ্টি কিনি আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার জন্য,এক বাচ্চা শিশু একসাথে চার-পাঁচটা মিষ্টি খায় কিছুক্ষণ পর ওর পেট ব্যথা শুরু হয় পরে স্থানীয় ডাক্তারের কাছে গিয়ে
চিকিৎসা করিয়ে সুস্থ হয়, আমি মনে করি আমরা কি খাবো? সব জায়গায় ভেজাল, অনেকের পছন্দের তালিকায় আছে এই মিষ্টি, কিন্তু এই মিষ্টির মধ্যেও ভেজাল, আমাদের আর কিছু খাওয়ার নেই। প্রশাসন যদি শক্ত ভূমিকা রাখতো, তাহলে হয়তো কিছুটা লাঘব হত।
আরেক ভুক্তভোগী আরিফ মিয়া বলেন, আমার ছেলের পছন্দ মিষ্টি,তাই আমি প্রতিদিন ছেলের জন্য মিষ্টি কিনি, এখন যা শুনলাম আমি আর কোনদিনও মিষ্টি কিনব না।
সচেতন মহলের দাবি, এসব ভেজালকারীদের বিরুদ্ধে আরো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার।
এ ব্যাপারে লাখাই উপজেলা সেনেটারী ইন্সপেক্টর বিধান সোম বলেন,নিয়মিত বাজার মনিটরিং চলছে
ফুড পয়জনিং সহ নানা সম্পর্কে প্রচারনা করা হচ্ছে, এবং বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট মহোদয় দ্বারা মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।