বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলায় নির্দিষ্ট পয়েন্ট থেকে সরে গিয়ে ভাঙ্গল কবলিত এলাকায় বালু উত্তোলন করায় বাবুগঞ্জের শহীদ পেদার বিরুদ্ধে ফুসে উঠেছে এলাকার লোকজন।
জানাগেছে, বালু ইজারাদার বাবুগঞ্জের শহীদ পেদা বানারীপাড়ার তালাপ্রসাদ বালু মহল তফসিল ৪৮ নং মৌজার নবগ্রাম, দাগ নং ২০৮ এর একটি পয়েন্টের বালুকাটার ইজারা নেয়। কিন্তু তিনি জানান, সরকারের কাছ থেকে এখানকার নদী চরের (পানির নিচের) বালু ইজারা নিয়েছেন। এবং গত ১১ সেপ্টেম্বর, বৃহস্পতিবার নদীর বালু কাটার মেশিন ও জাহাজ নিয়ে বানারীপাড়ার সন্ধা নদীতে ভাঙ্গল কবলিত এলাকায় বালু উত্তোলন শুরু করে বাবুগঞ্জ উপজেলার আগরপুর ইউনিয়নের পশ্চিম ভুতেরদিয়া গ্রামের আব্দুল্লাহ ট্রেডার্স এর স্বত্বাধিকারী মোঃ শহীদ পেদা।
স্থানীয়দের দাবি বালু মহল তফসিল ৪৮ নং মৌজার নবগ্রাম, দাগ নং ২০৮ এ শহীদ পেদা ইজারা নিয়েছেন সে স্থানটি এখন নদীর স্থায়ী চর। সেখানে ঘরবাড়ি নির্মাণ করে মানুষ বসবাস করছে। চাখারের তশিলদার সরে জমিন পরিদর্শন করে স্পষ্ট ভাবে জানিয়ে দিয়েছেন তারা যেন তাদের নির্ধারিত স্থানে গিয়ে বালু কাটে। কিন্তু এই প্রতিষ্ঠানটি কারো কথায় কর্ণপাত করছে না। তারা প্রশাসনের আদেশ উপেক্ষা করে জোর পূর্বক বালু কাটতেছে।
কিন্তু এ বিষয়ে শহীদ পেদা নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন বানারীপাড়া থানা ইনচার্জ এ বিষয়টি জানেন। কিন্তু বানারীপাড়া থানা ইনচার্জ মোহাম্মদ মোস্তফা বলেন এটা আমার বিষয় না, তাছাড়া আমি বিষয়ে কিছুই জানিনা।
এ দিকে শহিদ প্যাদা বানারীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে বিষয়টি জানিয়েছেন বলে দাবি করেন। এ প্রসঙ্গে বানারীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন তারা আমার কাছে এসেছিল। আমি তাদের যে জায়গায় ইজারা দেওয়া হয়েছে সেই জায়গায় যেতে বলেছি। তিনি আরো বলেন এর ব্যতিক্রম হলে এসিল্যান্ড ব্যবস্থা নিবে।
এ দিকে নির্দিষ্ট স্থানে রেখে ভাঙ্গল কবলিত এলাকায় বালু কাটায় স্থানীয়রা জানান অবৈধভাবে কেউ নদী চরের বালু কাটতে আসলে তাদেরকে গ্রামবাসী সম্মিলিতভাবে প্রতিহত করবে।
অপরদিকে এলাকাবাসীর দাবি তারা এখানে একটি ইটের ভাটা আশ্রয় নিয়েছে, তাদের কাছে অস্ত্রসস্ত্র রয়েছে। তারা মাঝ রাতে এখানে ককটেল ফুটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে এলাকাবাসীর মধ্যে। এ নিয়ে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। যে কোন সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। প্রশ্ন উঠেছে কে এই শহীদ পেদা? খোজ নিয়ে জানাগেছে, বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার চর উত্তর ভূতেরদিয়া এলাকার মৃত আঃ কাদের প্যাদার ছেলে শহিদ প্যাদা ওরফে গলাকাটা শহীদ উপজেলাসহ পার্শবর্তী থানাগুলোর মধ্যে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও শীর্ষ সন্ত্রাসী স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানাযায়, তার নিজ ইউনিয়ন জাহাঙ্গীরসহ বাবুগঞ্জের আতংকের নাম শহিদ প্যাদা। থানা সূত্রে জানা যায়- ডিএসবির চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী তালিকায় বাবুগঞ্জ থানায় এক নাম্বারে তার নাম আছে। মাদক ব্যাবসায়ী তালিকায় তার নাম ৯ ( নয়) নম্বরে রয়েছে। এছাড়াও শহিদ প্যাদার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় মোট ১২ টি মামলা রয়েছে। বিভিন্ন অপকর্মের হোতা মাদক ব্যবসায় সম্রাট শহিদ প্যাদা আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান থেকে বাঁচতে নিজ বাড়ীর চারপাশ সিসি ক্যামেরা দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করে ও ঘরের মধ্য সুরঙ্গ তৈরি করে দিন দিন নিজ জনপদকে আতংকে পরিনত করেছে। গত ১২ ডিসেম্বর মীরগঞ্জ ট্রলার ঘাট এলাকায় ড্রেজার লুটের সময় ৩ জনকে কুপিয়ে আহত করে শহিদ প্যাদা। ওই ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় তাকে ১৫ ডিসেম্বর রাতে গ্রেফতার করে বাবুগঞ্জ থানা পুলিশ। যার মামলা নং-১১। এছাড়া গত ১৬ সেপ্টেম্বর অনুমান সাড়ে ৫টার দিকে বরিশাল বাবুগঞ্জ থানাধীন পূর্ব ভূতেরদিয়া কেদারপুর এলাকায় আসামীরা পরস্পর যোগসাজসে বে-আইনী জনতাবদ্ধে আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে নাশকতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে আড়িয়াল খাঁ নদীতে সরকারী ইজারাকৃত বালু মহলে ভিকটিমের টোকেন ঘরে হামলা করে ঘর ভাংচুর করে টোকেন ঘরে থাকা বালু বিক্রয়ের ১ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা লুট করে। নাশকতা ও বিশৃঙ্খলতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে ২ রাউন্ড ফাঁকা গুলি করে এবং ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। সন্ত্রাসী অস্ত্রের মুখে ২টি ড্রেজার ছিনতাই করে নিয়ে যায়। আসামীরা তাদেরকে খুনসহ বিভিন্ন হুমকি দিয়ে স্থান ত্যাগ করে। সেই ঘটনায় বাবুগঞ্জ থানার বিস্ফোরক ও নাশকতা মামলার প্রধান আসামী মোঃ শহীদ প্যাদা ওরফে গলাকাটা শহীদকে গত ১৪ অক্টোবর ঢাকা জেলার সাভার থানাধীন ডেন্ডাবর এলাকায় র্যাব-৮ ও র্যাব-৪ এর যৌথ অভিযান পরিচালনা করে গ্রেপ্তার করা হয়।
ওই দিন সকাল সাড়ে ১১টায় প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র্যাব-৮ এর উপ-অধিনায়ক মেজর সোহেল রানা। গত ২৪ এপ্রিল ২০২৫ মুলাদীর আড়িয়াল খান নদী হতে অবৈধভাবে বালুর তোলার সময় উপ পরিদর্শক গোলাম মোস্তফার নেতৃত্বে আড়িয়াল খা নদীর পশ্চিম চর লক্ষীপুর এলাকা হতে শহীদ পেদা সহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়। ঐদিন সন্ধ্যায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিজাম উদ্দিন ভ্রাম্যমান আদালতে ৪ লক্ষ টাকা জরিমানা করেন।
বাবুগঞ্জের আতঙ্ক ছড়িয়ে বর্তমানে বানারীপাড়া কে আতঙ্কিত করছে এই শহীদ পেদা। শান্ত বানারীপাড়াকে অশান্ত করার দায়ভার এড়াতে পারবে না প্রশাসনসহ ঊর্ধ্বতানো কর্মকর্তারা। তাই এলাকাবাসী যথাশীঘ্র এই সমস্যা হতে পরিত্রাণ চায়।