কলম্বিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭৪ শতভাগ সাফল্যের ধারাবাহিকতায় আল ইসরার এগিয়ে চলা সীমান্তে মাদকের ছড়াছড়ি, প্রতিরোধে উদয়ন ক্লাবের সচেতনতামূলক র‍্যালি রাজবাড়ীতে ডিবির অভিযানে ২৫ পিস ইয়াবাসহ যুবক গ্রেপ্তার গোয়ালন্দে দুই স্কুলে এসএসসিতে পাস মাত্র একজন নোয়াখালীতে ৩ লাখ ২০ হাজার টাকার নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ সেনবাগ উপজেলায় পাসের হারে প্রথম ছিলোনিয়া ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় কুমিল্লা বোর্ডে পাসের হারে সর্বনিম্ন নোয়াখালী, জেলায় শীর্ষে সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ঘরে ঢুকে ঘুমন্ত ব্যক্তিকে জবাইয়ের চেষ্টা দিনাজপুরে সিআইডি পুলিশ সদস্যকে চড় , থানায় মামলা, জেলা কৃষকদলের সদস্য সচিব দল থেকে বহিষ্কার চিলাহাটিতে রেল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মানববন্ধন গোয়ালন্দে নৌযান শুমারি উপলক্ষে নৌ মহড়া দেওয়ানগঞ্জে এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় দুই প্রতিষ্ঠানের পাসের হার শূন্য লাখাইয়ে এসএসসি ও সমমানের দাখিল পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ। লাখাইয়ে যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার,এলাকায় চলছে নানা গুন্জন লালপুরে ইয়াবাসহ ৩ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার এজলাসে বসা হলো না, সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন সিভিল জজ ঢাকা-গোপালগঞ্জ রুটে ট্রেন চলাচল শুরু এসএসসি ও সমমান ফলাফলে ডোমার উপজেলায় জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১৬০ শিক্ষার্থী ঝিনাইগাতীতে ৬২ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

শতভাগ সাফল্যের ধারাবাহিকতায় আল ইসরার এগিয়ে চলা

শিক্ষার আলোয় ব্যতিক্রমের দৃষ্টান্ত—আল ইসরা মাদরাসা

শতভাগ সাফল্যের ধারাবাহিকতায় আল ইসরার এগিয়ে চলা

যখন আলিয়া মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থার এক কঠিন সময়ে শিক্ষা কার্যক্রমে নানা সংকট ও ফলাফলের নিম্নমুখী প্রবণতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছিল/উঠছে, ঠিক তখনই একটি স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে এসেছিল ‘আল ইসরা’। সেই স্বপ্ন ছিল—শুধু পরীক্ষায় ভালো ফলাফল নয়; বরং নৈতিকতা, ধর্মীয় মূল্যবোধ, আধুনিক জ্ঞান ও বাস্তবমুখী শিক্ষার সমন্বয়ে এমন এক প্রজন্ম গড়ে তোলা, যারা হবে আলোকিত মানুষ এবং দায়িত্বশীল নাগরিক।

‘আলোকিত মানুষ গড়া, সুনাগরিক হিসেবে সমাজ ও দেশ গড়া’—এই মূল প্রত্যয়কে ধারণ করেই ২০১৪ সালে আল ইসরা মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ মাওলানা মাসুম বিল্লাহ মুহাজির স্বপ্ন বুনেছিলেন একটি ব্যতিক্রমধর্মী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের। সময়ের পরিক্রমায় সেই স্বপ্ন আজ কেবল একটি প্রতিষ্ঠানের অবয়ব নয়; বরং একটি সুপ্রতিষ্ঠিত শিক্ষাঙ্গনের বাস্তব রূপ নিয়েছে।

প্রতিষ্ঠার পর থেকেই প্রতিষ্ঠানটির অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে ছিল কর্তৃপক্ষের তীক্ষ্ণ দৃষ্টি। দিন-রাতের নিরলস পরিশ্রম, পরিকল্পিত শিক্ষা কার্যক্রম এবং শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশের মাধ্যমে আল ইসরা ধীরে ধীরে নিজের একটি স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছে।

ধর্মীয় ও আধুনিক শিক্ষার অপূর্ব সমন্বয়

আল ইসরার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো—এখানে শিক্ষার দুটি ধারাকে পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখা হয় না; বরং একে অপরের পরিপূরক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

একদিকে শিক্ষার্থীরা কওমি ধারার শুদ্ধ ও বিশুদ্ধ কুরআন শিক্ষা, হাদিস, ফিকহ, সীরাত, নাহু-সরফসহ ইসলামী জ্ঞানের মৌলিক বিষয়গুলো আয়ত্ত করছে। অন্যদিকে সাধারণ শিক্ষার ক্ষেত্রে বাংলা, ইংরেজি, ইংলিশ মিডিয়াম ও গণিতসহ প্রয়োজনীয় বিষয়ে আধুনিক, বাস্তবমুখী ও যুগোপযোগী শিক্ষা লাভ করছে।

ফলে আল ইসরার শিক্ষার্থীরা শুধু পরীক্ষার খাতায় ভালো নম্বর অর্জনের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে না; তারা একই সঙ্গে ধর্মীয় মূল্যবোধ, নৈতিকতা, জ্ঞান ও বাস্তব জীবনের প্রয়োজনীয় দক্ষতা নিয়ে বেড়ে ওঠার সুযোগ পাচ্ছে।

এ যেন একই বৃক্ষে জ্ঞান ও নৈতিকতার দুটি শাখা—একটির শিকড় ধর্মীয় মূল্যবোধে, অন্যটির বিস্তার আধুনিকতার আকাশে।

SSC ফলাফলে আবারও শতভাগ সাফল্য

প্রতিটি শিক্ষাবর্ষের মতো ২০২৬ শিক্ষাবর্ষেও SSC পরীক্ষায় আল ইসরা মাদরাসা অর্জন করেছে শতভাগ সাফল্য। এবারের ১৬ জন পরীক্ষার্থীর ফলাফলও প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘদিনের সাফল্যের ধারাবাহিকতাকে আরও উজ্জ্বল করেছে।

১৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে—

 GPA-5 পেয়েছে ৩ জন

GPA 4.50–4.99 পেয়েছে ৫ জন

GPA 4.00–4.49 পেয়েছে ৫ জন

GPA 4.00- এর নিচে পেয়েছে ৩ জন

অর্থাৎ, শতভাগ পরীক্ষার্থীই সফলতার সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়েছে। ফলাফলের এই ধারাবাহিকতা আল ইসরার শিক্ষাব্যবস্থার প্রতি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আস্থাকে আরও দৃঢ় করেছে।

লালমাই উপজেলার সামগ্রিক ফলাফলের প্রেক্ষাপটেও এ ফলাফল অত্যন্ত প্রশংসনীয় ও ঈর্ষণীয় বলে বিবেচিত।

এক যুগেও গায়ে লাগেনি ব্যর্থতার কালো দাগ

আল ইসরার সাফল্যের গল্প কেবল এবারের ফলাফলেই সীমাবদ্ধ নয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে SSC পরীক্ষায় ধারাবাহিক সাফল্য ধরে রেখেছে প্রতিষ্ঠানটি।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত আল ইসরা থেকে SSC পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের প্রায় ৪০–৪৫ শতাংশ GPA-5 এবং প্রায় ৯০–৯৫ শতাংশ শিক্ষার্থী GPA-4- এর ওপরে ফলাফল অর্জন করেছে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি শতভাগ সফলতার ধারাও ধরে রেখেছে।

এই ধারাবাহিকতাই যেন আল ইসরার আত্মবিশ্বাসী উচ্চারণ—

“SSC পরীক্ষায় আমার গায়ে ব্যর্থতার কালো দাগ এক যুগ পার হলেও লাগতে দিইনি; সামনেও দেব না ইনশাআল্লাহ।”

এটি শুধু একটি বাক্য নয়; বরং আল ইসরার দীর্ঘ এক যুগের শিক্ষা-দর্শন, পরিশ্রম ও সাফল্যের প্রতিচ্ছবি।

যেখানে অনেক প্রতিষ্ঠান ফলাফলের অনিশ্চয়তা ও ব্যর্থতার সঙ্গে লড়ছে, সেখানে আল ইসরা যেন আপন গতিতে বলে চলেছে, সঠিক পরিকল্পনা, যোগ্য শিক্ষক, নিবিড় তত্ত্বাবধান এবং শিক্ষার্থীর প্রতি আন্তরিকতা থাকলে সাফল্য অসম্ভব নয়।

SSC-এর গণ্ডি পেরিয়ে কওমি শিক্ষায়ও সাফল্যের স্বাক্ষর

আল ইসরার অর্জনের পরিধি শুধু SSC পরীক্ষাতেই সীমাবদ্ধ নয়। কওমি শিক্ষার অঙ্গনেও প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীরা নিজেদের মেধা ও যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখে চলেছে।

২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষে বাংলাদেশ কওমি শিক্ষা বোর্ড—বেফাকের হিফজুল কুরআন পরীক্ষায় পুরো বাংলাদেশে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে আল ইসরা দেশের শীর্ষস্থানীয় কওমি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর তালিকায় নিজেদের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করেছে। একইসাথে কিতাবখানায় ইবতেদাইয়্যাহ ও মুতাওয়াস্সিতাহ জামাতদ্বয়ে প্রতি বছর শিক্ষার্থীরা মুমতাজ ও মেধাতালিকায় নিজেদের নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখিয়ে ইসরার সুনাম দেশের আনাচেকানাচে ছড়িয়ে দিচ্ছে। 

উল্লিখিত শিক্ষাবর্ষে বেসরকারি ভিত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ৮৯ শতাংশ শিক্ষার্থী ট্যালেন্টপুল ও সাধারণ বৃত্তি অর্জন করে বোর্ডজুড়ে প্রশংসনীয় সাফল্য লাভ করেছে।

এই অর্জনগুলো প্রমাণ করে— আল ইসরার শিক্ষাব্যবস্থা কেবল একটি নির্দিষ্ট পরীক্ষাকেন্দ্রিক শিক্ষা নয়; বরং ধর্মীয় শিক্ষা, সাধারণ শিক্ষা ও মেধাভিত্তিক প্রতিযোগিতার সমন্বয়ে গড়ে ওঠা একটি পূর্ণাঙ্গ শিক্ষাপদ্ধতি।

একটি প্রতিষ্ঠান নয়, একটি স্বপ্নের নাম ‘আল ইসরা’

একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে ইট-পাথর, দেয়াল ও শ্রেণিকক্ষ দিয়ে; কিন্তু একটি আদর্শ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে স্বপ্ন, শ্রম, মেধা, আদর্শ ও ভালোবাসা দিয়ে।

২০১৪ সালে যে স্বপ্নের বীজ বপন করেছিলেন প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ মাওলানা মাসুম বিল্লাহ মুহাজির, এক যুগের পথচলায় সেই বীজ আজ একটি সবুজ বৃক্ষে পরিণত হয়েছে। সেই বৃক্ষের ছায়ায় ধর্মীয় মূল্যবোধ শিখছে শিক্ষার্থীরা, অর্জন করছে আধুনিক জ্ঞান, তৈরি করছে নিজেদের ভবিষ্যৎ এবং স্বপ্ন দেখছে দেশ ও জাতির কল্যাণে নিজেদের নিয়োজিত করার।

আল ইসরার পথচলা তাই কেবল কয়েকটি পরীক্ষার ফলাফলের গল্প নয়। এটি একটি স্বপ্নের গল্প, একটি আদর্শের গল্প, নিরলস পরিশ্রমের গল্প এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আলোকিত করার প্রত্যয়ের গল্প।

শতভাগ সাফল্যের এই ধারা অব্যাহত থাকুক। জ্ঞানের আলোয় আলোকিত হোক প্রতিটি শিক্ষার্থী। ধর্মীয় মূল্যবোধ, নৈতিকতা ও আধুনিক জ্ঞানের সমন্বয়ে গড়ে উঠুক এমন এক প্রজন্ম, যারা নিজেদের জীবনকে আলোকিত করার পাশাপাশি সমাজ, দেশ ও জাতির জন্য হয়ে উঠবে কল্যাণের আলোকবর্তিকা।

আরও খবর