লাখাইয়ে অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে ফাস্টফুড রেস্তোরা, রয়েছে স্বাস্থ্য ঝুঁকি।
লাখাইয়ে অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে ফাস্টফুড রেস্তোরা, রয়েছে স্বাস্থ্য ঝুঁকি।
আমাদের ক্ষুধা নিবারণ করতে জলদি বা ঝটপট খাবার সবাই জানি ফাস্টফুড,যেমন সিংগারা,সমসা,পুরি,মোগলাই ইত্যাদি, এর প্রভাবেই পাল্টে গেছে রেস্তোরাঁর আড্ডার রসনা ঐতিহ্য। ঠিক তার ছায়া হয়ে দাঁড়িয়েছে ক্ষুধামন্দা, কর্মে অবসাদ। বাড়ছে অসুখের খরচ। তবে এসব স্বাস্থ্য ঝুঁকি মাথায় নিয়েও ফাস্টফুড ঘিরে দেশে কর্মসংস্থান হয়েছে। যদিও রেস্তোরাঁয় খাবারের গ্রেডিং চালুর বাস্তবায়ন চলছে ধীরগতিতে।
লাখাই উপজেলার লোকালয়ে দৃশ্য মিলে যায় শহরের সাথে। গ্রামীণ জনপদে রাস্তার পাশে গড়ে ওঠেছে দোকান-রেস্তোরাঁয় বিকেলের আয়োজনে নিম্নমানের তেল দিয়ে তৈরি সিঙ্গারা পুরি, সমসা,মোগলাই, পাউরুটির ভেতর মাংসের কিমা দিয়ে চিকেন টোস্ট তৈরি করা হয়। সব বয়সি মানুষ এসবের ক্রেতা।
কিছুদিন আগে উদ্বোধন হলো লাখাই বুল্লা বাজারের স্বপ্নবিলাস রেস্তোরা ফাস্টফুডের জাল বিস্তৃত হয়েছে কিছুদিন ধরে,এখন তা পরিণত হয়েছে অভ্যাসে৷ একসময় বুল্লাবাজারে দুই একটি রেস্টুরেন্টে মিলতো খাবার। এখন সড়কের পাশে স্বপ্নবিলাস রেস্তোরায় আছে বিনোদন স্পট,আছে টিকটকার আর যুবক-যুবতী আনাগোনা, আছে ফাস্ট ফুডের বিশাল সমাহার।
একজন বিক্রেতা বলেন, 'স্ট্রিটফুড, থাইফুড, এরাবিয়ান ফুড আছে, মানে হচ্ছে এখানে সবধরনের ফুড পাওয়া যায়।
স্বপ্নবিলাসে আসা মুহিন বলেন, 'স্ট্রিটফুডগুলোর হাইজিনের ব্যাপারে কিছু প্রশ্ন থাকে। এই খাবারের হেলথ ইস্যু থাকবে, তবে সেটা যদি লিমিট অনুযায়ী খাওয়া হয়, তাহলে এটা শরীরের জন্য ক্ষতিকর নয়।'
একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, 'এই খাবারগুলো এমন যে একবার খেলে প্রতিনিয়তই খেতে মন চায়। তাই এগুলো খাওয়া হয়।
ফাস্টফুডের যে জাদু পুরো দেশকে আচ্ছন্ন করেছে তার বাজিকর হলো বুল্লা বাজারে এই স্বপ্নবিলাস রেস্তোরা। সময়ের সাথে তাদের কাঁচঘরে তাল মিলিয়ে এসেছে নতুন নতুন ফাস্টফুড।
স্বাস্থ্যবিদদের মতে প্রতিনিয়ত ফাস্টফুডের খাবার গ্রহণ করার কারনে গ্যাস্ট্রিক, ফ্যাটি লিভার, কোলন ক্যান্সার, ডায়াবেটিসের মতো ব্যধি লাফিয়ে বাড়ছে৷
স্বর জমিনে গিয়ে দেখা যায় বুল্লা বাজারে অবস্থিত স্বপ্নবিলাস রেস্তোরা থেকে খাবার খেতে দাঁড়িয়ে আছে ভোক্তারা।
দেখা যায় ক্ষুধামন্দা, স্থুলতা, উচ্চ রক্তচাপ, অনিদ্রার মতো শারীরিক সমস্যা নিয়েও নিয়মিত মুখে তুলছে ফাস্টফুডে। সময় স্বল্পতা, সহজলভ্যতার অজুহাতে ভুলতে বসেছেন দেশি ও সুষম খাবার।
একজন ভোক্তা বলেন, 'আমি কয়েকদিন আগেই ঢাকা থেকে ডাক্তার দেখিয়ে আসছি, এখন একটু সাবধানে থাকছি। কারণ আবার এই গ্যাস্ট্রিক যেন কোনো সমস্যা না করে। আগে এই ফাস্টফুডের খাবার দিয়েই নাস্তা করতাম। আবার দেখা যেত রাতের খাবার বাইরে থেকেই খেয়ে যেতাম, সেজন্য বাসায় খেতাম না।'
ফাস্টফুডে আসক্ত হয়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিশু ও তরুণরা।
হবিগঞ্জ প্রাইভেট হসপিটালের একজন শিশু বিশেষজ্ঞ কনসালটেন্ট বলেন , আমরা এরকম প্রচুর বাচ্চা পাই যাদের ঘনঘন বমি ডায়রিয়া হয় এবং এর জন্য ওজন বাড়ছে না ঠিকভাবে,এর জন্য দায়ী এই ফাস্টফুড, এই ফাস্টফুডের প্রধান উপকরণ কার্বোহাইড্রেট। এতে শর্করা পাচ্ছে আর এর সাথে ফ্যাট কম্পোনেন্ট বেশি থাকে। এটা যখনই নির্দিষ্ট মাত্রার ওপর যাবে তখনই শরীরের ক্ষতি করতে থাকবে