চিলমারীতে "ব্রহ্মপুত্র নদে ডানতীর রক্ষা প্রকল্পের ধস, আতঙ্ক গ্রামবাসী গভীর রাতেও পরিচ্ছন্ন শ্রীমঙ্গল গড়ার লক্ষ্যে মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনা বিশ্বমঞ্চে শ্রীমঙ্গলের তরুণ উদ্ভাবক তৌকির চৌধুরী কালোবাজারে সার বিক্রি: শেরপুরের ১৫ ডিলার কারাগারে মেট্রোরেল স্টেশন সংলগ্ন আবাসন প্রকল্প দখলের চেষ্টা: তুরাগ থানা যুবদল সভাপতি মামুনের বিরুদ্ধে সশস্ত্র মহড়া ও আতঙ্কের অভিযোগ গাজী নজরুলের এমপি পদ থাকবে কিনা, জানালেন স্পিকার জাতিসংঘে ইসরায়েলি ধ্বংসযজ্ঞের কড়া সমালোচনা প্রাথমিকে ১৪ হাজার শিক্ষক নিয়োগের সময়সূচি চূড়ান্ত শ্যামনগরে আদিবাসী মুন্ডাদের ঐতিহ্যবাহী কারাম উৎসব পালিত ঘরে ঘুমিয়ে থাকা মাদ্রাসা ছাত্রের মরদেহ মিলল ধান খেতের পাশে আশাশুনিতে পল্লী বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়ে ইজিবাইক ও হোটেলের চাল বিধ্বস্থ ★অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পথচারী ও হোটেলের লোকজন ফজরের নামাজ পড়তে গিয়ে নিখোঁজ হাফেজ রোকনুজ্জামান রিপন ৪বছরের শিশু রুহি হত্যার প্রধান আসামিসহ গ্ৰেফতার ৩ কৃষকের উপস্থিতি দেখে সটকে পড়লেন সার ডিলার ও কৃষি কর্মকর্তা বাঁশ ফেলে ও আগুন জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ কৃষকের চাঁদপুর–রায়পুর সড়কে আনন্দ বাস ও সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষ, আহত ৩ বাঁশখালীর বাহারছড়া সাগরপাড়ে প্রকৃতির মায়াবী সৌন্দর্য নির্মল বাতাস ও মনোরম পরিবেশে মুগ্ধ দর্শনার্থীরা শৈলকুপার ভাটই বাজারের আসাননগর তামাক ডিপোর বিপরীতে একটি ভাড়া বাসায় অভিযান চালায় পুলিশ দিনাজপুর সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত গবাদিপশু পালনে আত্মকর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টিতে অভিবাসন ফেরতদের প্রশিক্ষণ প্রদান ও সনদ বিতরণ আক্কেলপুরে ৭২ কেজি ৯০০ গ্রাম কষ্টিপাথরের মূর্তি উদ্ধার, আটক ৪

নরোত্তম ঠাকুরের তিরোভাব তিথি উপলক্ষে ৩ দিন ব্যাপি মহোৎসব শুরু

আজ শুক্রবার ১০ অক্টোবর সন্ধ্যায় শুভ অধিবাসের মধ্য দিয়ে শুরু হচ্ছে তিন দিনব্যাপি বৈষ্ণব ধর্মের মহাপুরুষ ঠাকুর নরোত্তম দাসের তিরোভাব তিথি উপলক্ষে মহোৎসব। নরোত্তম ঠাকুরের তিরোভাব তিথি উপলক্ষে প্রতিবছর লক্ষ্মী পূর্ণিমার পাঁচদিন পর পঞ্চমী তিথিতে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

প্রতি বছরের ন্যায় এবারো রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার খেতুর গ্রামে ঐতিহ্যবাহী গৌরাঙ্গবাড়ি (শ্রীপাট খেতুরীধামে) নেমেছে ভক্তদের ঢল। দুই দিন আগে হতেই দেশের দূর দূরান্ত হতে ভক্তরা এসে আপন আপন থাকর জায়গা করে নিয়েছে। গোরাঙ্গবাড়ীর নির্ধারিত জায়গায় ছাড়াও রাস্তার দুইপাশে বিভিন্ন পসরার দোকান সাজিয়ে জমে উঠেছে খেতুরীধামে মহোৎসব।

সারা দুনিয়ায় বৈষব ধর্মের অনুসারীদের পাঁচটি ধাম রয়েছে। এরমধ্যে চারটিই ভারতবর্ষে। বাংলাদেশের একমাত্র ধাম এই খেতুরে। তাই বাংলাদেশের সনাতন বৈষ্ণব ধর্মের অনুসারীদের কাছে এর গুরুত্ব অনেক। দেশের আর কোথাও বৈষ্ণব ধর্মের অনুসারীদের এত বড় জমায়েত হয় না।

শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে তিন দিনব্যাপি এই মহোৎসব। শুক্রবার সন্ধ্যায় শুভ অধিবাসের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু। শনিবার অরুনোদয় থেকে অষ্টপ্রহরব্যাপী চলবে তারকব্রহ্ম নাম সংকীর্ত্তন। রবিবার প্রভুর ভোগ মহোৎসব, দধিমঙ্গল ও মহান্ত বিদায়ের মধ্য দিয়ে শেষ হবে তিরোভাব তিথি মহোৎসব ।

স্থানীয় বাসিন্দা সমাজসেবক এহসানুল কবির টুকু জানান, উৎসব চলাকালে প্রেমতলী থেকে বসন্তপুর পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে শুধু ভক্তদের ভিড় থাকে। ওই তিন দিন মাইকে ২৪ ঘণ্টা কীর্ত্তন চলে। আশপাশে সব মুসলমানদের বাড়ি, কিন্তু কখনও কোনো সমস্যা হয় না। বরং মুসলমানরাও এ অনুষ্ঠানে সর্বাত্মক সহযোগিতা করে। বাড়ির উঠানে ভক্তদের থাকতে দেন। নির্দ্বিধায় বাড়ির শৌচাগার ব্যবহার করতে দেন। খেতুরীধামের আশপাশে মেলা বসবে বলে মানুষ একটু আগাম ধান চাষ শুরু করে। ধান কেটে নিয়ে জমি ফাঁকা রাখে।

গৌরাঙ্গদেব ট্রাস্ট বোর্ডের ম্যানেজার গবিন্দ চন্দ্র পাল বলেন, ১০ অক্টোবর  শুক্রবার সন্ধ্যায় শুভ অধিবাসের মধ্য দিয়ে শুরু মহোৎসব শুরু। ভক্তদের নিরাপত্তার জন্য নিরাপত্তা বেষ্টনি শক্ত রয়েছে। উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনী ও সেচ্ছাসেবকরা সবসময় নিরাপত্তার দ্বায়িতে রয়েছে। শ্রীপাট খেতুরীধাম এলাকায় ১২ টি সিসিক্যামেরা স্থাপন করা আছে। এছাড়াও বক্তদের জন্য ১০০ টি স্থায়ি টয়লেট ও ১০০ টি ভ্রাম্যমান টয়লেট, পনির জন্য ১০ টি সাব মার্সিবল পাম্প ও ১ গভীর নলকুপ বসানো আছে। ভক্তদের জন্য সকল সেবার ব্যাবস্থা করা হয়েছে। নির্বিঘ্নে বক্তরা শ্রীপাট খেতুরীধামে তিরোভাব তিথির মহোৎসবে আসতে পারে।

গৌরাঙ্গদেব ট্রাস্ট বোর্ড পরিচালনা কমিটির সম্পাদক শ্যামাপদ সান্যাল বলেন, ‘খেতুরীধামের উৎসব নিয়ে এ এলাকার মানুষ যথেষ্ট আন্তরিক। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এই ঐতিহ্য সুপ্রাচীন। কখনও এখানে বিশৃঙ্খলা হয়নি। শুধু প্রশাসন দিয়ে সবকিছু হয় না। স্থানীয়রাও সহযোগিতা করেন। ভক্তদের থাকার জন্য অনেকে নিজের ঘর ছেড়ে দেন। এর চেয়ে বড় আর কী হতে পারে! এখানে যে মেলা বসে সেটা শুধু সনাতন বা বৈষ্ণব ধর্মের মানুষের নয়, সব ধর্মের মানুষই আসে।’

গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফয়সাল আহমেদ বলেন, তিন দিনের এই উৎসব ঘিরে শান্তি শংখলা ও নিরাপত্তার ব্যাবস্থা গ্রহন করা হয়েছে। স্যানিটেসন, বিদ্যুৎ, খাবার পানির ও সার্বক্ষনিক মেডিক্যাল টিমের ব্যাবস্থা রয়েছে। 

নরোত্তম ঠাকুর মহাশয় এর সংক্ষিপ্ত জীবনী থেকে জানা যায়, ১৫৩১ খ্রীষ্টাব্দে ঠাকুর নরোত্তম দাস তৎকালীন গড়েরহাট পরগণার অন্তর্গত ও বর্তমান গোদাগাড়ী উপজেলার পদ্মাতীরস্থ গোপালপুর গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। তার পিতা জমিদার কৃষ্ণনন্দ দাস, মা নারায়নী রাণী। গোপালপুরে শৈশব অতিবাহিত করে ঠাকুর নরোত্তম দাস বৃন্দাবন অভিমুখে যাত্রা করেন। সেখানে নিখিল বৈষ্ণবকুল চূড়ামণি লোকনাথ গোস্বামীর শিষ্যত্ব গ্রহণ করে দীক্ষা লাভ করেন।

পরে তিনি গোদাগাড়ীর খেতুরী গ্রামে আসেন। খেতুর মন্দিরে স্থাপনা গড়ে তোলেন এবং সেখানে উৎসব আয়োজনের ব্যবস্থা করেন। এখানে দূর-দূরান্ত থেকে ভক্তরা এসে তার কাছে দীক্ষা গ্রহণ করতে শুরু করেন।

১৬১১ খ্রীষ্টাব্দের কার্তিকী কৃষ্ণা পঞ্চমী তিথিতে ঠাকুর নরোত্তম দাস নিত্তলীলায় প্রবেশের মানসে গঙ্গাস্নানের বাসনা প্রকাশ করেন। শিষ্যগণ তাকে গঙ্গাজলে নিয়ে গেলে নিজের দেহকে অর্ধনিমজ্জিত করে প্রিয় শিষ্য গঙ্গানারায়ণ ও রামকৃষ্ণকে আদেশ করেন দেহ মার্জন করতে। গুরু আজ্ঞায় নরোত্তমের ওই দুই শিষ্য দেহ মার্জন করতে থাকলে পুরো দেহ সাদা দুধের মতো তরল পদার্থে পরিণত হয়ে গঙ্গাজলে মিলিত হয়ে যায়। সে অনুযায়ী ঠাকুর নরোত্তম দাস পৃথিবীতে ৮০ বছর স্থায়ী ছিলেন।

এরপর থেকেই যুগ পরস্পরায় দুর্গাপূজার পর বৈষ্ণব ধর্মের অনুসারীরা অহিংসার এই মহান সাধক ঠাকুর নরোত্তম দাসের কৃপা লাভের আশায় খেতুরী ধামে বার্ষিক মিলিত হয়ে।

Tag
আরও খবর