লাখাইয়ে অনলাইন জুয়া লডু কিং এ আসক্ত তরুণ তরুণী এবং বৃদ্ধারা,নিঃশ্ব হাজারো পরিবার।
লাখাইয়ে অনলাইন জুয়া লডু কিং এ আসক্ত তরুণ তরুণী এবং বৃদ্ধারা,নিঃশ্ব হাজারো পরিবার।
লাখাইয়ে মোবাইলে লুডু খেলা এখন জুয়ায় পরিণত হয়েছে। লুডু গেম খেলার বাজি ধরে জুয়ার আসরে তরুন -কিশোর থেকে শুরু করে যুবকরাও ঝুঁকে পড়ছে। চায়ের দোকানে, গাছের ছায়ায় ও আড়ালে আশংকাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে এই ইলেকট্রনিক জুয়ার আসর। বখে যাওয়া ও উঠতি বয়সের কিশোর যুবক ছাড়াও স্কুল কলেজ ফাঁকি দিয়ে জুয়া আসক্তির শিকার হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। বিশেষ করে চায়ের দোকানগুলোতে খাটের উপর বসে দেদারছে এই জুয়ার আসর বসছে। এই নিয়ে চলছে সামাজিক নানা অশান্তি। অনেকেই এই জুয়ার খপ্পরে পড়ে নিঃস্ব হয়েছেন। নগত অর্থ ও স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান জিনিসপত্র বিক্রি করে জুয়া খেলে সর্বশান্ত হয়েছেন। এলাকার সচেতন নাগরিকরা মোবাইলে লুডু খেলতে নিরুৎসাহিত করছে। তবে তাতে খুব একটা লাভ হচ্ছে না। জুয়া খেলা বন্ধ করতে মাঝে মধ্যে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। তবে পুলিশ চলে গেলে আবারও ডিজিটাল এই জুয়া খেলছেন এলাকার মানুষ। রবিবার (৩ই নভেম্বর ) সরেজমিনে উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, চায়ের দোকানে বসে ৪ জন একসঙ্গে মোবাইল ফোনে লুডু জুয়া ও ফ্রি-ফায়ার গেম খেলছে। এমনকি বিভিন্ন বাসাবাড়ীতেও স্কুল পড়ুয়া কিশোর-তরুনেরা এ জুয়া খেলায় জড়িয়ে পড়ছে। এতে উঠতি বয়সের ছেলেরাই কর্মহীন অলস সময় কাটানোর মধ্য দিয়ে অধিক হারে এই জুয়ায় আসক্ত হয়ে পড়ছেন। জানা যায়, স্মার্ট ফোনে “লুডু কিং নামে একটি আ্যাপ ইনস্টল করে সর্বোচ্চ ৮ জন মিলে এ খেলা খেলতে পারেন। অনলাইন ও অফলাইনে এ খেলা চলছে। তবে অফ লাইনে এই খেলা একসঙ্গে ৪ জন খেলার প্রবণতা বেশি। ৪ জন মিলে একটি গেম খেলতে সময় লাগে প্রায় ৩০ মিনিট। প্রতি গেমে বাজি ধরা হয় ২০০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা। কোনো কোনো ক্ষেত্রে টাকার পরিমাণ আরও বেশি হয়। ৪ জন মিলে খেললে যে লাষ্ট হবে সে ফাষ্ট হওয়া জনকে এই বাজির টাকা দেবে আর যে থার্ড হবে সে সেকেন্ড হওয়া জনকে বাজির টাকা দেবেন। সারাদিন এ খেলা চলতেই থাকে। এতে পরিবারগুলো যেমন আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে তেমনি জুয়ার টাকা জোগাড় করতে বিপথগামী হয়ে পড়ছে তরুণ ও কিশোররা। শুধু তাই নয়, মাঝে মধ্যে তারা জুয়ার টাকা জোগাড় করতে নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়ছে। মোবাইল ফোনে লুডুর কারনে প্রতিদিনই স্বামী স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হয়।অনেক যুবক আয়ের বড় অংশ লুডু গেমের আড়ালে জুয়া খেলে হারিয়ে ফেলছেন।এতে সামাজিক অপরাধ বাড়ছে। একাধিক সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ভিতরেই লাখ লাখ টাকার মোবাইল লুডু তে জুয়া খেলা হয়। সম্প্রতি সময়ে অ্যান্ড্রয়েড মুঠোফোন দিয়ে লুডু খেলা (জুয়া) ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। চারজনের সাথে আরও দু-চারজন পরামর্শক সহ লুডু দিয়ে চলছে জুয়া খেলা।বুল্লাবাজারের এক চায়ের দোকানদার বলেন, দোকানে বেঞ্চিতে বসে টেবিলের উপর মোবাইল রেখে ৪ জন মিলে মোবাইলে লুডু খেলে, অনেক্ষণ ধরে খেলা করলে তখন আমার বিড়ি, সিগারেট ও পান বেশি বিক্রি হয়। স্থানীয়রা বলেন, যুবসমাজ ধ্বংসের জন্য এখন মারাক্তক এক প্লাটফর্মের নাম অনলাইন জুয়া লডু কিং, যা বিষবাষ্পের মতো ছড়িয়ে পড়েছে পাড়া, মহল্লা , গ্রামাঞ্চলের চায়ের দোকান পর্যন্ত। এমন বিধ্বংসী খেলার নেশায় সর্বশান্ত হয়ে ভয়ঙ্কর ভাবে বেড়েছে সামাজিক অবক্ষয়। অর্থনৈতিক ভাবে সর্বশান্ত অনেক পরিবার। এর এটি বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা এখনই গ্রহন করা প্রয়োজন। তা না হলে সমাজের মহামারির মত ছড়িয়ে পড়বে সামাজিক অপরাধ। আর এ সামাজিক অপরাধে অভিভাবকরা অনেকটাই দায়ী। কারন অপ্রাপ্ত বয়সে তারা সন্তানের হাতে স্মার্টফোন কিনে দিচ্ছেন, কিন্তু সন্তান সারাদিন ফোনে কি করছেন তার কোন নজরদারি কোন অভিভাবক করছেন না। এ ক্ষেত্রে অভিভাবকদের সচেতন হওয়া দরকার বলে মনে করেন তারা। জুয়ায় আসক্ত আব্দাল মিয়া বলেন, জুয়া খেলতে খেলতে অভ্যাস হয়ে গেছে এমনকি রক্তে এই জুয়ার আসক্ত হয়ে গেছে। এখন আর শত চেষ্টা করেও ছাড়তে পারছি না কি করব? অন্যদিকে তার স্ত্রী বলেন, আমার স্বামী ইট ভাটায় কাজ করে ৬ মাস, আর ৬ মাস বাড়ীতে বসে থাকে। বসে থাকা ৬ মাস ভাটা সরদারের কাছ থেকে দাদন নিয়ে প্রতি দিন হাজার হাজার টাকা জুয়া খেলে নষ্ট করছে। বাড়ীতে ছেলে মেয়ে না খেয়ে থাকে তাতে তার কোন চিন্তা থাকে না। আমি যদিও কোন জায়গা থেকে টাকা এনে চাউল আনতে দিলে দেখা যায় রাত ১২ টা বেজে গেছে সে এখনও বাড়ীতে আসে না। পরে দেখা যায় চাউলের টাকাও সে জুয়া খেলে শেষ করে দেয়