লাখাইয়ের ফার্মাসিস্ট প্রদীপ সরকার কোটি টাকা নিয়ে উধাও, চলছে নানা গুঞ্জন।
লাখাইয়ের ফার্মাসিস্ট প্রদীপ সরকার কোটি টাকা নিয়ে উধাও, চলছে নানা গুঞ্জন।
লাখাইয়ে ফার্মেসি ব্যবসায় বিনিয়োগের কথা বলে ব্যাংক, এনজিও, ব্যবসায়ী,ঔষধ কোম্পানি ও সাধারণ মানুষের কাছ থেকে প্রায় ৪ কোটি টাকা নিয়ে পরিবারসহ উধাও বামৈ বাজারে অবস্থিত শ্রী শ্রী দয়ানন্দ ফার্মেসীর স্বত্বাধিকারী প্রদীপ সরকার নামের এক ব্যবসায়ী।
প্রদীপ সরকার লাখাই উপজেলার ৬নং বুল্লা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের গোপালপুরের বাসিন্দা গীরিন্দ্র সরকারের ছেলে।
ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রদীপ সরকার বামৈ বাজারে দীর্ঘ বছর ধরে ফার্মেসি ব্যবসা করে আসছিলেন। এর সুবাদে এলাকার মানুষের সঙ্গে তার সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। এ সুযোগে সাধারণ মানুষের সরলতার সুযোগ নিয়ে হাতিয়ে নেয় কোটি টাকা। বেশি টাকা লাভ দেওয়ার লোভ দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে টাকা নেন তিনি, তবে হঠাৎ পরিবারসহ উধাও এটা অনেকে রহস্যজনক ভাবে নিয়েছেন ।
ঔষধ কোম্পানি, পার্শ্ববর্তী ব্যবসায়ী, বামৈ বাজারে অবস্থিত সোনালী ব্যাংক এবং সাধারণ মানুষ সহ বন্ধুবান্ধব সর্বমোট ৪ কোটি টাকার মতো টাকা নিয়ে উধাও এই প্রদীপ সরকার।
ভুক্তভোগী বামৈ বাজারের এক ব্যবসায়ী জহিরুল বলেন, ‘প্রদীপ সরকার অত্যন্ত সহজ সরল মনের মানুষ ছিলেন বিশ্বাস করে টাকা দিয়েছিলাম। তিনি আমার ১০লক্ষ টাকা নিয়ে উধাও হয়ে গেছেন। আমি এখন নিঃস্ব, আমাকে রাস্তার ফকির বানিয়ে চলে গেছেন তিনি।’
রেনেটা ফার্মাসিটিক্যাল এর রিপ্রেজেন্টিভ জনি সূত্রধর বলেন, আমার কাছ থেকে নভেম্বরের প্রথমে ৬০ হাজার টাকার ওষুধ নেন এবং এক সপ্তাহ পরে তিনি উধাও হয়ে যান।
একমি ফার্মাসিটিক্যাল রিপ্রেসেন্টেটিভ সজল দাস বলেন, তার বাসার সাথে আমার বাসা ছিল, সেই সুবাদে আমি তাকে ২ লক্ষ টাকা ধার দেই, এবং নভেম্বর মাসের জন্য ৫২ হাজার টাকার ওষুধ দেই, কে জানত সে পালিয়ে যাবে, হঠাৎ জানতে পারি সে পরিবার নিয়ে উধাও হয়ে গিয়াছে, আমি এখন নিস্ব হয়ে গেলাম।
শরীফ ফার্মাসিটিক্যাল এর রিপ্রেসেন্টেটিভ কাজল সরকার বলেন, আমি গরিব মানুষ লেখাপড়া শিখেছি টাকা নাই বিধায় সরকারি চাকরি নাই, অভাবের তাড়নায় পড়ে শরীফ ফার্মাসিউটিক্যালে চাকরী নিয়েছি, অক্টোবরের প্রথমে আমার কাছ থেকে ১৫০০০ টাকার ওষুধ নিয়েছে, আমার টাকাটা দেয় নাই, সে পালিয়ে গিয়াছে আমি ১৫০০০ টাকা সুদ এনে কোম্পানির টাকা শোধ করেছি, এখন প্রতিমাসে ১৫ হাজার টাকায় ১৫০০ টাকা লাভ দিতে হবে।
এ সি আই ফার্মাসিটিক্যাল এর রিপ্রেসেন্টেটিভ আলআমিন বলেন,আমি প্রতিমাসেই তাহাকে লক্ষ টাকার ওষুধ দেই এবং প্রতি মাসের শেষ দিকে টাকা ফেরৎ দেয়,সেই সুবাদে গত মাসে ১ লক্ষ ২ হাজার টাকার ওষুধ দেই,এবং নগদ কয়েক মাসে ৩লক্ষ ২০হাজার টাকা ধার দেই, আমার সেই টাকাটাও নিয়ে পালিয়ে যায়।
পপুলার ফার্মাসিটিক্যাল এর রিপ্রেজেন্টেটিভ ভোলন রায় বলেন,ভাই আমার জীবন শেষ করে দিল প্রদীপ দাদা,আজকে ১০বছর ধরে ওনার সাথে আমার গভীর সমপর্ক ছিল,সেই সুবাদে উনাকে আমি বিভিন্ন সময় টাকা ধার দিতাম, এবং আমাদের কোম্পানি ক্যাশ সিস্টেম থাকলেও উনাকে ক্যাডিড করে দিতাম, কিছুদিন আগে কাঠিয়ারা গ্রাম সহ সর্বমোট ১২লক্ষ টাকা এনে দেই,এবং কোম্পানির পাওনা ৩লক্ষ ২০হাজার টাকা, মোট ১৫লক্ষ ২০হাজার টাকা, প্রতিনিধিকে বলেন সব মিলিয়ে ভাই আমি শেষ।
এছাড়াও স্কয়ার ফার্মাসিটিক্যাল, ইনসেপ্টা ফার্মাসিটিক্যাল, এসকে এফ ফার্মাসিটিক্যাল সহ সব মিলিয়ে কোটি টাকা নিয়ে উধাও।
গোপন সূত্রে জানা যায়, সোনালী ব্যাংক পি এল সি লাখাই উপজেলা শাখা থেকে ৫০ লক্ষ টাকা লোন নিয়াছিলো প্রদীপ সরকার,সময় মত পরিশোধ না করার কারণে শ্রী শ্রী দয়ানন্দ ফার্মেসীতে নোটিশ টানিয়ে দিয়াছে সোনালী ব্যাংক।
এ ব্যাপারে সোনালী ব্যাংক লাখাই শাখায় মুটোফোনে যোগাযোগ করলে প্রদীপ সরকারের তথ্য জানতে চাইলে, তথ্য দিতে অস্বীকার করেন ব্যাংক ম্যানেজার । পপুলার ফার্মাসিউটিক্যাল এন্ড রিপ্রেজেন্টেটিভ ভুলন রায় বলেন, আমরা কয়েকজন ভুক্তভোগী লাখাই থানায় লিখিত অভিযোগ করেছি।