◾মু. সায়েম আহমাদ : বাংলাদেশে শব্দ দূষণ এখন একটি ক্রমবর্ধমান পরিবেশগত সমস্যা। শহরগুলোতে যানবাহনের হর্ন, নির্মাণকাজ, লাউডস্পিকার, কারখানার শব্দ; সব মিলিয়ে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) তথ্যমতে, অতিরিক্ত শব্দ মানুষের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে। আমাদের দেশেও এ প্রভাব স্পষ্ট। ফলে স্বাভাবিক জীবনে ঘুমের সমস্যা, মাথাব্যথা, রক্তচাপ বৃদ্ধি এবং শ্রবণ শক্তি হ্রাসসহ নানা সমস্যা দেখা দিচ্ছে।
বিশেষত রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও খুলনার মতো ব্যস্ত শহরগুলোতে যানবাহনের অতিরিক্ত হর্ন শব্দ দূষণের বড় কারণ। রাস্তায় অপ্রয়োজনে হর্ন বাজানো অনেকের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। আবার বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অনুমতি ছাড়াই লাউডস্পিকার ব্যবহারের ঘটনা প্রায়ই দেখা যায়। নির্মাণকাজে নির্দিষ্ট সময়সীমা না মানা এবং মানহীন সাইলেন্সার ব্যবহার করাও শব্দ দূষণ বাড়ায়।
এই অবস্থায় শব্দ দূষণ রোধে আইনের কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। প্রথমত, সরকারকে শব্দ নিয়ন্ত্রণ আইন আরও কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। অপ্রয়োজনে হর্ন বাজালে বা নিয়ম ভঙ্গ করলে জরিমানা বৃদ্ধি করতে হবে। দ্বিতীয়ত, নির্মাণ কাজের সময়সূচি কঠোরভাবে মানা বাধ্যতামূলক করা উচিত। তৃতীয়ত, বিভিন্ন অনুষ্ঠানে লাউডস্পিকার ব্যবহারের অনুমতি ব্যবস্থায় কঠোর করতে হবে।
এর সঙ্গে জনসচেতনতা বাড়ানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্কুল-কলেজে শব্দ দূষণ বিষয়ে শিক্ষা দেওয়া, গণমাধ্যমে প্রচার চালানো এবং সামাজিক উদ্যোগ নেওয়া দরকার। প্রত্যেক নাগরিক যদি নিজে সচেতন হয় এবং অন্যকে সচেতন করে, তাহলে শব্দ দূষণ কমানো সম্ভব হবে বলে মনে করি। মোদ্দা কথা, শব্দ দূষণ শুধু পরিবেশগত নয়, বরং এটি মানবিক সমস্যা। তাই এখনই শব্দ দূষণ রোধে কঠোর হতে হবে নিজের জন্য, সমাজের জন্য এবং আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য।
মু. সায়েম আহমাদ
লেখক ও সংগঠক
৩ দিন ২ ঘন্টা ৫৪ মিনিট আগে
১৮ দিন ২ ঘন্টা ২১ মিনিট আগে
২১ দিন ১১ ঘন্টা ৫৯ মিনিট আগে
২২ দিন ১৪ ঘন্টা ৩ মিনিট আগে
২৩ দিন ২ ঘন্টা ৩৩ মিনিট আগে
৫৩ দিন ৮ ঘন্টা ১৪ মিনিট আগে
৫৩ দিন ৮ ঘন্টা ৪০ মিনিট আগে
৫৫ দিন ১৮ ঘন্টা ১০ মিনিট আগে