মুন্সি শাহাব উদ্দীন, চট্টগ্রাম
গ্রীষ্মের তীব্র গরম শুধু অস্বস্তিই বাড়ায় না, শরীরের ওপরও ফেলে নানা ধরনের নেতিবাচক প্রভাব। অতিরিক্ত ঘাম, পানিশূন্যতা, ক্লান্তি, হজমের সমস্যা এবং হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি এই সময়ে অনেক বেড়ে যায়। তাই গরমকালে সুস্থ থাকার জন্য জীবনযাপনের পাশাপাশি খাদ্যাভ্যাসেও কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা প্রয়োজন।
প্রথমেই গুরুত্ব দিতে হবে পর্যাপ্ত পানি পান করার ওপর। গরমে শরীর থেকে ঘামের মাধ্যমে প্রচুর পানি ও খনিজ লবণ বের হয়ে যায়। ফলে শরীরে পানির ঘাটতি দেখা দিতে পারে। শুধু তৃষ্ণা পেলেই নয়, নিয়মিত বিরতিতে পানি পান করা উচিত। পাশাপাশি ডাবের পানি, লেবুর শরবত, ঘরে তৈরি ফলের জুস এবং ওরাল স্যালাইনও শরীরের পানির ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করে।
খাদ্যতালিকায় মৌসুমি ফলের পরিমাণ বাড়ানো জরুরি। তরমুজ, বাঙ্গি, শসা, আনারস, পেয়ারা ও পেঁপের মতো ফলে প্রচুর পানি, ভিটামিন ও খনিজ উপাদান থাকে। এসব ফল শরীরকে ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করার পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধক্ষমতাও বাড়ায়। বিশেষ করে তরমুজ ও শসা পানিশূন্যতা দূর করতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
গরমের সময় ভারী ও অতিরিক্ত তেল-মসলাযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলাই ভালো। এসব খাবার হজমে বেশি সময় নেয় এবং শরীরে অস্বস্তি সৃষ্টি করতে পারে। এর পরিবর্তে হালকা ও সহজপাচ্য খাবার যেমন শাকসবজি, ডাল, মাছ, সালাদ ও ভাত পরিমিত পরিমাণে খাওয়া উচিত। এতে শরীর প্রয়োজনীয় পুষ্টি পাবে, আবার হজমের ওপরও অতিরিক্ত চাপ পড়বে না।
অনেকেই গরমে ঠান্ডা পানীয়ের প্রতি আকৃষ্ট হন। তবে বাজারের কোমল পানীয় বা অতিরিক্ত চিনি-সমৃদ্ধ পানীয় শরীরের জন্য উপকারী নয়। এগুলো সাময়িকভাবে স্বস্তি দিলেও দীর্ঘমেয়াদে ওজন বৃদ্ধি, ডায়াবেটিসের ঝুঁকি এবং পানিশূন্যতার সমস্যা বাড়াতে পারে। তাই প্রাকৃতিক পানীয় বেছে নেওয়াই উত্তম।
এ সময় খাবারের নিরাপত্তার প্রতিও বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন। গরমে খাবার দ্রুত নষ্ট হয় এবং ব্যাকটেরিয়া সহজে বৃদ্ধি পায়। ফলে খাদ্যে বিষক্রিয়া ও ডায়রিয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই বাসি খাবার এড়িয়ে চলা, খাবার ঢেকে রাখা এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণজ ও সহজপাচ্য খাবার গ্রহণ, মৌসুমি ফল খাওয়া এবং অস্বাস্থ্যকর পানীয় এড়িয়ে চলার মাধ্যমে গরমের কষ্ট অনেকটাই কমানো সম্ভব। সামান্য কিছু পরিবর্তনই আমাদের শরীরকে রাখতে পারে সতেজ, কর্মক্ষম ও সুস্থ।
৪ ঘন্টা ৫৬ মিনিট আগে
১ দিন ২১ ঘন্টা ৩৩ মিনিট আগে
১৮ দিন ৭ ঘন্টা ৪ মিনিট আগে
২৩ দিন ১৬ ঘন্টা ৪১ মিনিট আগে
২৫ দিন ১৯ ঘন্টা ১৪ মিনিট আগে
২৭ দিন ১৬ ঘন্টা ৫০ মিনিট আগে
৩৫ দিন ২৩ ঘন্টা ৪৫ মিনিট আগে
৩৮ দিন ১৬ ঘন্টা ২৬ মিনিট আগে