১৩ বছর পূর্তি উপলক্ষে ইক্বরা টেলিকমের বিশেষ আয়োজন, কেনাকাটায় মিলবে লাকি কুপন হালুয়াঘাটে বসতবাড়িতে শাক-সবজি চাষ ও গৃহপালিত প্রাণী পালনবিষয়ক ফলোআপ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত মিরসরাইয়ে চলাচলের রাস্তা বন্ধের অভিযোগ কওমে লুতের ভয়াবহ পরিণতি: কোরআনের সতর্কবার্তা ও আজকের সমাজ দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে লাখাইয়ে পূর্ব বুল্লা গ্রামীন রাস্তা সংস্কার না করে টাকা ফেরৎ, জনমনে ক্ষোভ। সিংড়ায় ১১ বিঘা ধানী জমি কেটে পুকুর খননের অভিযোগ, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা নাগেশ্বরীতে মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই: জরাজীর্ণ ঝুপড়িতে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন প্রতিবন্ধী দুক্ষাতি বেওয়া সুবর্ণচরে পুকুরে স্নান করতে গিয়ে দুই বোনের মৃত্যু দানিহারী উচ্চ বিদ্যালয়ের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তোমরাই আগামীর বাংলাদেশ --এমপি জাহাঙ্গীর আলম সেনাবাহিনীর পোশাকে প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতি, স্বর্ণ-টাকা লুট সাংবাদিক আলিফ হত্যা ও সাংবাদিক এম এ মোতালিব ভূইয়ার উপর হামলার প্রতিবাদে শান্তিগঞ্জ প্রেসক্লাবের মানববন্ধন সোনাইমুড়িতে গুলিতে আহত ১ জন ছদ্মবেশে হেলমেট পরে এসে চায়ের দোকানে বসা বৃদ্ধকে গুলি বকশীগঞ্জে ২১৭ বোতল ভারতীয় মদ জব্দ, ছাত্রদল নেতাসহ আটক ৫ স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে নাঙ্গলকোট উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে আব্দুল গফুর ভূঁইয়ার মতবিনিময় ইসলামপুরে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করলেন এমপি সুলতান মাহমুদ বাবু ভরিতে সোনার দাম কমলো ৩ হাজার ৩২৪ টাকা ইরানে আজ হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র, জানালেন ট্রাম্প পাঁচ কোটি মানুষের লিভার রোগ, বিশেষজ্ঞ মাত্র ১৪০ জন

চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙন থেকে রক্ষার দাবিতে, মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত

চিলমারীঃ ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙন থেকে রক্ষার দাবিতে, মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত

হাবিবুর রহমান, চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধিঃ কুড়িগ্রামের চিলমারতে "ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙন থেকে উপজেলাকে রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন ও সমাবেশ" অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

শনিবার (১৮ই জুলাই) সকাল ১১টার দিকে কুড়িগ্রাম জেলা চর উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু সভাপতিত্বে "চিলমারী ইউনিয়নের বিশালপাড়া" এলাকায় সহস্রাধিক নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষেরা এ কর্মসূচিতে অংশ গ্রহন করেন। সমাবেশ থেকে দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার গুলোর পুনর্বাসন এবং চরাঞ্চলের মানুষের উন্নয়নের জন্য পৃথক (চর মন্ত্রণালয়) গঠনের দাবি জানান তারা। এ সময় উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন, আলহাজ্ব বীর মুক্তিযোদ্ধা ও চিলমারী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল বারী সরকার, জেলা চর উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদের সিনিয়র সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ খাজা শরীফ উদ্দিন আহমেদ রিন্টু, চিলমারী উপজেলা শাখার সভাপতি সহকারী অধ্যাপক আবু হানিফা, সদস্য সচিব সহকারী অধ্যাপক ফজলুল হক, সোনালী অতীত ফুটবল ক্লাব কুড়িগ্রাম জেলার সাধারণ সম্পাদক ওয়াজেদ আলী ঝিনুক, চিলমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম কাজী, মহিলা নেত্রী শাহনাজ সুলতানা এবং নদী ভাঙনের শিকার আছির উদ্দিন ও শাহজাহান আলীসহ স্থানীয় আরও অনেকে বক্তব্য রাখেন। সমাবেশে বক্তারা বলেন, ব্রহ্মপুত্রের ভয়াবহ ভাঙনে প্রতি বছর চিলমারী উপজেলার বিস্তীর্ণ জনপদ নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। বসতভিটা, ফসলি জমি, শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন স্থাপনা হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়ছেন হাজার হাজার মানুষ। স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ ও ভাঙনরোধে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানান তাঁরা। এ সময় অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু বলেন, কুড়িগ্রাম জেলার ১৬টি নদ-নদীর অন্তত ৪২টি স্থানে বর্তমানে নদী ভাঙন চলছে। গত ১০বছরে প্রায় দুই লাখ মানুষ তাদের বসতভিটা হারিয়ে নতুন ঠিকানায় আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। অথচ নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সঠিক পরিসংখ্যান কোন সরকারি দপ্তরের কাছে নেই। তিনি বলেন, বন্যা ও নদী ভাঙনের শিকার হয়ে শুধু মানুষ জমি-জমা হারাচ্ছেন না, হারাচ্ছেন তাঁদের শৈশব, স্মৃতি ও সামাজিক বন্ধনও। অনেক পরিবার এখনো জানে না, বন্যার সময় তারা কোথায় আশ্রয় নেবে কিংবা গবাদিপশু ও শিশু সন্তানদের কোথায় নিরাপদে রাখবেন তারা। তিনি আরও বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ—বিশেষ করে নেদারল্যান্ডস, কানাডা, ইংল্যান্ড ও কলম্বিয়ায় নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের দ্রুত ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা রয়েছেন। কিন্তু বাংলাদেশে এখনো সে ধরনের কোনো কার্যকরী ব্যবস্থা গড়ে উঠেনি। তিনি দাবি করেন, শুধু কুড়িগ্রাম নয়, দেশের ৩২টি জেলার প্রায় ১০০টি উপজেলার দুই কোটিরও বেশি মানুষ নদী ভাঙন ও চরাঞ্চলের নানা সংকটের মধ্যে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য পার্বত্য বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আদলে একটি পৃথক চরবিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠন করা প্রয়োজন বলে মনে করেন। সমাবেশ থেকে বক্তারা নদী ভাঙন প্রতিরোধে দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার গুলোর জন্য ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা এবং চরাঞ্চলের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান। তাঁরা আরও বলেন, চরের মানুষে জীবন-মানের উন্নয়ন ছাড়া দেশের সার্বিক উন্নয়ন কখনোই টেকসই হবে না বলে জানান তারা।

আরও খবর