◾মাহমুদুল হক হাসান : আজ ২০ নভেম্বর ঢাকা কলেজের ১৮৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। ১৯৪১সালের এই দিনে উপমহাদেশের প্রথম আধুনিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে "ঢাকা কলেজ" এর যাত্রা শুরু হয়। দেশের প্রতিটি সংকটে,সংগ্রামে মিছিলে-মিছিলে,স্লোগানে-স্লোগানে,দেশ মাতৃকার কল্যাণে নেতৃত্ব দিয়ে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে আজ অবধি ঢাকা কলেজ তার যৌবন,সুনাম,সুভাস,ঐতিহ্য ও ধারাবাহিক সাফল্যের অগ্রযাত্রা পূর্ণ উদ্যমে ধরে রেখেছে। গ্রীক দার্শনিক সক্রেটিসের অমর বাণী Know thy self (নিজেকে জানো) মূলমন্ত্র ধারণ করে দেশের শীর্ষস্থানীয় ও ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ হিসেবে ঢাকা কলেজ সকলের কাছে সুপরিচিত। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই পূর্ব বাংলার ইংরেজি শিক্ষার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয় এই ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ। বর্তমানে উচ্চ মাধ্যমিক, স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে বিজ্ঞান, মানবিক,ব্যবসা ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ২০টি বিভাগে প্রায় ২৫ হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রে এর অবস্থান,আধুনিক ও ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে মেধাবী শিক্ষার্থীদের পছন্দের শীর্ষে থাকে ঢাকা কলেজ। বর্তমানেও এটি দেশের অন্যতম সেরা সরকারি কলেজ। প্রতিষ্ঠাকালে এর নাম ছিল 'ঢাকা সেন্ট্রাল কলেজ'। পরবর্তীতে কালের পরিক্রমায় এটি ঢাকা কলেজে রুপান্তরিত হয়।
ঢাকা কলেজের আত্নত্যাগ ও সর্বোচ্চ সহযোগিতার উৎকৃষ্ট ফসল হচ্ছে প্রাচ্যের অক্সফোর্ড নামে খ্যাত আজকের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। তৎকালীন কার্জন হল,ঢাকা হল (বর্তমান শহিদুল্লাহ হল), নিজেদের জমি,শিক্ষক,সমৃদ্ধ লাইব্রেরী প্রদানের মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় ঢাকা কলেজ তার সবটুকু উজাড় করে দিয়েছিলো। এমনকি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর শিক্ষার্থীর খরা কাটিয়ে তুলতে ঢাকা কলেজ তার অনার্স-মাস্টার্স কোর্সগুলোও বন্ধ করে রেখেছিলো। শিক্ষার্থীদের কাছে সবচেয়ে প্রিয় স্থান হচ্ছে ক্যাম্পাস যার সাথে প্রতিটা শিক্ষার্থীর আবেগ-অনুভূতি,ভালোলাগা ও ভালোবাসার সম্পর্ক উৎপ্রোতভাবে জড়িত। শত সহস্র সংকট ও চড়াই উৎরাইয়ের মাঝেও সমৃদ্ধি আর সম্ভাবনার জাল বুনছে ঢাকা কলেজের শত শত বিদ্যার্থী। ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সব অঙ্গনে। ঐতিহ্যবাহী এই বিদ্যাপীঠ কালে কালে আবিষ্কার করেছে খ্যাতনামা শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী,লেখক,গবেষক,চিকিৎসক,গায়ক,নায়ক,শিক্ষাবীদ,রাজনীতিবীদসহ দেশের অসংখ্য সূর্য্যসন্তানদের।
দেশের প্রতিটা সংকটে, সংগ্রামে জাতির ক্রান্তিলগ্নে তথা ৫২এর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ৬২এর শিক্ষা আন্দোলন, ৬৯এর গণ অভ্যুত্থান,৭১এর মহান মুক্তিযুদ্ধ, ৯০এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন সর্বশেষ ২৪ এর জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানেও ঢাকা কলেজ শিক্ষার্থীদের অবদান অনস্বীকার্য। মুক্তিযুদ্ধে ঢাকা কলেজের ৮জন শিক্ষার্থী বীর শহীদদের স্মরণে কলেজের মূল ভবনের প্রবেশদ্বারের বাম দেয়ালে রয়েছে স্মৃতি ফলক। শুধু দেশেই নয় বরং উপমহাদেশের বিদ্যারণ্যে প্রবীণ এক বটবৃক্ষের নাম ঢাকা কলেজ।
একটি আত্মনির্ভর জাতিসত্তার বিকাশে, বিভিন্ন অধিকার আদায়ের লড়াকু সংগ্রামে ও জ্ঞানের আলোকবর্তিকা রূপে ঢাকা কলেজ পদার্পণ করল গৌরবের ১৮৫ তম বর্ষে। প্রতিষ্ঠার সুদীর্ঘ যাত্রায় এ বিদ্যাপীঠ তৈরি করেছে বহু আলোকিত মানুষ। যার খ্যাতি রয়েছে বিশ্বজুড়ে। যুগের পরিক্রমায় শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মনস্তাত্ত্বিক বিকাশে সহশিক্ষা কার্যক্রমেও সমান গুরুত্ব দিচ্ছে ঢাকা কলেজ।
কলেজটিতে রয়েছে রোভার,রেডক্রিসেন্ট,বিএনসিসি,সাংবাদিক সমিতি,হাফেজ এসোসিয়েশন, ল্যাংগুয়েজ,পরিবেশ, ক্রিকেট ,ডিবেটিং ক্লাব,লেখক ফোরাম,আবৃত্তি সংসদ,বাঁধন,নাট্যমঞ্চ,মিউজিক স্কুল, ইতিহাস ও বিজ্ঞান ক্লাবসহ প্রায় অর্ধ শতাধিক সামাজিক,সাংস্কৃতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন যা ক্যাম্পাস ও ক্যাম্পাসের বাইরে শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মনস্তাত্ত্বিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
ঢাকা কলেজের ১৮৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে একজন ডিসিয়ান হিসেবে প্রত্যাশা থাকবে ক্যাম্পাসের চলমান আবাসন,পরিবহণ,ল্যাব, পাঠাগার ও একাডেমিক সংকটগুলো পাশকাটিয়ে অতীতের ন্যায় ভবিষ্যতেও দেশ ও জাতীর কল্যাণে,আলোকিত মানুষ গড়ার প্রত্যয়ে জ্ঞানের দ্যুতি ছড়িয়ে সহস্র বছর সটান বুকে,স্বগৌরবে,সাফল্যের শীর্ষে জ্বলজ্বল করবে । শুভ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আমার প্রাণের ঠিকানা, যৌবনের পাহারাদার,১৮ একরের অদম্য সুরলহরী,আবেগ মিশ্রিত এক টুকরো ভালোবাসা, প্রিয় ক্যম্পাস ঢাকা কলেজ।
লেখক : মাহমুদুল হক হাসান
প্রতিষ্ঠাতা, ঢাকা কলেজ হাফেজ এসোসিয়েশন।
১০ ঘন্টা ৩৬ মিনিট আগে
১ দিন ২ ঘন্টা ৩৯ মিনিট আগে
২ দিন ৬ ঘন্টা ৫৩ মিনিট আগে
২ দিন ১১ ঘন্টা ২ মিনিট আগে
৩ দিন ১৬ ঘন্টা ৩২ মিনিট আগে
৩ দিন ১৮ ঘন্টা ৫ মিনিট আগে
৬ দিন ১ ঘন্টা ১৫ মিনিট আগে
৯ দিন ২ ঘন্টা ৪৫ মিনিট আগে