চিলমারীতে "বিশ্ব শিক্ষক দিবস" পালিত ফুলের বদলে গাছের চারা দিয়ে এমপিকে সাংবাদিকদের শুভেচ্ছা শিক্ষক দিবসে ছয়সূতী ইউনিয়ন হাই স্কুল এণ্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের আবেগঘন বার্তা অভয়নগরে ৪২০ টন সরকারি সার গায়েব: ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা শিক্ষার্থীকে মাদকে জড়ানোর অভিযোগ এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা তবুও অবহেলিত শ্যামনগরে স্কাউটিং বিষয়ক ওরিয়েন্টেশন কোর্স অনুষ্ঠিত বিশ্ব শিক্ষক দিবসে নাঙ্গলকোটে র‍্যালি ও আলোচনা সভা শ্যামনগরে নজরুল বর্ষ উপলক্ষে প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ শরীয়তপুরে মুদি দোকানে ২০ লাখ টাকা লুটের অভিযোগ নোয়াখালীতে দুই হত্যাসহ ১১ মামলার আসামি ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার বিএনপি নেতা রঞ্জুর বাড়িতে ভিপি অমর কৃষ্ণ দাস: স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও গভীর সমবেদনা সৌদিতে থেকেও মিছিলের মামলায় আসামি ইলিয়াস চৌদ্দগ্রামে মাইক্রোবাসে মাদকের চালান: ৮৯ কেজি গাঁজা, ৬০ বোতল মদ জব্দ নিয়ামতপুরে বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত পীরগাছায় শিক্ষার্থীদের মাঝে ফুটবল বিতরণ করলেন ইউপি সদস্য পদপ্রার্থী জুয়েল রানা সরকারি জায়গায় বালু ফেলে দখল চেষ্টার অভিযোগ বিএনপি নেতার ভাইয়ের বিরুদ্ধে পীরগাছায় বিশ্ব শিক্ষক দিবস উদযাপন শিক্ষক ও শিক্ষায় প্রয়োজন সর্বোচ্চ বিনিয়োগ বাঘায় বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

প্রাথমিক ও জুনিয়র বৃত্তির অর্থের পরিমাণ বাড়ছে

শিক্ষা ডেস্ক - রিপোর্টার

প্রকাশের সময়: 16-04-2026 01:50:10 pm

প্রাথমিক ও জুনিয়র বৃত্তির সংখ্যা ও অর্থের পরিমাণ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আগামী অর্থবছর থেকে এটি কার্যকর করা হবে বলে জানা গেছে।


এ বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, বর্তমান বাস্তবতার বৃত্তির অর্থের পরিমাণ তুলনায় খুবই কম। অর্থের পরিমাণ বাড়াতে ইতোমধ্যে প্রস্তাব দিয়েছি। অর্থ বিভাগের সম্মতিও মিলেছে। সব প্রক্রিয়া শেষে শিগগিরই আমরা এ ব্যাপারে ঘোষণা দিতে পারব। দীর্ঘদিন ধরে একই অঙ্কের অর্থ বৃত্তি পাচ্ছে প্রাথমিক ও জুনিয়রের মেধাবী শিক্ষার্থীরা।


গত কয়েক বছর জীবনযাপন ব্যয় ও বাজারব্যবস্থা অনেক বেশি বাড়লেও বাড়েনি বৃত্তির টাকা। ফলে শিক্ষার্থীরা যে টাকা বৃত্তি পায়, তা দিয়ে বলতে গেলে তেমন কিছুই করা সম্ভব হয় না। এমনকি এক মাসের বৃত্তির টাকা দিয়ে প্রয়োজনীয় একটি বইও কেনা সম্ভব নয়। বড়জোর তিন-চারটি খাতা কেনা যেতে পারে।


আবার কেউ যদি বৃত্তির টাকা দিয়ে প্রাইভেট পড়তে চায়, তাহলে মফস্বলেও ওই টাকায় প্রাইভেট পড়ান না শিক্ষকরা। এ কারণে বৃত্তির টাকা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


সূত্র জানায়, শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে পৃথকভাবে বৃত্তির টাকা ও সংখ্যা বাড়ানোর প্রস্তাব পৃথকভাবে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। আগামী অর্থবছর থেকে তা কার্যকর হবে। অর্থাৎ ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দের শেষে যারা পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা অংশ নেবে, তারা নতুন হারে বৃত্তির টাকা পাবে।


শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বর্তমানে সারা দেশে ৪৬ হাজার ২০০ জন শিক্ষার্থী জুনিয়র বৃত্তি পেয়ে থাকে। এর মধ্যে ট্যালেন্টপুলে ১৪ হাজার ৭০০ জন এবং ৩১ হাজার ৫০০ জন শিক্ষার্থী সাধারণ কোটায় বৃত্তি পাচ্ছে। এ হার ২০ শতাংশ বাড়িয়ে ৫৫ হাজার ৪৪০ জনে উন্নীত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৭ হাজার ৬৪০ জন ট্যালেন্টপুলে এবং ৩৭ হাজার ৮০০ জন সাধারণ কোটায় বৃত্তি পাবে। নতুন এ প্রস্তাব অনুমোদন হলে ৯ হাজার ২৪০ শিক্ষার্থী বেশি বৃত্তি পাবে।


মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব অনুযায়ী, জুনিয়র বৃত্তিতে ট্যালেন্টপুলে মাসিক ভাতা ৪৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৯০০ টাকা এবং বার্ষিক এককালীন অনুদান ৫৬০ টাকা থেকে বাড়িয়ে এক হাজার ১২০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। সাধারণ বৃত্তি কোটায় মাসিক ৩০০ টাকার পরিবর্তে ৬০০ টাকা এবং বার্ষিক এককালীন ৩৫০ টাকার পরিবর্তে ৭০০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এসএসসি পরীক্ষার আগ পর্যন্ত নবম ও দশম শ্রেণিতে দুই বছর পর্যন্ত বৃত্তি পাবে শিক্ষার্থীরা।


প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বর্তমানে প্রাথমিক বৃত্তির সংখ্যা মোট ৮২ হাজার ৫০০। এর মধ্যে মেধাবৃত্তি ৩৩ হাজার এবং সাধারণ বৃত্তি ৪৯ হাজার ৫০০টি। বৃত্তির নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কিন্ডারগার্টেন স্কুলের শিক্ষার্থীরা এই বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে। একই প্রশ্নে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে। তবে সরকারি বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় তাদের ৮০ শতাংশ বৃত্তি দেওয়া হবে। ২০ শতাংশ বৃত্তি দেওয়া হবে বেসরকারি অর্থাৎ কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষার্থীদের।


ফলে প্রাথমিকে ৩৩ হাজার মেধা বৃত্তির মধ্যে সরকারি বিদ্যালয়ের জন্য হবে ২৭ হাজার ৫০০ এবং বেসরকারি বিদ্যালয়ের জন্য পাঁচ হাজার ৫০০টি। অন্যদিকে ৪৯ হাজার ৫০০টি সাধারণ বৃত্তির মধ্যে সরকারি বিদ্যালয়ের জন্য ৪১ হাজার ২৫০ এবং বেসরকারি বিদ্যালয়ের জন্য আট হাজার ২৫০ বৃত্তি। তবে প্রাথমিকের বৃত্তির সংখ্যা বাড়িয়েও এক লাখ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।


প্রাথমিকে যেসব শিক্ষার্থী মেধাবৃত্তি পায়, তারা মাসে ৩০০ টাকা করে পায় এবং বছরে এককালীন পায় ২২৫ টাকা। যারা সাধারণ বৃত্তি পায়, তারা মাসে ২২৫ টাকা এবং বছরে এককালীন পায় ২২৫ টাকা। উভয় ধরনের বৃত্তির টাকা দ্বিগুণ থেকে চার গুণ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। একজন শিক্ষার্থী ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণিতে, অর্থাৎ তিন বছর প্রাথমিক বৃত্তি পায়।


প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘সরকার প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার নীতিমালায় পরিবর্তন আনার কথা ভাবছে। বৃত্তির অর্থের পরিমাণ এবং কত সংখ্যক শিক্ষার্থী এই সুবিধা পাবে, তা নতুন করে পর্যালোচনা করা হবে।’


জানা যায়, ২০০৯ খ্রিষ্টাব্দে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য শুরু হয় প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) পরীক্ষা। তখন থেকে বন্ধ হয়ে যায় পৃথক বৃত্তি পরীক্ষা। যদিও পিইসি পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতেই সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়া শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দেওয়া হতো। তবে করোনাভাইরাস মহামারির কারণে ২০২০ খ্রিষ্টাব্দে পিইসি পরীক্ষা নেওয়া হয়নি। পরে ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ থেকে স্থায়ীভাবে পিইসি পরীক্ষা বাতিল করা হয়। ২০২২ খ্রিষ্টাব্দের একেবারে শেষ দিকে এসে হঠাৎ করেই প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা নেওয়া হয়। এরপর ২০২৩ খ্রিষ্টাব্দ থেকে আবার নেওয়া হয়নি। এরপর ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দে আবার বৃত্তি পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও শেষ পর্যন্ত তা স্থগিত করা হয়। বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার এসে ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দের বৃত্তি পরীক্ষা এ বছর নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। গতকাল বুধবার থেকে শুরু হয়েছে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা।


একইভাবে ১৬ বছর পর গত বছর থেকে জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা চালু হয়েছে। আগে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে এই বৃত্তি দেওয়া হতো। ২০২২ খ্রিষ্টাব্দে জেএসসি পরীক্ষা বন্ধ হলে তিন বছর বৃত্তি দেওয়াও বন্ধ থাকে। তবে ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দ থেকে তা আবার চালু হয়েছে।

আরও খবর