যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার রানগর গ্রামের গর্ব, বিশিষ্ট পল্লী কবি আজগর আলী লোকান্তরিত হয়েছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। সোমবার (১২ জানুয়ারি) দুপুরে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন।কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না থাকলেও আজগর আলী ছিলেন এক সহজাত শিল্পী বা 'স্বভাবকবি'। গ্রামবাংলার মাটির গন্ধ, সাধারণ মানুষের যাপিত জীবন, হাসি-কান্না আর সমাজবাস্তবতা ছিল তাঁর কবিতা ও ছড়ার মূল উপজীব্য। সহজ ভাষায় গভীর জীবনবোধের প্রকাশ ঘটিয়ে তিনি জয় করেছিলেন সাধারণ মানুষের হৃদয়। তাঁর মৃত্যুতে স্থানীয় সাহিত্যাঙ্গন ও সংস্কৃতিমনা মানুষের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
আজগর আলীর জীবনের সবচেয়ে বড় সার্থকতা ছিল তাঁর সন্তানদের সুশিক্ষিত করে গড়ে তোলা। নিজে লেখাপড়া না জানলেও শিক্ষার গুরুত্ব তিনি মর্মে মর্মে উপলব্ধি করতেন। তাঁরই অনুপ্রেরণায় বড় ছেলে ও পুত্রবধূ আজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে কর্মরত। মেঝ ছেলে সেবা দিচ্ছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে। তাঁর কন্যারাও উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে সমাজে সুপ্রতিষ্ঠিত।আজ মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) জোহর নামাজের পর মরহুমের নিজ গ্রাম রানগরে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এরপর তাঁকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, সন্তান, নাতি-নাতনিসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।এলাকাবাসীর মতে, আজগর আলী কেবল একজন কবিই ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন নিরহংকারী ও সাদা মনের মানুষ। তাঁর সৃষ্টি ও আদর্শের মধ্য দিয়েই তিনি বাঘারপাড়ার মানুষের স্মৃতিতে চিরভাস্বর হয়ে থাকবেন।
১৫ ঘন্টা ৪০ মিনিট আগে
১৬ ঘন্টা ১৪ মিনিট আগে
১৬ ঘন্টা ৪৪ মিনিট আগে
১৭ ঘন্টা ২৭ মিনিট আগে
১৮ ঘন্টা ৫৪ মিনিট আগে
২১ ঘন্টা ২৫ মিনিট আগে
২২ ঘন্টা ৪২ মিনিট আগে