নাটোর ১ এ দ্বন্দ্বে বিএনপি!সুবিধায় জামায়াত!
আবু তালেব, লালপুর (নাটোর)প্রতিনিধি :
নাটোর ১( লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনে দ্বন্দ্বে লিপ্ত হয়েছে বিএনপির ৩ প্রার্থী। এর মধ্যে ধানের শীষ প্রার্থীর সাথে একাত্মতায় স্বতন্ত্র প্রার্থী রাজন। অপরদিকে বিএনপির সাবেক নেতাদের নিয়ে ধানের শীষ প্রতীক প্রার্থীর বিরোধিতায় স্বতন্ত্র প্রার্থী টিপু। এদের দ্বন্দ্বের মাঝে সুশৃঙ্খল ভাবে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন জামায়াত প্রার্থী।
স্থানীয়দের দাবী,বিএনপির ৩ প্রার্থীর দ্বন্দ্ব আর ভোট কাটাকাটির মাঝে সুবিধা যাবে জামাতের ঘরে।
তথ্যমতে,ওই আসনে ধানের শীষ প্রতীকে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল। তিনি দলের সিদ্ভান্তে অটল বিএনপি নেতা-কর্মীদের নিয়ে সভা,গণসংযোগ আর তারেক জিয়া ঘোষিত ৩১ দফার পাশাপাশি ফ্যামিলি কার্ড,নারীদের উন্নয়নপর নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে এলাকার উন্নয়নে কাজ করার অঙ্গীকার দিয়ে ছুটছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে।
অপরদিকে তার প্রধান বিরোধী,কেন্দ্রীয় বিএনপির সাবেক সহ দপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু এলাকার বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন নেতা-,কর্মী, জনপ্রতিবিধি আর পুতুল বিরুদ্ধ বিএনপি নেতাকর্মীদের নিয়ে ভোট চাইছেন নির্বাচনী এলাকায়।
স্থানীয়রা জানান,সম্প্রতি টিপুর অনুসারী বিএনপি নেতা রঞ্জিত টিপুর গণসংযোগ সভায় পুতুলের বিরুদ্ধে বক্তব্যে দাবী করেন,পুতুলের বসবাস মাদারীপুরে হওয়ায় তারা স্থানীয় নেতা টিপুকে বিজয়ী করতে চান। এক পর্যায়ে পুতুলের বিরুদ্ধে অশালীন বক্তব্য দিলেও পরে ওই বক্তব্যর জন্য টিপুকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন প্রশাসন। এরপর থেকেই পুতুলের পক্ষ্যে মাঠে নামেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ও পুতুলের ভাই ডাক্তার রাজন। এনিয়ে উভয়পক্ষের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যকে ঘিরে দ্বন্দ্ব চরমে। অথচ জামায়াত প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ ও তার অনুসারীরা কারো সাথে কোন দ্বন্দ্ব ছাড়াই ভোট সংগ্রহে ঘুরছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে।।
লালপুরের সোহেল রানা জানান,স্থানীয় বিএনপির একটি অংশ পুতুল আর রাজনের সাথে থাকলেও বড় অংশ টিপুর সাথে রয়েছেন। এক্ষেত্রে উভয়পক্ষে ভোট কাটাকাটির সুযোগে অপেক্ষাকৃত কম ভোট পেলেও এগিয়ে থাকবে জামায়াত।
এবিষয়ে পুতুলের দাবী,
বিএনপি ক্ষমতায় এলে আইনের শাসন ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা হবে। এই আসনে বিএনপির বড় অংশ ছাড়াও সাধারণ ভেটাররা ধানের শীষে ভোট দিয়ে বিজয়ী করবেন এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
অপরদিকে টিপুর দাবী,এলাকার সাধারণ মানুষ আর বিএনপির বড় অংশ তার সাথে রয়েছেন। তিনি বিজয়ী হয়ে এলাকার উন্নয়নে কাজ করবেন এমন দাবী করেন তিনি।।
জামায়াত প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ বলেন,লালপুর-বাগাতিপাড়ার মানুষ চাঁদাবাজ আর দুর্নীতিমুক্ত সমাজ চান। আগামী নির্বাচনে ভেটাররা ইনসাফের পক্ষ হয়ে দাঁড়িপাল্লাকে বিজয়ী করবেন এমন আশা প্রকাশ করেন তিনি।
স্থানীয় ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলাম জানান,টিপু-পুতুল দ্বন্দ্বে বিএনপি ভোটাররা দ্বিধাবিভক্ত। আওয়ামীলীগ ভেটাররাও বিভক্ত। এক্ষেত্রে জামায়তের ভোট কম থাকলেও তারা ভোট গণনায় এগিয়ে যেতে পারেন।