২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় ৩৫ মিলিমিটার বৃষ্টি, দুপুরের মধ্যে হালকা বর্ষণের পূর্বাভাস সরাসরি ২০২৭ বিশ্বকাপে খেলা নিশ্চিত বাংলাদেশের সংসদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতিমূলক সভা শুরু দেশে আরেক দফা আরও বাড়ল স্বর্ণের দাম কলম্বিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭৪ শতভাগ সাফল্যের ধারাবাহিকতায় আল ইসরার এগিয়ে চলা সীমান্তে মাদকের ছড়াছড়ি, প্রতিরোধে উদয়ন ক্লাবের সচেতনতামূলক র‍্যালি রাজবাড়ীতে ডিবির অভিযানে ২৫ পিস ইয়াবাসহ যুবক গ্রেপ্তার গোয়ালন্দে দুই স্কুলে এসএসসিতে পাস মাত্র একজন নোয়াখালীতে ৩ লাখ ২০ হাজার টাকার নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ সেনবাগ উপজেলায় পাসের হারে প্রথম ছিলোনিয়া ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় কুমিল্লা বোর্ডে পাসের হারে সর্বনিম্ন নোয়াখালী, জেলায় শীর্ষে সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ঘরে ঢুকে ঘুমন্ত ব্যক্তিকে জবাইয়ের চেষ্টা দিনাজপুরে সিআইডি পুলিশ সদস্যকে চড় , থানায় মামলা, জেলা কৃষকদলের সদস্য সচিব দল থেকে বহিষ্কার চিলাহাটিতে রেল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মানববন্ধন গোয়ালন্দে নৌযান শুমারি উপলক্ষে নৌ মহড়া দেওয়ানগঞ্জে এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় দুই প্রতিষ্ঠানের পাসের হার শূন্য লাখাইয়ে এসএসসি ও সমমানের দাখিল পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ। লাখাইয়ে যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার,এলাকায় চলছে নানা গুন্জন লালপুরে ইয়াবাসহ ৩ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ অধ্যাদেশ জারি

স্টাফ রিপোর্টার - প্রতিনিধি

প্রকাশের সময়: 29-01-2026 05:22:41 pm

কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ অধ্যাদেশ, ২০২৬ উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে চূড়ান্ত ও নীতিগত অনুমোদন প্রদান করেছে সরকার ।


এ অধ্যাদেশের মূল লক্ষ্য হলো—ধর্ম, বর্ণ, পেশা, লিঙ্গ, জেন্ডার পরিচয় বা জন্মস্থান নির্বিশেষে সকল মানুষের জন্য কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও বৈষম্যহীন পরিবেশ নিশ্চিত করা। অধ্যাদেশটি অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং এর পরিধি সমগ্র বাংলাদেশে বিস্তৃত হবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের বাইরে অবস্থিত সরকারের অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠানসমূহের ক্ষেত্রেও এটি প্রযোজ্য হবে। 


বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) এ অধ্যাদেশ জারি করে সরকার।


এ অধ্যাদেশে যৌন হয়রানির একটি বিস্তৃত সংজ্ঞা প্রদান করা হয়েছে, যেখানে শারীরিক, মৌখিক, অ-মৌখিক, ডিজিটাল ও অনলাইন আচরণসহ জেন্ডারভিত্তিক সকল অনাকাঙ্ক্ষিত ও অপমানজনক কার্যকলাপ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ই-মেইল, মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম ও অন্যান্য তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে সংঘটিত হয়রানিও এর আওতায় আনা হয়েছে। 


অধ্যাদেশটির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো অভ্যন্তরীণ অভিযোগ কমিটি (ICC) গঠন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সকল প্রযোজ্য কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এ কমিটি গঠন করতে হবে। কমিটি অভিযোগ গ্রহণ, তদন্ত, তদন্তকালীন সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং উপযুক্ত শাস্তির সুপারিশ করতে পারবে। শাস্তির মধ্যে রয়েছে তিরস্কার থেকে শুরু করে পদাবনতি, চাকরিচ্যুতি বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে বহিষ্কার করা পর্যন্ত।


অভিযোগকারীর নিরাপত্তা, গোপনীয়তা ও মর্যাদা রক্ষায় অধ্যাদেশটি সারভাইভার-কেন্দ্রিক পদ্ধতি গ্রহণ করেছে। অভিযোগের কারণে কোনো ধরনের প্রতিশোধমূলক আচরণ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের বিধান রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে মিথ্যা অভিযোগের ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সুনির্দিষ্ট সুরক্ষাব্যবস্থাও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যাতে প্রকৃত ভুক্তভোগীরা নিরুৎসাহিত না হন।


অসংগঠিত খাতে, যেখানে অভ্যন্তরীণ অভিযোগ কমিটি গঠন সম্ভব নয়, সেখানে স্থানীয় অভিযোগ কমিটি গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে এ কমিটি গঠিত হবে, যাতে সকল নাগরিক অভিযোগ জানানোর কার্যকর সুযোগ পান।


অধ্যাদেশ বাস্তবায়ন ও তদারকির জন্য জাতীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে মনিটরিং কমিটি গঠনের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভুক্তভোগীদের আর্থিক সহায়তা, পুনর্বাসন, কাউন্সেলিং, আইনি সহায়তা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি বিশেষ তহবিল গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।


সরকার বিশ্বাস করে, এ অধ্যাদেশ কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা, ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে একটি শক্তিশালী আইনি ভিত্তি প্রদান করবে এবং একটি সম্মানজনক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবিক সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আরও খবর