শিশুবান্ধব বিচার ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ এবং আইনি জটিলতা কমিয়ে বিচারিক কার্যক্রমে গতি আনতে যশোরে যাত্রা শুরু করল পৃথক 'শিশু আদালত'। শুক্রবার সকালে যশোর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবনের ৫ম তলায় ফিতা কেটে এই বিশেষায়িত আদালতের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এস এম এরশাদুল আলম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই আদালতের উদ্বোধন করেন। শিশুদের জন্য বিশেষায়িত এই আদালতটি স্থাপনে কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছে ইউনিসেফ (UNICEF) এবং আইন ও বিচার বিভাগের এসআরসি (SRC) প্রকল্প।আদালত উদ্বোধনের আগে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সেমিনার কক্ষে ‘শিশু আইন-২০১৩’ শীর্ষক এক নিবিড় প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। ৩০ জন প্যানেল আইনজীবীর অংশগ্রহণে এই কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন ভারপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ এস এম মোর্শেদ।
কর্মশালায় বিচারিক কার্যক্রমের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক নিয়ে আলোচনা করেন বিশেজ্ঞরা: অতিরিক্ত সচিব এস এম এরশাদুল আলম সাধারণ ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থার সাথে শিশু আইনের মৌলিক পার্থক্যগুলো তুলে ধরেন এবং পুলিশি কার্যক্রমে আইনি দিকনির্দেশনা দেন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২-এর বিচারক মাইনুল হক পারিবারিক সুরক্ষা এবং শাস্তির পরিবর্তে 'প্রবেশন' বা সংশোধনের মাধ্যমে বিরোধ মীমাংসার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক ড. আতোয়ার রহমান সুবিধাবঞ্চিত ও আইনের সংস্পর্শে আসা শিশুদের আইনি অধিকার ও বিকল্প পরিচর্যা নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোকপাত করেন।"শিশুরা অপরাধী নয়, পরিস্থিতির শিকার। তাদের জন্য সাধারণ আদালতের বদলে এমন একটি পরিবেশ প্রয়োজন যেখানে তারা ভয়মুক্ত থেকে ন্যায়বিচার পেতে পারে।"যশোরে এই পৃথক আদালত স্থাপনের ফলে শিশুদের মামলার দীর্ঘসূত্রতা যেমন কমবে, তেমনি আইনি প্রক্রিয়ায় শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত হবে। এটি কেবল একটি আদালত নয়, বরং শিশুদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার একটি মাধ্যম হিসেবে কাজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
৩ ঘন্টা ২১ মিনিট আগে
৪ ঘন্টা ২৩ মিনিট আগে
৭ ঘন্টা ১১ মিনিট আগে
৮ ঘন্টা ৬ মিনিট আগে
৯ ঘন্টা ০ মিনিট আগে