বাংলাদেশের নিত্যপ্রয়োজনীয় মসলাজাতীয় ফসলের মধ্যে পেঁয়াজ অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ। দেশের প্রায় প্রতিটি রান্নায় অপরিহার্য এই পণ্যটি শুধু খাদ্যসংস্কৃতির অংশই নয়, কৃষকের অর্থনীতিরও একটি বড় ভরসা। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মতো মাদারীপুরের শিবচর উপজেলাতেও পেঁয়াজ চাষ বহু কৃষকের জীবিকা ও আয়ের অন্যতম উৎস। কিন্তু চলতি মৌসুমে বাজারে পেঁয়াজের দাম আশানুরূপ না থাকায় শিবচরের কৃষকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে চরম হতাশা। উৎপাদন খরচের তুলনায় বাজারমূল্য অনেক কম হওয়ায় বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছেন চাষিরা।
কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মৌসুমের শুরুতে তারা প্রতি মণ গুটি পেঁয়াজ কিনেছেন প্রায় ৪ হাজার টাকা দামে। এরপর জমি প্রস্তুত, হালচাষ, সার ও কীটনাশক প্রয়োগ, সেচ এবং শ্রমিকের খরচ মিলিয়ে উৎপাদন ব্যয় আরও বেড়েছে। কিন্তু এত ব্যয় ও পরিশ্রমের পর বর্তমানে বাজারে প্রতি মণ পেঁয়াজ বিক্রি করতে হচ্ছে মাত্র ৫০০ টাকায়। এতে উৎপাদন খরচ তো দূরের কথা, মূলধনের সামান্য অংশও তুলতে পারছেন না অনেক কৃষক।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, রমজানের আগে বাজারে পেঁয়াজের দাম কিছুটা বাড়লেও তখন শিবচরের অধিকাংশ ক্ষেতের পেঁয়াজ এখনও উত্তোলনের উপযোগী হয়ে ওঠেনি। কিন্তু যখন ফসল তোলার সময় এসেছে, তখনই বাজারে দাম হঠাৎ কমে গেছে। ফলে কৃষকদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে।
কৃষকেরা জানান, সামনে ঈদ হলেও এবছর পেঁয়াজের এই দামে সংসার চালানোই কঠিন হয়ে পড়েছে। একাধিক কৃষক বলেন, “ঈদের সময় সন্তানদের নতুন জামা কিনে দেওয়া তো দূরের কথা, খেয়ে-পরে বেঁচে থাকাই এখন বড় চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।”
শিবচরের অধিকাংশ জমি দ্বিফসলি হওয়ায় পেঁয়াজ তোলার পর একই জমিতে পাট আবাদ করা হয়। কৃষকদের আশা, পাটের দাম ভালো থাকলে পেঁয়াজের ক্ষতির কিছুটা হলেও পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে। অন্যথায় সারা বছর সংসার চালানোই কঠিন হয়ে পড়বে।
স্থানীয় কৃষকেরা আরও জানান, পেঁয়াজ চাষ শুধু একটি মৌসুমি ফসল নয়, বরং তাদের সারা বছরের সংসার চালানোর অন্যতম ভরসা। কিন্তু বাজারে দাম কমে যাওয়ায় অনেক কৃষকই ঋণের চাপের মুখে পড়েছেন।
কৃষকদের দাবি, বাজারে পেঁয়াজের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে বাজার ব্যবস্থাপনা উন্নত করা এবং সংরক্ষণ সুবিধা বাড়ানো গেলে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য পেতে পারেন বলে মনে করছেন তারা।
এ বিষয়ে শিবচর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন, গত বছর পেঁয়াজের চাহিদা বেশি থাকায় এ বছর অনেক বেশি জমিতে পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে। ফলে বাজারে সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় দাম কমে গেছে। তিনি পেঁয়াজ চাষিদের বীজ উৎপাদনের দিকে ঝোঁকার পরামর্শ দেন, কারণ বীজের বাজারমূল্য তুলনামূলক ভালো।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, পেঁয়াজের ন্যায্যমূল্য না পেলে আগামী মৌসুমে অনেক কৃষকই এই ফসলের আবাদ কমিয়ে দিতে পারেন। এতে একদিকে কৃষকের ক্ষতি বাড়বে, অন্যদিকে দেশের কৃষি উৎপাদনেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
১ ঘন্টা ১০ মিনিট আগে
১ ঘন্টা ৩২ মিনিট আগে
১ ঘন্টা ৩৮ মিনিট আগে
১ ঘন্টা ৪৮ মিনিট আগে
২ ঘন্টা ২৬ মিনিট আগে