যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার ধূপখালি গ্রামের কৃতি সন্তান, রণাঙ্গনের অকুতোভয় সৈনিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা এস এম বাবর আলী আর নেই। গত ১৫ মার্চ রবিবার রাত ১০টায় রাজধানীর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরো সায়েন্সেস ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বীর মুক্তিযোদ্ধা এস এম বাবর আলী বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতা ছাড়াও নিউরো সংক্রান্ত গুরুতর সমস্যায় ভুগছিলেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে রাজধানীর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরো সায়েন্সেস ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে গত প্রায় এক মাস ধরে তিনি চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে (ICU) ছিলেন। দেশের বিশিষ্ট চিকিৎসকদের প্রাণপণ চেষ্টা ও পরিবারের সদস্যদের নিরন্তর প্রার্থনার মাঝেও তিনি ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়েন। অবশেষে দীর্ঘ ৩০ দিনের জীবন-মৃত্যুর কঠিন লড়াই শেষে গত রবিবার রাতে চিরবিদায় নেন এই বীর সেনানী।
আজ সোমবার সকালে ঢাকা থেকে বীর মুক্তিযোদ্ধা এস এম বাবর আলীর মরদেহ তাঁর নিজ গ্রাম বাঘারপাড়ার ধূপখালিতে পৌঁছালে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। প্রিয় এই মুক্তিযোদ্ধাকে শেষবারের মতো দেখতে তাঁর বাসভবনে ভিড় জমান স্বজন, সহযোদ্ধা ও শত শত গ্রামবাসী। তাঁর মৃত্যুতে পুরো বাঘারপাড়া উপজেলায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শোকসন্তপ্ত পরিবারকে সান্ত্বনা দিতে ছুটে আসেন স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
দাফনের পূর্বে বাঘারপাড়া উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মরহুমকে যথাযথ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা প্রদান করা হয়। উপজেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস দল সশস্ত্র সালামের মাধ্যমে তাঁকে 'গার্ড অফ অনার' প্রদান করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাঘারপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ভূপালি সরকার। তিনি মরহুমের কফিনে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
ইউএনও ভূপালি সরকার তাঁর বক্তব্যে বলেন, "বীর মুক্তিযোদ্ধা এস এম বাবর আলী ছিলেন জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। ১৯৭১ সালে তাঁর মতো বীরদের ত্যাগের বিনিময়েই আমরা আজ স্বাধীন বাংলাদেশে নিশ্বাস নিচ্ছি। তাঁর চলে যাওয়া বাঘারপাড়াবাসীর জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। রাষ্ট্র তাঁকে যথাযথ সম্মানের সাথে স্মরণ রাখবে।"
এদিন ধূপখালি গ্রামে আয়োজিত মরহুমের জানাজার নামাজে বাঘারপাড়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক, সাংবাদিক এবং সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন। জানাজা শেষে উপস্থিত সকলে তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করেন। এরপর পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়।
মরহুম এস এম বাবর আলী ব্যক্তিগত জীবনে অত্যন্ত অমায়িক ও দেশপ্রেমিক মানুষ ছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, সন্তান, অসংখ্য গুণগ্রাহী ও আত্মীয়-স্বজন রেখে গেছেন। ১৯৭১ সালে দেশমাতৃকার টানে জীবন বাজি রেখে অস্ত্র হাতে তুলে নেওয়া এই বীর যোদ্ধা আজ চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন আপন মাটির কোলে।
১ ঘন্টা ১০ মিনিট আগে
১ ঘন্টা ৩২ মিনিট আগে
১ ঘন্টা ৩৮ মিনিট আগে
১ ঘন্টা ৪৮ মিনিট আগে
২ ঘন্টা ২৬ মিনিট আগে