শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি রোধে ৫ সদস্যের কমিটি গঠনের নির্দেশ পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পে বদলে যাবে ২৪ জেলার দৃশ্যপট, কৃষি ও কর্মসংস্থানে নতুন সম্ভাবনা হাইতিকে হারিয়ে টেবিলের শীর্ষে ব্রাজিল জাতিসংঘে বাংলাদেশ: রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে দ্রুত প্রত্যাবাসনে জোর রোটার‍্যাক্ট ক্লাব অব রাজশাহী ইউনিভার্সিটির নেতৃত্বে ওয়াসিফ-তামিম ‎সুন্দরবনের তলদেশে সুপেয় পানির বিশাল ভাণ্ডার: উপকূলীয় সংকটে নতুন আশার সঞ্চার জাতি গঠনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ হলো শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে বিনিয়োগ : প্রধানমন্ত্রী গোয়ালন্দে অভিযানে নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল ও ৫৮টি চায়না দুয়ারী জব্দ, জেলে আটক রাজবাড়ীতে ৭ বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার মামলায় বৃদ্ধ গ্রেপ্তার দৌলতদিয়ায় বাংলাদেশ নৌ-পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের অফিস উদ্বোধন, আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল নাসিরনগরে প্রান্তিক পেশাজীবীদের মাঝে অনুদান বিতরণ দেশের ৫ বিভাগে ৬ মাসের মধ্যে চালু হচ্ছে বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল নাগেশ্বরীতে বৃদ্ধাকে টিনেরঘড় নির্মাণ করে দিল মানবতার ডাক সামাজিক ফাউন্ডেশন রায়পুরে তিন দিনব্যাপী জাতীয় ফল মেলা ২০২৬ শুরু বেসামরিক জনগণের সুরক্ষা ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জোরালো বৈশ্বিক পদক্ষেপের আহ্বান: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে সতর্ক অবস্থানে ডিএমপি বিশ্ববাজারে তেলের দাম আরও কমলো চৌদ্দগ্রাম চট্টগ্রাম মহাসড়কে দুটি যাত্রীবাহী বাসের সংঘর্ষে সুপারভাইজার নিহত সোনাইমুড়িতে ইয়াবা সহ আটক ২ গোয়ালন্দে মিলের বাউন্ডারি করতে অসহায় ৪টি পরিবারের বসতবাড়ি উচ্ছেদের চেষ্টা

বানিয়াচংয়ে বিদ্যুতের লুকোচুরিতে কদর বাড়ছে হাতে তৈরী পাখার

বৈশাখের তপ্ত রোদ আর ভ্যাপসা গরমে জনজীবন ওষ্ঠাগত। এর ওপর পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বিদ্যুত বিভ্রাট। যান্ত্রিক পাখার বাতাস যখন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, ঠিক তখনই সাধারণ মানুষের পরম বন্ধু হয়ে দাঁড়িয়েছে গ্র্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী হাতের তৈরি পাখা। বানিয়াচং উপজেলার হাট-বাজারগুলোতে এখন বাঁশের তৈরী, বেতের তৈরী, সুতোর পাখা আর কাপড়ের পাখার চাহিদা তুঙ্গে। দীর্ঘ বিরতির পর আবারও ঘরে ঘরে ফিরছে এই গ্রামীণ ঐতিহ্য। বিদু্যুত না থাকাকালীন সময়ে সাধারণ মানুষের একমাত্র ভরসা এখন হাতের পাখা। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের প্রশান্তি দিতে এই পাখার বিকল্প নেই। এক সময় হাতপাখা ছিল বাঙালির আভিজাত্য ও ঐতিহ্যের অংশ। আধুনিকতার ছোঁয়ায় তা হারিয়ে যেতে বসেছিল। কিন্তু বর্তমান জলবায়ু পরিবর্তন ও জ্বালানি সংকট ও বিদু্যুতের এই লোডশেডিংয়ের সময়ে হাতপাখা আবারও তার প্রয়োজনীয়তা প্রমাণ করছে। পরিবেশবান্ধব এই পাখা কেবল শরীরই জুড়ায় না, এটি গ্রাম বাংলার লোকশিল্পকেও বাঁচিয়ে রেখেছে। উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজার ঘুরে দেখা যায়, তালপাখা, নকশি পাখা, বাশের পাখা, বেতের পাখা, এবং কাপড়ের তৈরি বাহারি পাখার পসরা সাজিয়ে বসেছেন বিক্রেতারা। ক্রেতাদের ভিড় সামলাতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন তাঁরা। আজাদ নামের এক ক্রেতা বলেন, “বিদু্যুত কখন আসে আর কখন যায় তার ঠিক নেই। আইপিএস কেনার সাধ্য নাই, তাই দুইটা পাখা কিনলাম। অন্তত রাইতে শান্তিতে একটু ঘুমানো যাবে।” দীর্ঘ সময় পর এই ব্যবসায় প্র্রাণ ফিরে আসায় খুশি বিক্রেতারাও। বানিয়াচং উপজেলার কাগাপাশা বাজারের দীর্ঘদিনের পাখা বিক্রেতা নুরুল ইসলাম জানান, কারেন্টের পাখার লাইগা হাতপাখা কেউ জিগাইতও না। কিন্তু এইবার যে গরম পড়ছে আর ঘন ঘন কারেন্ট যাইতাছে, মানুষ দলে দলে পাখা কিনতে আইতাছে। আগে সারাদিনে ১০টা পাখা বেচা কষ্ট আছিল, এখন ৫০-৬০টা পাখা বেচতাছি। মাল আনলে রাইখা পারতাছি না, সবই কাইড়া নিয়া যায়। তালগাছের পাতা সংগ্রহ করা, রোদে শুকানো, তারপর নিপুণ হাতে রং দিয়ে নকশা করা সব মিলিয়ে দম ফেলার সময় নেই কারিগরদের। একজন প্রবীণ কারিগর কানুু দাস জানান, এইবার পাইকারি দরে অনেক পাখা বিক্রি করছি, কারিগররা দিনরাত কাজ করতাছে। তিনি আরো জানান, চাহিদা বাড়ার কারণে গত বছরের তুলনায় পাখার দাম কিছুটা বেড়েছে। আকার ও নকশা ভেদে প্রতিটি তালপাখা ৪০ থেকে ৫০ টাকা এবং সুতোর নকশা করা পাখা ১৩০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কেবল গ্রাম নয়, শহর থেকেও পাইকাররা এসে পাখা নিয়ে যাচ্ছেন। ব্যবসয়ী আকরাম হক জানান, লোডশেডিং আর প্রচন্ড তাপপ্রবাহের হাত থেকে বাঁচতে সাময়িকভাবে হাতের পাখা স্বস্তি দিচ্ছে সত্য, তবে জনজীবনের স্বাভাবিক গতি ফেরাতে নিরবচ্ছিন্ন বিদু্যুতের বিকল্প নেই। একই সাথে আমাদের দেশীয় এই হস্তশিল্পকে টিকিয়ে রাখতে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন বলে মনে করি।
Tag
আরও খবর