ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ: রাষ্ট্রপতি রাজনীতি-আমলাতান্ত্রিক দুষ্টচক্রের হাতে রাষ্ট্রসংস্কার জিম্মি: টিআইবি ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার: দুর্গাপূজার শুভেচ্ছাবার্তায় প্রধানমন্ত্রী আল-আমিন হোসেনের লেখা কবিতা "মেঘকন্যা" নাগেশ্বরীতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় শুভেচ্ছা জানালেন বিএনপি নেতা সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী আজিজুল হক অভয়নগরে পুড়াখালী তা'লিমুল কুরআন মাদ্রাসায় কুরআনের পাখিদের সবক অনুষ্ঠিত সাংবাদিক আলিফ ফকির হত্যার প্রতিবাদে চন্দনাইশে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ গলাচিপায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে দৈনিক কালবেলার ৪র্থ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন লাখাইয়ে ২০ লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত রোমান মিয়া গ্রেফতার। মোটরসাইকেলের সামনেও বসাতে হবে নম্বরপ্লেট, সময়সীমা ১৫ নভেম্বর সর্বদা পাশে থেকে সহোযোগিতার আশ্বাস এমপি সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলমের শ্যামনগরে উপজেলা অভিযোজন পরিকল্পনা কর্মশালা অনুষ্ঠিত। লোহাগাড়ায় ব্যবসায়ী অপহরণ, স্বামীকে ফেরত চান স্ত্রী দেবহাটায় শামীম হত্যা মামলায় দুই আসামি আটক শেরপুরে তথ্য অধিকার ও সেবাপ্রাপ্তি বিষয়ক অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত মা ইলিশ রক্ষায় পদ্মায় রাতভর যৌথ অভিযান, ১ লাখ ১০ হাজার মিটার নিষিদ্ধ জাল জব্দ এ আর গ্রুপের উদ্যোগে ১২ কিলোমিটার মর্নিং রান অনুষ্ঠিত কুলিয়ারচরে মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় সৎ ভাসুর ও ভাতিজাকে ফাঁসাতে মিথ্যা অভিযোগ দাখিল মহাসপ্তমী: শক্তি, প্রকৃতি ও মানবতার আরাধনা--সচ্চিদানন্দ দে সদয় সারিয়াকান্দিতে পূজামণ্ডপ ও অসচ্ছল মন্দিরে জেলা পরিষদের অনুদান প্রদান

খেলাপি বৃদ্ধির শীর্ষে আছে যে ২০ ব্যাংক

দেশচিত্র নিউজ ডেস্ক

প্রকাশের সময়: 17-08-2022 01:51:04 am

সংগৃহীত ছবি

◾ নিউজ ডেস্ক


মাত্র ছয় মাসের ব্যবধানে ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণ বেড়েছে ২১ হাজার ৯৮৪ কোটি টাকা। কিছু কিছু ব্যাংকের খেলাপি কমলেও বেড়েছে বেশিরভাগের। তাদের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে ২০টি ব্যাংক। খেলাপি বৃদ্ধি পাওয়া ব্যাংকগুলোর মধ্যে পাঁচটি রাষ্ট্রায়ত্ত ও বাকি ১৫টি বেসরকারি খাতের। ব্যাংকিং খাতে মোট খেলাপি ঋণের প্রায় ৭৫ শতাংশই আছে এই ২০টি ব্যাংকে। বাকি ৪১টি ব্যাংকে রয়েছে মাত্র ২৫ শতাংশ। 


গত ৩০ জুন পর্যন্ত ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ ছিল এক লাখ ২৫ হাজার ২৫৮ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৮ দশমিক ৯৬ শতাংশ। এর মধ্যে খেলাপি ঋণের শীর্ষে থাকা ২০টি ব্যাংকের দায় ৯৩ হাজার ৫০১ কোটি টাকা। যা মোট খেলাপি ঋণের তিন চতুর্থাংশ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।


শীর্ষে থাকা ২০টি ব্যাংকের মধ্যে সবচেয়ে বেশি খেলাপি বেড়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকে। ছয় মাসে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি পেয়েছে পাঁচ হাজার ১২৬ কোটি টাকা। ছয় মাস আগে গত ডিসেম্বর শেষে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ১২ হাজার ১৩৭ কোটি টাকা। ঠিক ছয় মাস পর চলতি বছরের জুনে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭ হাজার ২৬৩ কোটি টাকায়।


বৃদ্ধির দিক থেকে এরপরের অবস্থানে রয়েছে বেসরকারি খাতের ন্যাশনাল ব্যাংক। কারণ আলোচ্য ছয় মাসে তিন হাজার ৪৩৮ কোটি টাকা ঋণ খেলাপি বৃদ্ধি পেয়েছে ন্যাশনাল ব্যাংকের। গত বছরের ডিসেম্বরে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ ছিল পাঁচ হাজার ৯৫৬ কোটি। তবে ছয় মাসের ব্যবধানে এই অঙ্ক বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ৩৯৪ কোটি টাকার ঘরে।


খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ব্যাংক। এই ছয় মাসে দুই হাজার ৮০২ কোটি টাকার ঋণ খেলাপি বেড়ে ১০ হাজার ৫৫৮ কোটি টাকায় পৌঁছেছে ব্যাংকটি। রাষ্ট্রায়ত্ত রূপালী ব্যাংকের এক হাজার ১৯২ কোটি টাকার ঋণ খেলাপি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ছয় হাজার ৪৬৬ কোটি টাকা, রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংকের ৮৯৩ কোটি বেড়ে ১২ হাজার ১২৬ কোটি টাকা, ওয়ান ব্যাংকের ৮৮৩ কোটি টাকা বেড়ে দুই হাজার ৭৯৩ কোটি, ইসলামী ব্যাংকের ৫৭২ কোটি টাকা বেড়ে চার হাজার ৫১১ কোটি, আইএফআইসি ব্যাংকের ৫১৪ কোটি টাকা বেড়ে দুই হাজার ৩২৭ কোটি, পূবালী ব্যাংকের ৪৭৯ কোটি টাকা বেড়ে এক হাজার ৫৭২ কোটি এবং বেসিক ব্যাংকের ৪০০ কোটি টাকা বেড়ে জুন শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ২৪৯ কোটি টাকা।


এ ছাড়া ছয় মাসে খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির শীর্ষ ২০ এর তালিকায় থাকা ব্যাংগুলোর মধ্যে রয়েছে, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক। ছয় মাসে ৩৯৭ কোটি টাকা ঋণ খেলাপি বৃদ্ধি পেয়েছে ব্যাংকটির। এনআরবিসি ব্যাংকের বেড়েছে ৩৪৬ কোটি, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের ৩৩১ কোটি, এবি ব্যাংকের ৩১৫ কোটি, উত্তরা ব্যাংকের ২৯২ কোটি, পদ্মা ব্যাংকের ২৮৫ কোটি, ঢাকা ব্যাংকের ২৭৯ কোটি, এনসিসি ব্যাংকের ২৭৭ কোটি, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের ২৬৩ কোটি এবং ট্রাস্ট ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি পেয়েছে ২৪৪ কোটি টাকা।


বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন বলছে, চলতি ২০২২ সালের জুন প্রান্তিক শেষে ব্যাংকিং খাতের মোট বিতরণকৃত ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৩ লাখ ৯৮ হাজার ৫৯২ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ঋণ ১ লাখ ২৫ হাজার ২৫৭ কোটি টাকা। যা মোট বিতরণ করা ঋণের ৮.৯৬ শতাংশ। তিন মাস আগে মার্চ শেষে খেলাপি ছিল ১ লাখ ১৩ হাজার ৪৪০ কোটি টাকা। সে হিসাবে ৩ মাসে খেলাপি বেড়েছে ১১ হাজার ৮১৭ কোটি টাকা। আর ২০২১ সালের জুন প্রান্তিক শেষে খেলাপি ছিল ৯৯ হাজার ২০৫ কোটি টাকা। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে খেলাপি বেড়েছে ২৬ হাজার ৫২ কোটি টাকা। যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ খেলাপি ঋণ।


এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, 'সঠিক সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক যদি সঠিক সিদ্ধান্ত না নেয় তাহলে খেলাপি বাড়বেই। এখন যেসব নীতিমালা প্রণয়ন করা হচ্ছে এর ফলে ব্যাংকের ভাল গ্রাহকরা নিরুৎসাহিত হয়। কারণ ঋণটি খেলাপি হলেই মিলবে নতুন নতুন সুযোগ। এ সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশ ব্যাংককে আরও কঠোর ভূমিকা পালন করতে হবে। আইনের প্রয়োগ এখন সময়ের দাবি। ব্যাংকিং খাতে সুশাসন ফেরাতে না পারলে আর্থিক পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।

আরও খবর