প্রকাশের সময়: 23-07-2026 09:45:46 pm
যত্রতত্র রাজনৈতিক বিবেচনায় ‘দোকান খোলার মতো’ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা না করে, বিদ্যমান বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে পূর্ণাঙ্গ আবাসিক ও গবেষণাধর্মী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক কমিটির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় কমিটির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। তিনি বলেছেন, পর্যাপ্ত বাজেট এবং অবকাঠামো না থাকলে একটি বিশ্ববিদ্যালয় আর কিন্ডারগার্টেন বা হাইস্কুলের মধ্যে কোনো পার্থক্য থাকে না।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেলে জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবিপ্রবি) জামতলা চত্বরে ‘দেশ গড়তে জুলাই জাগরণের পদযাত্রায়’ শীর্ষক এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জাবিপ্রবি শাখা জাতীয় ছাত্রশক্তি এই সমাবেশের আয়োজন করে।
বক্তব্যে তিনি বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ বাণিজ্য, ক্যাম্পাসের অবকাঠামোগত সংকট এবং সমসাময়িক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেন।
ময়মনসিংহ বিভাগের একমাত্র বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় হওয়া সত্ত্বেও জাবিপ্রবির আবাসন ও অবকাঠামোগত সংকটের কথা তুলে ধরেন সারজিস আলম। তিনি বলেন, "প্রায় ১৭০০ শিক্ষার্থীর জন্য মাত্র দুটি হল, যেখানে সব মিলিয়ে ৩৫০ জনেরও থাকার ব্যবস্থা নেই। বাকিদের মেসে থাকতে হয়। যে ক্যাম্পাস বিকেল ৫টার পর ধূ ধূ মরুভূমিতে পরিণত হয়, সেটি কোনোদিন বিশ্ববিদ্যালয় হতে পারে না।"
বর্তমান সরকার ও শিক্ষামন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, "নতুন করে জেলায় জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় বানানোর এক অসুস্থ প্রতিযোগিতা দেখছি আমরা। ১০০টি বিশ্ববিদ্যালয় বানালাম, অথচ পৃথিবীর সেরা ১০০-এর তালিকায় একটিও নেই—এমন বিশ্ববিদ্যালয় দিয়ে কী হবে? বছরে ৫০ কোটি টাকা বাজেট দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়কে সর্বোচ্চ কিন্ডারগার্টেন বা কলেজের পর্যায়ে রাখা যায়। কলেজ বানানোর পরিকল্পনা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম দেওয়াটা হাজার হাজার শিক্ষার্থীর সাথে স্রেফ প্রতারণা।"
নতুন বাংলাদেশ গড়তে রাজনৈতিক দলগুলোর জবাবদিহির ওপর জোর দেন সারজিস আলম। তিনি বলেন, "বিএনপি ক্ষমতায় আছে বলে তাদের বা ছাত্রদলের যৌক্তিক সমালোচনা করা যাবে না, এমন মনস্তত্ত্ব থাকলে বাংলাদেশ ঠিক হবে না। ভালোকে ভালো এবং খারাপকে খারাপ বলার স্পর্ধা থাকতে হবে, তা নিজের দলের হলেও। নাহলে অন্য নামে, অন্য ফরম্যাটে আবারও স্বৈরাচার তৈরি হবে। কেউ লিমিট ক্রস করতে চাইলে, দেশের মেধাবী তরুণ প্রজন্মকে তার লাগাম টেনে ধরতে হবে।"
শুধু একাডেমিক পড়ালেখার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে ক্যাম্পাসকেন্দ্রিক সুস্থ আড্ডা, রাজনীতি ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে তর্ক-বিতর্কের মুক্ত সংস্কৃতি গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন সারজিস।
সমাবেশে জাবিপ্রবি শাখা জাতীয় ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক লিটন আকন্দের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনসিপি’র যুগ্ম সদস্যসচিব লুৎফর রহমান, জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদ আহসান, এনসিপি’র কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য কমিটির সদস্য নাহিদা বুসরা। এতে সঞ্চালনায় করেন জাবিপ্রবি শাখা জাতীয় ছাত্রশক্তির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক তারিফুল ইসলাম শরীফের।
অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন জাবিপ্রবি শাখা ছাত্রশক্তির সদস্যসচিব মামুনুর রশীদ, মুখ্য সংগঠক মনির আহমেদ, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রিয়াদ হাসান এবং যুগ্ম সদস্যসচিব (দপ্তর) সজীব ইসলামসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থী ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
২ ঘন্টা ৩৩ মিনিট আগে
২ ঘন্টা ৩৪ মিনিট আগে
৩ ঘন্টা ১৩ মিনিট আগে
৩ ঘন্টা ৩৯ মিনিট আগে
৪ ঘন্টা ৩৬ মিনিট আগে
৫ ঘন্টা ৪২ মিনিট আগে