জামালপুরের বকশীগঞ্জ থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসলাম হোসেনের বিরুদ্ধে থানায় ডেকে নিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় রিমান্ডে এনে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া এজাহারভুক্ত আসামি ছাত্রলীগ নেতাকে আটকের পর ছেড়ে দেওয়াসহ পুলিশী নির্যাতনে ফুঁসে উঠছে ভুক্তভোগীরা। এনিয়ে মতিন রহমান নামে এক ভুক্তভোগী ফেসবুকে পোষ্ট করেছেন। এতে অনেকেই কমেন্টে ওসির নির্যাতনের কথা তোলে ধরেছেন।
শনিবার (২৪ জুলাই) রাত ১০টার দিকে মতিন রহমান নিজ ফেসবুক আইডি থেকে 'সাংবাদিক রাব্বানী নাদিমের স্মৃতি ও কিছু বিবেকহীন সহকর্মী...' শিরোনামে ওই পোষ্ট করেন। মুহূর্তের মধ্যে সেটা নেট দুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। পোষ্টদাতা মতিন রহমান স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মী। তবে ওসি আসলাম হোসেন তাঁর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাঁর দাবি, যা করার তা তো মামলার তদন্ত কর্মকর্তা করেছে।
মতিন রহমানের ফেসবুক পোষ্টটি হুবহু তোলে ধরা হলো-
খুব ভালো মনের মানুষ ছিলেন ওসি আসলাম এই কথাটি হয়তো একশ্রেণির সুবিধাভোগীদের জন্য প্রযোজ্য হতে পারে। কিন্তু বকশীগঞ্জের সাধারণ মানুষ এবং ভুক্তভোগীদের হৃদয়ে আসল রূপ ভিন্নভাবে অঙ্কিত আছে। সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু হাসান সিদ্দিকী সম্পর্কে ইতিবাচক কথা বলা গেলেও, তৎকালীন ওসি আসলাম হোসেনের দুর্নীতি, ঘুষ বাণিজ্য এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের কথা এ অঞ্চলের মানুষ কখনো ভুলবে না।
সাংবাদিক গোলাম রাব্বানী নাদিম, বিএনপি নেতা আবদুল্লাহ আল সাফী লিপন এবং খোদ আমার নিজের অপরাধ কী ছিলো? আমাদের একমাত্র 'অপরাধ' ছিল জনস্বার্থে বিদ্যুৎ ও নানা অনিয়ম নিয়ে কলম ধরা। এই সত্য প্রকাশের অপরাধেই আমাদের থানায় ডেকে নিয়ে সন্ত্রাস দমন আইনে মিথ্যা মামলা দিয়ে কোর্টে চালান করা হয়েছিল এবং তিন দিনের রিমান্ডে অকথ্য নির্যাতন চালানো হয়েছিল। দীর্ঘ এক মাস জেল খেটে জামিনে মুক্ত হয়ে আজও মিথ্যা মামলার বোঝা মাথায় নিয়ে কোর্টে হাজিরা দিয়ে যাচ্ছি!
আমাদের সহকর্মী সাংবাদিক নাদিমকে কয়েক দফায় রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিল। তাঁর ওপর চলা সেই অকথ্য নির্যাতনের শিকার হয়ে সে জেলখানার হাসপাতাল বেড থেকে দুই মাস উঠে দাঁড়াতে পারেনি। সাংবাদিক নাদিম বকশীগঞ্জের মাটি ছেড়ে চিরতরে চলে গিয়ে সব যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেয়েছে। কিন্তু যারা ক্ষমতার অপব্যবহার করে মানুষের জীবন দুর্বিষহ করে তুলেছিল এবং আলোচিত গৃহবধূ তাসলিমা হত্যা মামলা পর্যন্ত ধামাচাপা দিয়েছিল, তাদের বিচারহীনতার ইতিহাস মানুষ ক্ষমা করবে না। সত্য কখনো চাপা থাকে না, দেরিতে হলেও সত্যের জয় হবেই।
কষ্ট লাগে যখন দেখি, নিজেদের সাংবাদিক সহকর্মী সমস্ত বিবেক বিসর্জন দিয়ে দিবালোকের মতো স্পষ্ট এসব জুলুমবাজদের পক্ষে সাফাই গাইছেন এবং নির্লজ্জের মতো তৈলমর্দন করছেন।
বকশীগঞ্জ পৌর বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম ভাটি কমেন্টে লিখেছেন, 'আমারে দুই বার হাজতে নিছে শুধুমাত্র বাবুল চিশতী পাশে থাকার কারনে জেলে দিতে পারে নাই।'
হোসেন সোয়েব নামে একজন লিখেছেন, 'নাদিম হত্যার আগে-পরে ওসি আসলামের সাথে বাবু চেয়ারম্যানের একাধিকবার কথা হয়েছে।'
মোয়াজ্জেম হোসেন হিলারী নামে একজন লিখেছেন, 'ওসিসাহেব ভাল মানুষ খালি বিএনপি'র লোকদের মামলা এবং নানাভাবে হয়রানি করেছে। এখন মনে হয় বিএনপির খাস-কর্মী সেজে বসে আছে। কোথায় আছেন সেই ওসি সাহেব। আর অনেকের অভিযোগ ভাঙ্গাচোরা ঘর উত্তোলন করে প্রকল্পের টাকা আওয়ামীলীগের সাথে মিলেমিশে হাতিয়ে নিয়ে মোটাতাজা হয়েছেন তখনকার ইউএনও আবু হাসান সিদ্দিক।'
তানজিল টুটুল নামে একজন লিখেছেন, 'আসলামের জন্য আমিও অনেকবার হয়রানির শিকার হয়েছি।'
আহমেদ সায়েম নামে একজন লিখেছেন, 'আমার আইসিটি মামলাও তার কারিগরিতেই হয়েছিলো।'
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০১৬ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত আসলাম হোসেন বকশীগঞ্জ থানায় কর্মরত ছিলেন। ২০১৬ সালের এপ্রিল মাসে প্রথম সপ্তাহে খবর প্রকাশের জেরে বিল্লাল হোসেন নামে স্থানীয় এক সাংবাদিককে দলীয় কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে মারধর করা হয়। পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান। এনিয়ে সাংবাদিক বিল্লাল হোসেন বাদী হয়ে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম জুম্মানসহ অজ্ঞাতনামা চার-পাঁচজনকে আসামি করে বকশীগঞ্জ থানায় মামলা করেন। ওই মামলায় ছাত্রলীগ নেতা জুম্মানকে আটকে করে জামালপুর সদর থানায় নিয়ে ছেড়ে দেয় পুলিশ। এ ছাড়া সাংবাদিক নাদিমসহ একাধিক ব্যক্তিকে থানায় ডেকে নিয়ে মামলা ঢুকে দেওয়াসহ রিমান্ডে নির্যাতনের অভিযোগ উঠে ওসির বিরুদ্ধে। ২০২৩ সালের ১৪ জুন রাতে পৌর শহরে দুর্বৃত্তদের হামলা গুরুতর আহত হয়ে১৫ জুন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান সাংবাদিক নাদিম।'
ভুক্তভোগী মতিন রহমান বলেন, 'সাংবাদিক নাদিম, বিএনপি নেতা লিপন এবং আমাকে মোবাইল ফোনে থানায় ডেকে ওসি আসলাম সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দিয়ে রিমান্ডে নিয়ে ব্যাপক শারীরিক নির্যাতন করেছে। ওসির নির্যাতনে নাদিম দীর্ঘদিন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে।
ভুক্তভোগী বিল্লাল হোসেন মণ্ডল বলেন, 'আমাকে মারধর করার মামলায় ছাত্রলীগ নেতা জুম্মানকে আটকের পর ছেড়ে দিয়েছে ওসি। পরবর্তীতে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়ে মামলাটিও শেষ করেছে ওসি।'
বকশীগঞ্জ থানার সাবেক ওসি আসলাম হোসেন বলেন, বর্তমানে আমি ঢাকায় কর্মরত। আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ ঠিক নয়। আমি আইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করেছি। রিমান্ডে কাউকে নির্যাতন করা হয়ে থাকলে, কাউকে হয়রানি করা হয়ে থাকলে; সেটা মামলার তদন্ত কর্মকর্তার বিষয়। এ ছাড়া ছাত্রলীগ নেতা জুম্মানকে আকট করে সরাসরি জামালপুর সদর থানায় নিয়ে সেখান থেকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তাঁকে ছেড়ে দিয়েছে। এটাও আমার বিষয় না। সবকিছু তদন্ত কর্মকর্তার বিষয়।'
৩ ঘন্টা ৫৫ মিনিট আগে
৪ ঘন্টা ৯ মিনিট আগে
৪ ঘন্টা ১৩ মিনিট আগে
৪ ঘন্টা ২৮ মিনিট আগে
৬ ঘন্টা ৫৭ মিনিট আগে
৬ ঘন্টা ৫৯ মিনিট আগে
১৯ ঘন্টা ৫ মিনিট আগে