নোয়াখালীর সেনবাগ পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বিন্নাগুনী গ্রামে ‘মা মঞ্জিল’ নামে একটি আবাসিক ভবনে দীর্ঘদিন ধরে নারীঘটিত অসামাজিক কার্যকলাপ চলার অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাতে ভবনটির তৃতীয় তলায় কথিত অনৈতিক কর্মকাণ্ড চলাকালে স্থানীয় এলাকাবাসী তিন নারী ও দুই পুরুষকে আটক করেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আটকের পর ওই নারী ও পুরুষকে ভবনের মালিক শহিদুল ইসলামের হেফাজতে রেখে যান এলাকাবাসী। পরে গভীর রাতে সুযোগ বুঝে মালিক শহিদুল ইসলাম তাদেরকে নিরাপদে সরিয়ে দেন।
এ সময় আটকের ঘটনাটি ভিডিও করা হয় এবং পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয় প্রতিবাদকারী বাসিন্দা জহির অভিযোগ করে বলেন, ‘মা মঞ্জিল’ ভবনে দীর্ঘদিন ধরে নারীঘটিত অসামাজিক কার্যকলাপ চলে আসছে বলে তারা জানতে পেরেছেন। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের কারণে এলাকার সামাজিক পরিবেশ ও বাসিন্দাদের সম্মান ক্ষুন্ন হচ্ছে-এমন অভিযোগ তুলে তিনি প্রতিবাদ জানান।
জহির আরও দাবি করেন, ভবনটি মালিক সেনবাগ উপজেলার জামায়াত নেতা ও সেনবাগ পৌরসভার সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী বেলাল হাজীর মেয়ের জামাই-সেনবাগ পূর্ব বাজারের ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলামের।
এলাকাবাসীর কয়েকজনের অভিযোগ, আবাসিক ভবনে এ ধরনের কর্মকাণ্ড হয়ে থাকলে তার দায় ভবন মালিককেও নিতে হবে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেন।
এদিকে সাংবাদিকরা ঘটনাটির তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে স্থানীয় বাসিন্দা সুলতান সালাউদ্দিন লিটন তাদের কাজে বাধা দেন বলে অভিযোগ উঠেছে। একপর্যায়ে তিনি সংবাদটি প্রকাশ না করার জন্য অনুরোধ করেন বলেও সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের দাবি।
অন্যদিকে 'মা মঞ্জিল' ভবনের মালিক শহিদুল ইসলাম এসব অভিযোগের বিষয়ে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, নারীঘটিত ঘটনার বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য এলাকার কতিপয় ব্যক্তি তার কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছেন।
এ ঘটনায় অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের কারণে বিষয়টি আরও রহস্যের সৃষ্টি করেছে। তবে নারী ও পুরুষ আটকের ঘটনা এবং ভবনটিতে কথিত অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগের বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক পুলিশি তদন্ত বা মামলা হয়নি।
এ বিষয়ে সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রহিম সরকার বলেন, সেনবাগ পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ‘মা মঞ্জিল’ ভবনে নারীঘটিত অসামাজিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে থানায় এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ দায়ের হয়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেবে।
স্থানীয়দের দাবি, আবাসিক ভবনে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের অভিযোগের সত্যতা থাকলে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক। একই সঙ্গে ভবনের মালিকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং পাল্টা চাঁদা দাবির অভিযোগও তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন তারা।
১ ঘন্টা ২১ মিনিট আগে
৩ ঘন্টা ৪৯ মিনিট আগে
৪ ঘন্টা ৪৩ মিনিট আগে
৪ ঘন্টা ৫৬ মিনিট আগে
৪ ঘন্টা ৫৭ মিনিট আগে