বানিয়াচং স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হামের রোগীর পাশাপাশি বাড়ছে নানা রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা
হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হামের রোগীর পাশাপাশি বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও দিন দিন বাড়ছে। রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় পর্যাপ্ত শয্যা না থাকায় হাসপাতালের বারান্দায় রেখেই অনেক রোগীকে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে হামে আক্রান্ত শিশুদের পাশাপাশি জ্বর, সর্দি-কাশি, শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়াসহ নানা রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। প্রতিদিন বহির্বিভাগ ও ভর্তি রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের।
সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের নির্ধারিত ওয়ার্ডগুলোতে শয্যার তুলনায় রোগীর সংখ্যা বেশি। ফলে অনেক রোগীকে শয্যা না পেয়ে বারান্দায় অবস্থান করতে হচ্ছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্ক রোগীদের নিয়ে স্বজনদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
রোগীর স্বজনরা জানান, অসুস্থ অবস্থায় রোগীদের বারান্দায় রেখে চিকিৎসা করানো কষ্টকর। একদিকে রোগীর ভিড়, অন্যদিকে পর্যাপ্ত শয্যার সংকট—সব মিলিয়ে চিকিৎসাসেবা নিতে এসে বাড়তি ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে তাদের।
জোবায়ের নামে একজন রোগীর স্বজন বলেন, হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেছি। কিন্তু বেড না থাকায় বারান্দায় রোগীকে রাখতে হয়েছে। অসুস্থ মানুষকে এভাবে রাখা খুবই কষ্টের। স্থানীয়রা বলছেন, বানিয়াচং একটি বড় উপজেলা। প্রতিদিন উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ চিকিৎসা নিতে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসেন।
রোগীর সংখ্যা বিবেচনায় হাসপাতালের শয্যা ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো জরুরি। রোগীর চাপ স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়েছে। বিশেষ করে হামের রোগীর পাশাপাশি অন্যান্য রোগীও ভর্তি হওয়ায় শয্যা সংকট দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে হাসপাতালের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি, রোগীর ক্রমবর্ধমান চাপ বিবেচনায় দ্রুত অতিরিক্ত শয্যার ব্যবস্থা, প্রয়োজনীয় জনবল বৃদ্ধি এবং হাসপাতালের অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হোক। এতে সংকটাপন্ন রোগীদের বারান্দায় রেখে চিকিৎসা দেওয়ার মতো পরিস্থিতি অনেকটাই কমে আসবে।
বানিয়াচং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ডা. শামীমা আক্তার বলেন, হামের রোগীর পাশাপাশি অন্যান্য রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও বর্তমানে কিছুটা বেড়েছে। প্রতিদিনই বিভিন্ন বয়সী রোগী চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে আসছেন।
রোগীর চাপ বেশি থাকলেও আমরা আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে হামের উপসর্গ, জ্বর, শ্বাসকষ্ট বা নিউমোনিয়ার লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসার পরামর্শ দিচ্ছি। তিনি আরও বলেন, হামসহ সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে।
শিশুদের টিকাদান নিশ্চিত করা, অসুস্থ ব্যক্তিকে অন্যদের থেকে আলাদা রাখা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ না খাওয়ানো জরুরি। হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছেন।