মুন্সি শাহাব উদ্দীন, চট্টগ্রাম:
সাত মাস আগে অভিমান করে ঘর ছেড়েছিল ১২ বছরের শিশু রায়হান। তখনও সে জানত না, ঘর থেকে বের হওয়ার পর তার জীবনে নেমে আসবে এমন এক নির্মম অধ্যায়, যার ক্ষত হয়তো সারাজীবন বয়ে বেড়াতে হবে তাকে।
পরিবারের কাছে ফিরে আসার সেই অপেক্ষার অবসান হয়েছে ঠিকই, কিন্তু রায়হান ফিরেছে জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হারিয়ে। কাটা পা নিয়ে অবশেষে বাবার বুকে ফিরেছে সে। সন্তানকে ফিরে পেয়ে বাবা নাজিম উদ্দিন আনন্দের চেয়ে কষ্টেই বেশি ভেঙ্গে পড়েছেন।
রায়হানের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘর থেকে বের হওয়ার পর সে একটি চক্রের হাতে পড়ে যায়। তাকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। একপর্যায়ে ঘুম থেকে উঠে সে দেখতে পায়, তার ডান পা হাঁটু পর্যন্ত নেই। এরপর এক পায়ে দাঁড় করিয়ে তাকে ভিক্ষাবৃত্তিতে নামানো হয় বলে অভিযোগ রায়হানের।
দীর্ঘ সাত মাস পর চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতিতে ছেলেকে খুঁজে পান বাবা নাজিম উদ্দিন। হারিয়ে যাওয়া সন্তানকে এক পায়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে মুহূর্তেই যেন থমকে যায় বাবার পৃথিবী। ছেলেকে বুকে জড়িয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন তিনি।
রায়হান ফিরে এসেছে তার পরিবারের কাছে। ফিরে এসেছে বাবার স্নেহের ছায়ায়। কিন্তু তার শৈশবের স্বাভাবিক জীবন আর আগের মতো নেই। একটি পা হারানোর পাশাপাশি তার সামনে এখন অপেক্ষা করছে দীর্ঘ চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও নতুন বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার কঠিন পথ।
সীমিত সামর্থ্যের পরিবারের জন্য রায়হানের চিকিৎসা, কৃত্রিম পা, পুনর্বাসন ও ভবিষ্যতের ব্যয় বহন করা অত্যন্ত কঠিন। তাই এই অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়াতে সমাজের বিত্তবান, মানবিক ও সহৃদয় মানুষদের প্রতি আহ্বান জানানো হচ্ছে।
রায়হানের হারানো পা হয়তো ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়। কিন্তু ভালোবাসা, সহযোগিতা ও মানবিকতার হাত বাড়িয়ে দিলে তার মুখে আবারও হাসি ফোটানো সম্ভব। সম্ভব তাকে একটি কৃত্রিম পায়ের ব্যবস্থা করে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সুযোগ করে দেওয়া। সম্ভব তার পড়াশোনা ও ভবিষ্যতের পথটুকু কিছুটা সহজ করে দেওয়া।
একটি শিশুর জীবনে যে অন্ধকার নেমে এসেছে, তা হয়তো একা কোনো পরিবারের পক্ষে দূর করা সম্ভব নয়। কিন্তু আমরা সবাই একটু একটু করে পাশে দাঁড়ালে রায়হানের ভবিষ্যৎ আবারও আলোয় ভরে উঠতে পারে।
আসুন, সহানুভূতির পাশাপাশি বাস্তব সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিই। রায়হান ও তার পরিবারের পাশে দাঁড়াই যাতে হারানো পায়ের কষ্ট নিয়েও সে নতুন স্বপ্ন দেখতে পারে, নতুন করে বাঁচার সাহস পায়।
৩ ঘন্টা ৩৮ মিনিট আগে
৩ ঘন্টা ৪১ মিনিট আগে
৩ ঘন্টা ৪৪ মিনিট আগে
৩ ঘন্টা ৪৫ মিনিট আগে
৪ ঘন্টা ৪৬ মিনিট আগে
১৩ ঘন্টা ১৩ মিনিট আগে
১৭ ঘন্টা ১৭ মিনিট আগে
১৯ ঘন্টা ১৮ মিনিট আগে