পৈতৃক ভিটায় বাড়ি নির্মাণে বাধা, হুমকি-চাঁদা দাবি: প্রতিকার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে পৈতৃক জমিতে বাড়ি নির্মাণকালে স্থানীয় কতিপয় সন্ত্রাসী কর্তৃক নির্মাণ কাজে বাধা প্রদান ও ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি সহ নির্মাণ শ্রমিকদের মারধর ও নির্মাণ সামগ্রী ভাংচুরের অভিযোগ উঠেছে। প্রতিবাদ জানিয়ে এবং ঘটনার প্রতিকার চেয়ে ফারুক হোসেন নামে ভুক্তভোগি এক ব্যবসায়ী সংবাদ সম্মেলন করেছেন।
বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকালে উপজেলার উজিরপুর ইউনিয়নের শীতলিয়া এলাকায় এ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ভুক্তভোগি ওই ব্যবসায়ী। তিনি পাশ্ববর্তী জগমোহনপুর গ্রামের আবদুল খালেকের ছেলে। এ সময় তাঁর পরিবারের সদস্যরা সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
লিখিত বক্তব্যে ফারুক হোসেন বলেন, আমি একজন নিরীহ ও ব্যবসায়ী মানুষ। দীর্ঘদিন যাবৎ মিয়াবাজার এলাকায় বেশ সুনামের সাথে নিজ ব্যবসা পরিচালনা করে আসছি। আমার পুরাতন পৈতৃক বাড়িতে চাচাতো ভাইদের নানামুখী অত্যাচার-নির্যাতনের ফলে ওই বাড়িতে থাকার পরিবেশ না থাকায় বর্তমানে আমি পরিবার নিয়ে ভাড়া বাসায় বসবাস করছি। এমতাবস্থায় নিষ্কন্টক একক খতিয়ানভুক্ত আমার পৈতৃক জমিতে বাড়ি নির্মাণের উদ্দেশ্যে একপাশে মাটি কেটে অপরপাশে ভরাট ও বাড়ি নির্মাণের উদ্দেশ্যে কাজ শুরু করি। নির্মাণ কাজ চলাবস্থায় আমার চাচাতো ভাই আবদুল কুদ্দুস গং এর নেতৃত্বে এলাকার চিহিৃত মাদক কারবারি, চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসী প্রকৃতির লোকজন নিয়ে এসে পেশিশক্তির প্রদর্শন করা সহ নির্মাণ কাজে বাধা প্রদান করে। এ সময় তারা আমার কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে এবং চাঁদা না দেওয়া পর্যন্ত কাজ করতে নিষেধ করে। এছাড়াও তারা নানান হুমকি-ধমকি প্রদান করে। তখন আমি ভয় পেয়ে এবং তাদের অনবরত চাপে বাধ্য হয়ে তাদেরকে দাবিকৃত চাঁদার ৭ লাখ টাকা দিয়ে দেই। তারা উক্ত টাকা নেওয়ার পরে আমি পুনরায় জমিতে কাজ করতে গেলে তাদের দাবিকৃত চাঁদার বাকী ৩ লাখ টাকার জন্য আমার উপর অতর্কিতভাবে হামলা চালায়। এ সময় তারা আমার নির্মাণ সরঞ্জাম ভাংচুর ও শ্রমিকদের উপরও হামলা চালায় এবং তাদেরকে বেধড়ক মারধর করে। এ ঘটনায় ৪/৫ জন শ্রমিক গুরুতর আহত হয়। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আহত শ্রমিকদেরকে হাসপাতালে নিয়ে যাই এবং চিকিৎসা গ্রহণে সহযোগিতা করি। এখনো উল্লেখিত সন্ত্রাসীরা আমাকে প্রতিনিয়ত প্রাণনাশের হুমকি সহ বিভিন্ন হুমকি-ধমকি অব্যাহত রেখেছে। তারা দফায় দফায় আমার উপর হামলার চেষ্টা করছে। বিষয়টি নিয়ে আমি চৌদ্দগ্রাম মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। এরমধ্যে সে গত পরশু স্থানীয় সাংবাদিকদের এনে প্রকৃত ঘটনাটি আড়াল করে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য সরবরাহ করে একটি সাজানো সংবাদ প্রকাশ করায়। যা দৃষ্টিগোচর হওয়ায় আমরা ব্যথিত হয়েছি। এতে আমাদের পারিবারিক সম্মানহানী ঘটেছে। আমি উক্ত ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। পাশাপাশি জাতির বিবেক সাংবাদিকদের জ্ঞাতার্থে সত্য ঘটনাটি তুলে ধরতে আমি আজকের এ সংবাদ সম্মেলনটি করেছি। আশা করি, আপনারা ব্যাপক অনুসন্ধানের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত ও সত্য চিত্রটি জাতির সামনে তুলে ধরবেন। আমার পৈতৃক জমির সকল কাগজপত্র হালনাগাদ থাকার পরেও শুধুমাত্র মাদক কারবারিদের ভয়ে আমি নির্মাণকাজ বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছি। এক্ষেত্রে আমি পুলিশ প্রশাসন ও সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করছি। আশা করছি, থানায় আমার দায়েরকৃত লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে থানা পুলিশ তদন্ত সাপেক্ষে দোষিদের বিরুদ্ধে শীঘ্রই আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত স্থানীয় সামাজিক ব্যক্তিত্ব মো. মুজিবুল হক মিঠু জানান, ফারুক হোসেন এবং আবদুল কুদ্দুসের মধ্যকার সমস্যার সমাধানে সামাজিকভাবে একাধিকার চেষ্টা করা হয়েছে। আবদুল কুদ্দুসের অপারগতা ও গড়িমড়ির কারণে শেষ পর্যন্ত তা আর সম্ভব হয়নি।
অভিযুক্ত আবদুল কুদ্দুস জানান, বিরোধপূর্ণ সম্পত্তি নিজেদের মধ্যে সুষ্ঠুভাবে ভাগ-বণ্টন করে যার যার অংশ বুঝে নেওয়ার জন্য আমি তাদেরকে একাধিকবার অনুরোধ করেছি। আমি এ জমিটি দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে ভোগ দখলে আছি। এখন তারা সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে প্রতিদিন আমাকে হুমকি-ধমকি দিচ্ছে। যারফলে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আমি নিজেই এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। এ ব্যাপারে আমি থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।
এ বিষয়ে চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ আরিফ হোছাইন বলেন, উপজেলা উজিরপুর ইউনিয়নের শীতলিয়া এলাকায় জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে দুই পক্ষই পাল্টাপাল্টি অভিযোগ জমা দিয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে