◾ নিউজ ডেস্ক
সরকারকে টিকিয়ে রাখতে ভারতের কাছে সাহায্য চাওয়া নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের ব্যাখ্যা দাবি করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি এই প্রশ্নও তুলেছেন, ভারতের আনুকূল্যে বর্তমান সরকার টিকে আছে কি-না।
বিএনপি মহাসচিব শুক্রবার (১৯ আগস্ট) বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবে দলের অঙ্গসংগঠন স্বেচ্ছসেবক দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় সরকার, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও একই সঙ্গে ভারতের কাছে এই ব্যাখ্যা দাবি করেন।
তিনি বলেন, ‘জানতে চাই এই সরকারের কাছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে এবং ভারত সরকারের কাছেও, পররাষ্ট্রমন্ত্রী যে কথা বলেছেন, সেই কথার অর্থ কী? তাতে কী এটা দাঁড়ায় এই সরকার টিকে আছে ভারতের আনুকূল্যে? মানুষ জানতে চায়। এটা অত্যন্ত জরুরি কথা।’
তিনি বুধবার ঢাকায় অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের সমাবেশে নেতাদের বক্তব্য প্রসঙ্গে বলেন, ‘আপনার শুনেছেন গত পরশু দিন আওয়ামী লীগের সভায় তাদের নেতারা হুমকি দিয়েছেন, হুঙ্কার দিয়েছেন, সন্ত্রাসী ভাষায় কথা বলেছেন। এতই যদি আপনারা হুমকি দেন, ধমকি দেন, তাহলে কেন আবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আপনাদের সরকারকে টিকিয়ে রাখার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে টিকিয়ে রাখার জন্য ভারতের সাহায্য চান? আমরা এই কথার ব্যাখ্যা চাই।’
পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আবদুল মোমেন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম নগরীর জেএমসেন হলে জন্মাষ্টমী উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বলেছেন, ‘শেখ হাসিনাকে টিকিয়ে রাখার জন্য যা যা করা দরকার, আমি ভারত সরকারকে সেটা করার অনুরোধ করেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি ভারতে গিয়ে বলেছি, শেখ হাসিনাকে টিকিয়ে রাখতে হবে। শেখ হাসিনা আমাদের আদর্শ। তাকে টিকিয়ে রাখতে পারলে আমাদের দেশ উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যাবে এবং সত্যিকারের সাম্প্রদায়িকতামুক্ত, অসাম্প্রদায়িক একটা দেশ হবে। সেজন্য শেখ হাসিনাকে টিকিয়ে রাখার জন্য যা যা করা দরকার, আমি ভারত সরকারকে সেটা করার অনুরোধ করেছি।’
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এ বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক প্রচার পেয়েছে। ফেসবুকে তার এ বক্তব্যের ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে। এর আগেও তার কয়েকটি বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা হয়। সম্প্রতি সিলেটে এক সভায় দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরতে গিয়ে তিনি বলেছেন, ‘অন্যান্য দেশের তুলনায় আমরা সুখে আছি, বেহেস্তে আছি।’ এরও আগে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘আজকাল’কে এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক স্বামী-স্ত্রীর মতো।
এ প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘তারা এমন সব মানুষকে মন্ত্রী বানিয়েছে যে, তারা কখন কী বলেন তা নিজেরাও জানেন না। সেতুমন্ত্রী যিনি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, তিনি অনেক কথা বলেছেন। সারাক্ষণ গালিগালাজ করেন।’
তিনি বলেন, আমি যে কথাটি বলতে চাই, আপনার দেশ এত ভালো চালাচ্ছেন, তাহলে উত্তরা থেকে আবদুল্লাহপুর পর্যন্ত রাস্তায় গার্ডার পড়ে মানুষ মারা যায় কেন। প্রতিদিন প্রতি রাস্তায় সড়ক দুর্ঘটনায় অসংখ্য মানুষ মারা যাচ্ছে। কারণ, কোথাও কোনো ডিসিপ্লিন নাই। কোথাও কোনো শাসন নাই। যে যেখানে পারছে লুট করছে, দুর্নীতি করছে। যার কারণে কেউ কারও কোনো কথা মানে না।’
তিনি গার্ডার দুর্ঘটনার জন্য প্রকল্পের গার্ড ও ড্রাইভারকে গ্রেপ্তারের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, ‘এর জবাব তো দিতে হবে সেতুমন্ত্রীকে প্রথম। জবাব দিতে হবে প্রকল্প পরিচালককে। তাদের বিরুদ্ধে তো এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।’
মির্জা ফখরুল জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রসঙ্গে বলেন, আপনারা জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছেন শতকরা একান্ন ভাগ। কী যুক্তিতে? বলছেন, বিশ্বে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে গেছে। এই জন্য এর দাম বাড়াতে বাধ্য হয়েছেন। কিন্তু যখন দাম কম ছিল তখন কিন্তু জ্বালানি তেলের দাম কমাননি। এখন আবার যখন দাম কমতে শুরু করলো, তখনও কিন্তু জ্বালানি তেলের দাম কমাচ্ছেন না।’
তিনি দেশে সরকারের উন্নয়নের দাবির সমালোচনা করে বলেন, এতদিন বাংলাদেশের অর্থনীতিকে বলা হয়েছে রোল মডেল অর্থনীতি। এখানে মানুষের উন্নয়ন হয়েছে। উন্নতি হয়েছে। গ্রামে-গঞ্জে গেলে এখন আর গরিব মানুষ দেখা যায় না। অথচ এখন শতকরা ৪০ ভাগ মানুষ দারিদ্র সীমার নিচে বাস করছে। দেশের অনেক জেলা আছে যেখানে মানুষ দুবেলা ভাত খেতে পারে না। বাস্তবতা।
তিনি এর জন্য এককভাবে আওয়ামী লীগ সরকারকে দায়ী করে বলেন, ‘আওয়ামী লীগ দুর্নীতির মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে ফোকলা করে দিয়েছে।’
বিএনপি মহাসচিব একই সঙ্গে দেশের রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠাগুলোকে দুর্বল করে দেয়ার জন্যও ক্ষমতাসীন দলকে দায়ী করেন। তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকেই অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশের মানুষের অধিকারগুলো কেড়ে নিয়েছে। সংবিধানকে পরিবর্তন করেছে। ভোট দিয়ে প্রতিনিধি নির্বাচন করার যে ক্ষমতা ছিল তা তারা হরণ করে নিয়ে নিয়েছে। তত্ত্বাবধায় সরকার ব্যবস্থার বিধানকে বাতিল করে দিয়েছে।’
তিনি সরকারকে ক্ষমতা ছাড়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘ক্ষমতা ছাড়ুন, ক্ষমতা ছেড়ে রাস্তায় নামুন। দেখা যাবে এদেশে জনগণের শক্তি বেশি না, আপনাদের মতো দুর্নীতিবাজদের শক্তি বেশি। অবশ্যই আপনাদের ক্ষমতা ছাড়তে হবে। ক্ষমতায় থেকে অনেক লম্বা লম্বা কথা বলা যায়। ক্ষমতা ছেড়ে আসুন তখন বোঝা যাবে আপনার শক্তি কত?এদেশে কয়টা লোক আপনার পক্ষে আছে তখনই বোঝা যাবে।’
১০ ঘন্টা ২৩ মিনিট আগে
১ দিন ৫০ মিনিট আগে
৬ দিন ১৫ ঘন্টা ৩১ মিনিট আগে
৬ দিন ১৫ ঘন্টা ৪০ মিনিট আগে
৭ দিন ১৩ ঘন্টা ৪৪ মিনিট আগে
৭ দিন ১৩ ঘন্টা ৫৬ মিনিট আগে
৮ দিন ৪ ঘন্টা ২২ মিনিট আগে
৮ দিন ৭ ঘন্টা ৪৬ মিনিট আগে