ইট ভাটা ভাঙা গড়ার খেলায় প্রতি বছরই চলে কোটি টাকার খেলা
পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান ও তথ্যানুযায়ী ঝিনাইদহ জেলায় মোট ১২৪ টি ইট ভাটা রয়েছে। এরমধ্যে বন্ধ আছে ৮টি। আদালতে পিটিশন চলমান ১১ টি। মামলা চলমান রয়েছে ১৬ টি। আর বৈধ ইটভাটা রয়েছে মাত্র ৮ টি। ১২৪ টির মধ্যে উপরোক্ত ৪৩ টি বাদেও অবৈধ ভাটা রয়েছে আরো ৮১টি।
এরই মধ্যে সম্প্রতি জেলা জুড়ে মাত্র ১৪টি অবৈধ ইট ভাটাতে অভিযান চালানো হয়েছে।
এর মধ্যে শৈলকুপা ৪, ঝিনাইদহ সদর ৩, কোটচাদপুর ৩ ও হরিনাকুন্ডুতে ৪ টি মোট ১৪ টি ভাটা গুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। ১৪ টি ইটভাটা থেকে মোট জরিমানা আদায় করা হয়েছে ৩০ লাখ টাকা।
গুড়িয়ে দেয়া ১৪ টি ইটভাটা সারিয়ে তুলে পুনরায় চালু করতে ভাটা প্রতি অন্তত ৫ লাখ টাকা করে খরচ হলে তা দাঁড়ায় প্রায় ৭০ লাখে।
ভাটা সংশ্লিষ্টরা জানায়, ১২৪টি ভাটার মধ্যে মাত্র ১৪টি ইটভাটা মালিকের জরিমানা ও মেরামত খরচ হয়েছে প্রায় কোটি টাকা।
আরোতো সবাই বাঁকি রয়েই গেল। বাঁকিরা হয়তো ধোঁয়া তুলসি পাতা! নয়তো আগামীতেও তারা উচ্ছেদের আওতায়।
সুধিমহলের দাবী, জরিমানার ৩০ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে গেলেও উচ্ছেদকৃত ১৪ টি ইটভাটা মেরামত খরচ প্রায় কোটি টাকা। যা রাষ্ট্রীয় সম্পদ নষ্টের সামিল।
ভাটা মালিকদদের দাবী, যদি পরিবেশ অধিদপ্তর ছাড়পত্র দিতে না পারে তাহলে ইটভাটাগুলো একদমই বন্ধ করে দেয়া উচিৎ। নয়তো প্রতিবছর ভাঙাগড়ার খেলায় নষ্ট হচ্ছে কোটি কোটি টাকা।
অসহায় ও নিরিহ মালিকদের ইটভাটা উচ্ছেদ হয়, জরিমানা হয় এবং কথিত সমিতির নামে চাঁদা দিয়েও তারা বাঁচতে পারেনা। অথচ অজ্ঞাত কারনে বারবারই বেঁচে যায় ক্ষমতাধররা।
গোপন সূত্রে জানা যায়, এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে কথিত সমিতি ও কর্মকর্তাদের নাম ভাঙ্গিয়ে অনেকে লাখলাখ টাকা হাতিয়ে নেয়।
এ ব্যাপারে পরিবেশ অধিদপ্তরের ঝিনাইদহের সহকারী পরিচালক মুন্তাছির রহমান বলেন, জেলায় ১৪ টি অবৈধ ইট ভাটায় অভিযান পরিচালনা করে ভেঙে গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ৩০ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।
ভেঙে দেওয়া ইট ভাটা গুলো পুনরায় চালু না করার জন্য মুসলেকা নেওয়া হয়েছে। তিনি আরো বলেন, অভিযান চলমান রয়েছে। ভাটা স্থাপন আইনে পর্যায়ক্রমে অবৈধ সব ভাটা উচ্ছেদ করা হবে।