হালকা বৃষ্টি হলেই স্কুল, কলেজ ও হাটবাজারের যাতায়াতের জায়গা হয়ে যায় কাঁদাময়। স্কুল শিক্ষার্থীরা কখনও পা পিছলে পড়ে যায় কাঁদায়। কেউ অসুস্থ হলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা নেই।
কৃষক তার ফসল উৎপাদন করে বাজারে বিক্রি করবে তার ভালো কোনো ব্যবস্থা নেই। কারণ সে অঞ্চলের মানুষের যাতায়াতের যে মাধ্যম রাস্তা আছে তা কাঁদায় পরিপূর্ণ। শুধু তাই নয় খালখন্দ আর গর্তে জরাজীর্ণ। এমনি এক অঞ্চল হলো জয়পুরহাটের সদর উপজেলার পুরানাপৈল ইউনিয়নের বড়তাজপুর -শালগাঁও-শিডগাংরাইল রাস্তাটির প্রায় ৪ কিলোমিটার জুড়ে অসংখ্য খালাখন্দ আর গর্ত থাকায় ৫ টি গ্রামের মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এ অবস্থায় যত দ্রুত সম্ভব ওই রাস্তাটির পাকা করণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।
সরেজমিন জানা গেছে, বড়তাজপুর-শালগাঁও-শিডগাংরাইল রাস্তাটি দিয়ে প্রতিদিন বড়তাজপুর, শালগাঁও, দস্তপুর এবং শিডগাংরাইলসহ আসপাশের কয়েকটি গ্রামের প্রায় ৫ হাজার লোক যাতায়াত করে। এ রাস্তাটির দুপাশে ৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ছোট বড় ২০০টি গরুর খামার ও ২৫টি পোল্ট্রি ফার্ম, ১০-১২টি চাষযোগ্য পকুর অবস্থিত।
রাস্তাটির বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দ থাকায় চলাচল করতে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। বড় পুকুরের পাড়ের উপর দিয়ে গেছে রাস্তাটি। ওই পুকুরে ভেঙ্গে গেছে রাস্তার প্রায় ৩০০ মিটার। তাই ওই রাস্তাটি দিয়ে চলাচল করতে অনেক সময় ঝু্ঁকির মুখে পড়তে হয়। ঝুঁকি থাকা সত্বেও জীবন ও জীবিকার প্রয়োজনে এ রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন ভটভটি, অটোরিক্সা, মটরসাইকেল, ভ্যানসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করে। প্রয়ই ছোট ছোট দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। দ্রুত এ রাস্তাটি পাকা করা না হলে, যে কোন সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ‘নিরাপদ সড়কে’র স্বার্থে অতিদ্রুত রাস্তাটি পাকা করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
গরুর খামারি এমদাদুল ইসমাম বলেন, রাস্তাটিতে খালাখন্দ থাকায় গরু এবং মুরগির অসুখ-বিসুখে জরুরী প্রয়োজনে চিকিৎসক সময় মতো আসতে পারন না। তখন মোটা অংকের লোকশান গুণতে হয়।
শালগাঁও এর কৃষক আব্দুল আব্দুর রাজ্জাক বলেন, রাস্তার বেহার অবস্থার কারণে উৎপাদিত বিভিন্ন শস্য বাজারজাত করতে নানা দুর্ভোগ পোহাতে হয়। বেশি টাকা দিতে চাইলেও অনেক সময় কৃষিপণ্য পরিবহণের জন্য ভ্যান বা ভটভটি পাওয়া যায়না। ফলে কৃষি ও কৃষকের স্বার্থে রাস্তাটি দ্রুত পাকা করণের দাবী জানাচ্ছি।
শিডগাংরাইল গ্রামের শ্রীমতি চামেলি রানী বলেন, বর্ষাকালে রাস্তাটি দিয়ে চলাচল করতে অনেক সমস্যা হয়। ভ্যান বা ভটভটিও চলাচল করতে পারনা। তাই প্রসূতিকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যেতে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়।
শালগাঁও কোরবানিয়া সিদ্দিকীয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপারিন্টেনডেন্ট আব্দুল হালিম বলেন, বর্ষাকালে রাস্তাটি দিয়ে চলাচল করতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীসহ নানা পেশার লোকজনকে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হয়। রাস্তাটি পাকা হলে এলাকাবাসীর কষ্ট দূর হবে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য ফরিদুল ইসলাম বলেন, শালগাঁও কোরবানিয়া সিদ্দিকীয়া দাখিল মাদ্রাসাটি ভোটকেন্দ্র হওয়ায় কেন্দ্র পর্যবেক্ষণের জন্য রাস্তাটি পাকা হওয়া জরুরি। রাস্তাটির কোড নম্বর হয়েছে মর্মে চেয়ারম্যানের মাধ্যমে জেনেছি।
পুরানাপৈল ইউনিয়ন পারিষদের চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম বলেন, জেলা প্রশাসক শরিফুল ইসলামের মাধ্যমে ইতোমধ্যে বড়তাজপুর-শালগাঁও-শিডগাংরাইল রাস্তাটির কোড নম্বর পাশ হয়েছে। এখন যে কোন সময় রাস্তাটির পাকাকরণ কাজ শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।