টাঙ্গাইলের মধুপুরে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে দুর্বৃত্তদের দেওয়া অগ্নিকান্ডে মধুপুর উপজেলা শহর ধ্বংসযজ্ঞে পরিণত হয়েছে। রোববার বিকেলে দুই ঘন্টা ব্যাপি ধ্বংসযজ্ঞ চালায় । চলমান সংঘর্ষ ও ভাঙ্গচুরে অন্তত ১৭ জন আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে সৈকতসহ দুই জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন।
এ সময় মধুপুর পৌরসভা কার্যালয়ের সকল কক্ষ ভাঙ্গচুর, অফিসের বাইরে ও ভেতরে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। মধুপুর পৌরসভার চারটি গাড়ি, বিভিন্ন স্থানে ১৫টি মটর সাইকেল পুড়িয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। মধুপুরের দমকল বাহিনীর সদস্যরা গিয়ে মধুপুর পৌরসভা কার্যালয়ের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
এছাড়া মধুপুর শিল্প ও বণিক সমিতি, টাঙ্গাইল জেলা ট্রাক মালিক সমিতি মধুপুর শাখা ও আওয়ামীলীগ কার্যালয়ে ভাঙ্গচুর আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। মির্জাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের বাসভবন ও মধুপুর পৌরসভার কাউন্সিলর আনিসুর রহমানের কার্যালয়ের ভাঙ্গচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। কাজী ডিজিটাল হাসপাতাল, সিটি হাসপাতাল, মেটারনিটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার, সিঙ্গার শো-রুম, সাদিয়া অটোস, মাসুদ ট্রেডার্স, রাসেল টাওয়ারসহ অন্তত ১০টি দোকান ভাঙ্গচুরের খবর পাওয়া গেছে। মধুপুর পৌরশহরের রোড ডিভাইডার তুলে ফেলা হয়েছে।
জানা যায়, বেলা তিনটার দিকে মধুপুর উপজেলা আওয়ামীলীগ ও তার সহযোগি সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বিক্ষোভ মিছিল করে। মিছিলটি শহীদ স্মৃতি রোডে এসে আন্দোলনকারীদের ধাওয়া করে। এ সময় তারা জব্বার আলীর বাড়ি সহ কয়েকটি স্থাপনায় হামলা চালায়। এরপরপরই আন্দোলনকারীরা কয়েকগ্রুপে বিভক্ত হয়ে মিছিল নিয়ে মধুপুর পৌরশহরে প্রবেশ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। এ সময় বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা, ভাঙ্গচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। বিকেলে মধুপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ইয়াকুব আলী ও মধুপুর পৌর মেয়র ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।