গাজীপুরে মহুয়া কমিউটার ট্রেনে আগুন ভ্যান চালককে খুন করে পালানোর সময় ডাকাত গ্রেফতার নন্দীগ্রামে দিগন্ত ফাউন্ডেশনের বৃত্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত অটোরিকশার সিলিন্ডার বিস্ফোরণে পাঁচ শিশুসহ আহত-৬ গাইবান্ধায় সাংবাদিকের উপর হামলার প্রতিবাদে হামলাকারীর বিরুদ্ধে মানববন্ধন। বানারীপাড়ায় গোসল করতে নেমে তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রী নিখোঁজ সেনবাগে কর্মরত সাংবাদিকদের ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত ব্যাংককের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়লেন প্রধান উপদেষ্টা বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ৩৭% শুল্ক আরোপ করল যুক্তরাষ্ট্র ঢাকাস্থ ঝিনাইগাতী যুব ফোরামের উন্নয়ন সংলাপ ও ঈদ পুনর্মিলনী আদমদীঘিতে যৌথ বাহিনীর অভিযানে বার্মিজ চাকুসহ আটক ১ মিল্লাত অ্যাসোসিয়েশন কিশোরগঞ্জের ঈদ পূনর্মীলনী অনুষ্ঠিত। লালপুর মসজিদের ডিজিটাল সাইনবোর্ডে জয় বাংলা স্লোগান লেখা ফুচকা খেয়ে অভয়নগরে ২১৩ জন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ঈদের ছুটিতে সুন্দরবনে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতসহ দেশী-বিদেশী পর্যটকের ভিড় কুতুবদিয়া সমুদ্র সৈকতে ভ্রমণ পিপাসু মানুষের ঈদ আনন্দ-উচ্ছাস উখিয়ায় মাদক কারবারি ইমাম হোসেন আটক শিক্ষার্থী ও দুরারোগ্য আক্রান্ত ব্যক্তিদের সহায়তা প্রদান চৌদ্দগ্রামে তারেক রহমানের ঈদ উপহার পেলে শহীদ আইয়ুবের পরিবার সাতক্ষীরায় পাটকেলঘাটায় আলামিন ফাজিল মাদ্রাসার ৪০ বছর পূর্তি উপলক্ষে পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত

শুভ জন্মদিন কবি মাহবুব রুমন


"হিজলের বন থেকে প্রেম

শিশিরের ঢল থেকে জল

পাতাদের পিঠ থেকে মসৃণ পথ

বলাকার পাখনার শুভ্র সৌরভ

মিছিলের ঝাঁক থেকে প্রাণ

সর্বস্ব নিয়ে হোক মানুষ জীবন।"

কবিতার এই ছন্দমালা কবি মাহবুব রুমন এর দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ পদ্যবাড়ির অন্দর মহল থেকে নেওয়া ।  আজ এই তরুণ কবির জন্মদিন। তিনি ১৯৯০ সালের ২২ শে নভেম্বর নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার ধলামূল গাঁ এ জন্মগ্রহণ করেন। প্রিয় কবির সাহিত্য জগত নিয়ে একটু আলোকপাত করি।

লেখার শুরুতে যে ছন্দ মালা দিয়ে শুভেচ্ছাবাণীতে পর্দাপন করলাম এই কবিতাটির উৎস "পদ্যবাড়ির অন্দরমহল " কবি মাহবুব রুমন এর দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ। এর আগে কাব্য টোকাইয়ের অভিষেক নামে কবির প্রথম কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়। শুধু কবি হিসেবে নন ব্যক্তি হিসেবে তিনি একজন চমৎকার মানুষ। অসহায় থেকে শুরু করে বয়োবৃদ্ধ এমনকি যেকোন মানুষের কাছে তিনি সমান সমাদৃত।

পরিচয় কবিতায় কবি লিখেছেন ;

"ভাগ্যান্বেষী পথিক আমি মসৃণ পথের খোঁজে;

খুব চিনেছি জীবন থেকে পালিয়ে যাওয়ার গলি।

নির্মোহ সাধক আমি মুঠোবন্দি স্বপ্ন বিলিয়ে দিয়ে ;

বহু সাধনের পথ ছেড়ে অবলীলায় আলপথে চলি।"

গুণগত পরিবর্তনের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠা করেন শিক্ষা ও সমাজ সেবা মূলক সংগঠন কংস মৈত্রী। নেত্রকোণা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে সুনামের সাথে মাধ্যমিক পর্যায় শেষ করে ভর্তি হন ময়মনসিংহের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম কলেজে। সেখান থেকে উচ্চ মাধ্যমিকের গন্ডি পেরিয়ে ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন বাউন্ডুলে ছাত্র সংঘ।যেখানেই থাকেন স্বপ্ন দেখেন শিক্ষা নিয়ে, বাংলাদেশ কে নিয়ে। 

তাই তাঁর প্রত্যয়ী উচ্চারণ ;

"বিশ্বের অপার বিস্ময়ে মাথা তুলে

 দাঁড়ায় একদেশ

 অজেয় অপরাজেয় ভূখণ্ড 

 আমার প্রাণের বাংলাদেশ। "

 বিভিন্ন সংগঠনের সাথে যুক্ত ছিলেন তিনি। সেই বাল্যকাল থেকে লেখালেখির শুরু।তিনি কবিতা ভালোবাসেন। তাই কবিতায় তিনি লিখেছেন---

 

" আমার প্রথম ভালোবাসার নাম কবিতা

 তোমার মুখ:নিসৃত প্রতিটি শব্দই

 এক একটি অনুপম কবিতা।

 সেই শব্দে,সেই কবিতায় 

 অমর থেকে যাব শ্বাশত বিদায়েও।"

 

বর্তমানে দুহাত ভরে লিখে যাচ্ছেন। অমর একুশে বইমেলা ২০২১ এ কবির প্রথম কাব্যগ্রন্থ কাব্য টোকাইয়ের অভিষেক নামক বইটি ব্যাপক সাড়া ফেলে। কবির শখ মানুষের জন্য কিছু করতে পারা।তাই তাঁর কবিতায় ফুটে উঠেছে দেশ প্রেম, মানবতাবোধ, ব্যক্তি জীবনের প্রতিটি মুহুর্ত। কবি লিখেছেন-

ভাতের থালাগুলো ভরে উঠলো গুলির দানায়

পানপাত্র ভরে গেলো পানির বদলে লাল রক্তে

মাথার ভেতর একটানা বাজে কারফিউ স্লাইরেন

কামান গোলার শব্দে ভেসে গেলো প্রার্থনার ধ্বনি

নিরীহ পাখির ওমের তা দখল করে নিল তপ্ত বুলেট

উদ্যানের শ্বেত শুভ্র ফুল গুলিও লাল হয়ে গেলো রক্তে

পৌষ-নবান্নের ক্ষেতগুলিতে শষ্যের বদলে 

চাষ হলো বেওয়ারিশ হার পাজর

ফসলি জমিগুলো আরো উর্বর হয়ে উঠলো

জৈব সারের মতো বিগলিত মগজের সারে

বাড়ির পাশের চেনা নদীগুলো ভরে গেলো

বোয়াল রুইয়ের বদলে সলিম, কলিমের লাশে

এমনই দানবীর পরিবর্তনের ঢেউয়ে ভেসে

দুঃখিনী বাংলার গোলা ভরে উঠে স্বাধীনতায় 

আহা স্বাধীনতা!

আমার সর্বহারা স্বাধীনতা!

এমন চমৎকার শব্দ গাঁথুনির মধ্য দিয়ে লিখে যাচ্ছেন প্রতিনিয়ত। হারতে হারতেও হেরে না যাওয়া মানুষ কবি মাহবুব রুমন। তুমুল সর্বনাশেও অবিচল থাকা যার স্বভাব।যাঁর লেখায় খুঁজে পাই এমন লুকানো বিরহ;

"জলের দেশে থাকুক

মুক্তোরা পাশাপাশি। 

থাকুক না হয় তোমার 

একটুখানি হাসি। 

বুকের বা-পাশ জুড়ে 

লেখা ভালোবাসি।" 

 শেষতক সবকিছু বদলে দিয়ে নতুনভাবে নতুন পরিচয়ে ঘুরে দাঁড়ানো এক ব্যোহেমিয়ান। আবাল্যের অগোচর, অবহেলা উনাকে কবি করে তুলেছেন। বিভিন্ন  দ্যোতনা বুকে ধারণ করে কবি বলেছেন;

"তুচ্ছ ইট পুড়ে যায় তবু রেখে যায় চিহ্ন 

আকাশময় ছড়ায় চিমনিভর্তি কালো ধোঁয়া 

কত মন পুড়ে যায় নিভৃতে ধোঁয়া, গন্ধ ছাড়া

কেবল থাকে দীর্ঘশ্বাস ;না যায় দেখা না যায় ধরা।"

পিথাগোরাস জ্যামিতির সমীকরণে জীবনের সকল হিসেব মেলাতে চেয়েছেন আর কবি মাহবুব রুমন মেলাতে চান কবিতার গাঁথুনিতে। শব্দের বিন্যাসে ভুলে থাকতে চান জীবনের টানাপোড়েন। সবাই কবিতা লেখেন আর তিনি জীবন লেখেন কবিতায়।

তিনি একজন সদাহাস্যলাপী মিশুক মানুষ। সকলের সাথে মিশে যান নিবিড়ভাবে। কবিতায় যেমন নিবিড়তা মানুষের সাথেও রয়েছে কবির সখ্যতা। এই মহান মানুষ তিনি যেখানেই যাবেন সকলকে আপন করে নেবেন এটি আমাদের বিশ্বাস। মানুষের পাশে থেকে মানুষের সেবা করে এবং কবিতা দিয়ে মানুষকে জয় করে নেবেন। সবসময় ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন সুন্দর থাকুন।

তিনি বর্তমানে বাংলাদেশে সিভিল সার্ভিসের একজন সদস্য হিসাবে কর্মরত আছেন। এত ব্যস্তময় কর্মজীবন থাকা সত্ত্বেও কবিতার ছন্দে গ্রাম বাংলার প্রকৃতি, মেহনতি মানুষের আবেগ ও তরুণ প্রজন্মের তারণ্য ভাবনাকে ছড়িয়ে দিচ্ছেন   পাঠক হৃদয়ে। জীবন সংগ্রামের কর্মব্যস্ততা যে কবির কবিতাকে কোনোই বাধাগ্রস্ত করতে পারেনা। তারই বাস্তব অনুপ্রেরণা কবি মাহবুব রুমন।  প্রিয় কবির আজ এই জন্মদিনে জানাই অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা। শুভ জন্মদিন, হে আলোর দিশারী।

লেখক: 

শেখ সায়মন পারভেজ হিমেল ও 

জান্নাতুন নাহার নূপুর  

 


Tag
আরও খবর




মমতায় মাখা মধু খালার চা

৭ দিন ১৫ ঘন্টা ২৬ মিনিট আগে