বগুড়ায় জেলা বিএনপি'র সাধারণ সম্পাদক সহ দুই নেতা গ্রেপ্তার
বগুড়ায় পুলিশ-বিএনপি সংঘর্ষের ঘটনায় চারটি মামলায় বিএনপি'র দুই শতাধিক নেতাকর্মীর নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত পরিচয়ে আরও অনেক কে আসামি করা হয়েছে।
১৮ জুলাই (মঙ্গলবার) দিবাগত গভীর রাতে বগুড়া জেলা বিএনপি'র সাধারণ সম্পাদক আলী আজগর তালুকদার হেনা এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক আহ্বায়ক মাজেদুর রহমান জুয়েলকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি পুলিশ।
মঙ্গলবার দিবাগত রাত সোয়া ৩টায় আলী আজগরকে তার বগুড়া শহরের সূত্রাপুরের বাসা থেকে এবং রাত সাড়ে ৩টায় মাজেদুর রহমানকে পুরান বগুড়ার বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, বিএনপি'র পদযাত্রা কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে গতকাল বগুড়ায় পুলিশের সঙ্গে দলটির নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনায় এই দুই নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বগুড়ার পুলিশ সুপার সুদীপ কুমার চক্রবর্ত্তী বুধবার (১৯ জুলাই) সকালে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশের করা মামলায় আলী আজগর তালুকদার ও মাজেদুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার পুলিশের ওপর হামলা, ককটেল বিস্ফোরণ, সদর পুলিশ ফাঁড়ি ভাঙচুর এবং দুপচাঁচিয়ায় বাস ভাঙচুরের অভিযোগে মোট চারটি মামলা হয়েছে। এরমধ্যে বগুড়া সদর থানায় তিনটি এবং দুপচাঁচিয়া থানায় অপর একটি মামলা করা হয়েছে। বগুড়া সদর থানায় করা মামলায় বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে পুলিশের ওপর হামলা, সদর পুলিশ ফাঁড়ি ভাংচুর এবং ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগ আনা হয়েছে। অন্যদিকে বাস ভাংচুরের অভিযোগে দুপচাঁচিয়া থানায় করা মামলাটি বিশেষ ক্ষমতা আইনে রুজু করা হয়েছে।
এই মুহুর্তে প্রকৃত আসামির সংখ্যা বলা সম্ভব হচ্ছে না, সিসিটিভির ফুটেজ দেখে আসামি শনাক্ত করা হচ্ছে বলেও জানান পুলিশ সুপার।
পুলিশের একটি সূত্র জানায়, মোট চারটি মামলায় বিএনপি'র দুই শতাধিক নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। আরও অনেক কে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, সরকার পতনের এক দফা দাবিতে মঙ্গলবার দুপুরে বিএনপি'র পদযাত্রা কর্মসূচিতে বাধা দেওয়া নিয়ে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ শুরু হয়। দুপুর ১টার দিকে বিএনপি নেতাকর্মীরা শহরের জিরো পয়েন্ট এলাকায় ঢুকতে চাইলে পুলিশ বগুড়া শহরে ইয়াকুবিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এলাকায় তাদের বাধা দেয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পরে পুলিশ বিএনপি নেতাকর্মীদের লক্ষ্য করে টিয়ার শেল, রাবার বুলেট এবং ফাঁকা গুলি বর্ষণ করে। ওই সংঘর্ষের জের ধরে পরে বিএনপি নেতাকর্মীরা শহরের নওয়াববাড়ি এলাকায় সদর পুলিশ ফাঁড়ি ভাঙচুরের চেষ্টা চালায়। এ সময় পুলিশ সেখানেও টিয়ার শেল ও রাবার বুলেট ব্যবহার করে।
দুই দফা সংঘর্ষে পুলিশের ১০ সদস্য আহত হন। আর বিএনপি দাবি করে তাদেরও ২০০ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে অন্তত ৬০জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
একই দিন বগুড়ার দুপচাঁচিয়ায় আওয়ামী লীগ নেতাদের মালিকানাধীন ‘শাহ্ ফতেহ আলী পরিবহন’-এর কয়েকটি বাসও ভাংচুর করা হয়।