বগুড়ায় বহুল আলোচিত আইএইচটি'র ছাত্রলীগ নেতা সজলকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সদর সার্কেল শারাফত ইসলাম।
১২ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) দুপুর ২টায় শেরপুর ছোনকা বাজার থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
এর আগে গত ২৯ আগস্ট দুপুরে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থী ও হোস্টেলের মিল ম্যানেজার আমিনুল ইসলামকে মারধর করলে শিক্ষার্থীরা সজল ঘোষের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ হয়ে সড়ক অবরোধ করেন।
জানা গেছে, শিক্ষার্থীদের দিয়ে সজল ঘোষ পা টিপে নেয়া সহ প্রতিষ্ঠানের একটি কক্ষ নিজ অফিস হিসেবে ব্যবহার করে টর্চারসেল গঠন করেন। দীর্ঘদিনের অত্যাচারের প্রতিফল হিসেবে প্রায় দু ঘণ্টা সড়ক অবরোধ রাখার পর তারা কলেজ ক্যাম্পাসে অবস্থান নেন। তখন থেকেই তারা কলেজের ভিতরে বিক্ষোভ চালিয়ে যান। ছাত্রলীগ নেতা সজল কুমার ঘোষকে গ্রেপ্তার না করতে পারায় ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ধাপে ধাপে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করলে বগুড়া শহরের শেরপুর রোডের দুপাশে কয়েকশ গাড়ির যানযট বেধে যায়। এতে ভোগান্তিতে পড়ে হাজারো মানুষ। তবে অ্যাম্বুলেন্সগুলোকে যাতায়াতের সুযোগ করে দিয়েছিল শিক্ষার্থীরা।
এর আগে ২৯ আগস্ট থেকে তিন দফা দাবিতে ক্লাস বর্জন করে লাগাতার আন্দোলন করছেন আইএইচটি'র শিক্ষার্থীরা। দাবিগুলো হলো বহিরাগত সন্ত্রাসীকে আশ্রয় ও প্রশ্রয়দানকারী অধ্যক্ষ ডা. আমায়াত-উল-হাসিনের অপসারণ, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, ইভটিজিংকারী সজল ঘোষের গ্রেপ্তার ও শাস্তি এবং সকল শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ।
পরবর্তীতে ২ সেপ্টেম্বর ছাত্রলীগ নেতা সজল কুমার ঘোষের বিরুদ্ধে বগুড়া সদর থানায় মামলা করেন শিক্ষার্থী শাহরিয়ার হাসান। গত সোমবার অধ্যক্ষকে সরিয়ে বাগেরহাট নেয় কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার সমালোচিত সেই ছাত্রলীগ নেতাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।