সমাবেশটি ছিল মাদক, সন্ত্রাস, ইভটিজিং ও ভূমিদস্যুতার বিরুদ্ধে। এ ইস্যুতে একাত্মতা জানিয়ে মঞ্চে বসেছিলেন মুক্তিযোদ্ধারা, জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, সাংবাদিক, আইনজীবী, চিকিৎসক, আলেম-ওলামা, শিক্ষক ও রাজনৈতিক নেতাসহ সব শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা; কিন্তু মাদক ও সন্ত্রাস নির্মূলে যারা অগ্রজ ভূমিকা পালন করবেন, সেই জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারই আসেননি এমন একটি অরাজনৈতিক সমাবেশে। আর তাদের অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্নবাণে জর্জড়িত হয়েছেন সমাবেশের উদ্যোক্তা স্থানীয় এমপি শামীম ওসমান। শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিদের মতো তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সমাবেশে আসা প্রায় ২৫ হাজার সাধারণ মানুষ। সমাবেশ শেষে সাধারণ মানুষের অভিমত ছিল- তাহলে নারায়ণগঞ্জের প্রশাসন কি মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত নারায়ণগঞ্জ চান না?
বিষয়টিকে নিজের ৪৫ বছরের রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতি উল্লেখ করে শামীম ওসমান বলেছেন, এমন একটি সমাবেশে আমন্ত্রণ জানানোর পরেও জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার কেন আসেননি, তা সংসদের প্রথম অধিবেশনেই সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে জানতে চাইব। মনে রাখবেন, আমার নাম শামীম ওসমান। আমি মাথানত করি না কিংবা আমি কারও দয়ায় চলি না।
শনিবার বিকালে নারায়ণগঞ্জের ওসমানী স্টেডিয়ামে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
সমাবেশে নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ) ও নারায়ণগঞ্জ-৫ (শহর ও বন্দর) সংসদীয় এলাকার ১২টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও ১১৪ জন মেম্বার, সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর, ৯টি জাতীয় ভিত্তিক ও ৩৩টি জেলা ভিত্তিক ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা, নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাব, সাংবাদিক ইউনিয়ন, নিউজ পেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন, জেলা আইনজীবী সমিতি, শিক্ষক সমিতি, অর্ধশত স্কুল ও কলেজের অধ্যক্ষরা, শিক্ষার্থী, স্বাচিপ, ইমাম সমিতি, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও আলেম-ওলামাসহ সব শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
শামীম ওসমান বলেন, মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, ইভটিজিং ও ভূমিদস্যুতা বন্ধে আজকের এ আয়োজন। এজন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, মন্ত্রিপরিষদ সচিব আমাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। অনেকেই অনেক কিছু করেন, আমরা সব দেখি। নারায়ণগঞ্জের ঘুসের টাকা ধরা পড়ে যাত্রাবাড়ীতে আর মামলা দেখান ফতুল্লাতে। সাংবাদিকরা আমাদের অনেক কিছু জানান। আমাদের নারায়ণগঞ্জ আমরাই ঠিক করব। এখানে উপস্থিত অনেকেই আমাকে জিজ্ঞেস করেছেন যে ডিসি-এসপি কেন আসেননি। রাজনৈতিক জীবনের এ ৪৫ বছরে আজকের মতো এত বিব্রত হইনি।
জেলা প্রশাসক ও জেলা পুলিশ সুপারকে আমন্ত্রণ জানানোর কথা উল্লেখ করে এই সংসদ সদস্য বলেন, নাসিক মেয়রের (ডা. সেলিনা হায়াত আইভী) মতো বলতে পারব না যে প্রশাসন নারায়ণগঞ্জে টাকা কামাতে আসে। জেলা প্রশাসককে বারবার দাওয়াত দিয়েছি। তিনিসহ প্রশাসনের অন্যরা কেন আসেননি, জীবিত থাকলে এ প্রশ্ন সংসদে প্রধানমন্ত্রীর কাছে জিজ্ঞেস করব। এটা আওয়ামী লীগের সরকার, সরকারের আওয়ামী লীগ না। রাজপথ থেকে সৃষ্টি হয়েছি, রাজপথেই শেষ হব। মাথা নোয়াবার মানুষ নই আমি। প্রতিষ্ঠা হতে যাওয়া সংগঠন ‘প্রত্যাশা’র সাড়ে চার লাখ লোক রাস্তায় নেমে যদি বলে আমরা নারায়ণগঞ্জে অমুককে চাই না, তাহলে কিন্তু কেউ থাকতে পারবেন না।
শামীম ওসমান বলেন, আমাদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জন্য নারায়ণগঞ্জ এসে অনেকেই সুযোগ নিয়ে চলে যাচ্ছে। প্রেস ক্লাবে গোলটেবিল বৈঠক আয়োজনের কথা বলেছেন সাংবাদিক নেতারা। আমি অবশ্যই থাকব সেখানে। আমার ছোট বোন মেয়র আইভীসহ অন্যদেরও বলতে চাই, তারাও যেন আসেন। আগামী প্রজন্মের জন্য সুন্দর নারায়ণগঞ্জ রেখে যেতে চাই। মৃত্যুর সময় আমার যাতে ভয় না লাগে।
তিনি আরও বলেন, আপনাদের দোয়ায় আমরা নিষিদ্ধপল্লী উচ্ছেদ করেছি। অনেকে ভেবেছিলেন এর পেছনে কোনো উদ্দেশ্য আছে। পবিত্র কাবা শরিফ ছুঁয়ে এবার আমি ওয়াদা করেছি মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, ভূমিদস্যুতা ও ইভটিজিং বন্ধ করব। নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াতকে নিজে টেলিফোন করেছি। উনি বলেছেন কেন্দ্রের পারমিশন পেলে উনি আসবেন। চরমোনাই নেতাদেরও দাওয়াত করেছি। নাসিক মেয়রকেও দাওয়াত দিয়েছিলাম, হয়তো ব্যক্তিগত কারণে আসতে পারেননি তিনি।
মাদক বিক্রেতাদের ইবলিশ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ওরা অনেক শক্তিশালী। ওদের দুর্বল ভাববেন না। আমি কাল নাও থাকতে পারি। অনুরোধ থাকবে আপনারা বিষয়টি চলমান রাখবেন। ছিঁচকে সন্ত্রাসীদের কারণে ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করতে পারেন না। মাদক থেকেই আসে সন্ত্রাস ও কিশোর গ্যাং। ৯০টি ওয়ার্ডের সাংবাদিক, আলেম, নারী, শিক্ষকদের নিয়ে একটা করে কমিটি করা হবে। যে মাদক খায় সে অসুস্থ, যে বেঁচে সে ইবলিশ শয়তান। আলেমরা অন্তত জুমায় মাদকের বিরুদ্ধে দুই মিনিট কথা বলবেন, শিক্ষকরা ক্লাস নিতে গিয়ে কথা বলবেন। সবচেয়ে বেশি সহযোগিতা চাই সাংবাদিকদের কাছে। তাদের মধ্যেও ভালো-মন্দ আছে। যারা মেইনস্ট্রিম সাংবাদিক তারা কখনই মাদককে সমর্থন করবে না। এরা সবাই চাইলে জেলায় মাদক ও সন্ত্রাস থাকবে না। আমরা মেডিকেল ক্যাম্প করব ঢাকা থেকে বড় বড় চিকিৎসক নিয়ে এসে।
সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন- সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুস সালাম, নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সভাপতি আরিফ আলম দীপু, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট হাসান ফেরদৌস জুয়েল, বিকেএমইএর কার্যকরী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম প্রমুখ।
২৯৭ দিন ১১ ঘন্টা ৮ মিনিট আগে
২৯৯ দিন ৪ ঘন্টা ৪১ মিনিট আগে
৩২২ দিন ৭ ঘন্টা ৩ মিনিট আগে
৩২৯ দিন ২৩ ঘন্টা ৩৩ মিনিট আগে
৩৬১ দিন ২ ঘন্টা ৪২ মিনিট আগে
৩৬৭ দিন ৭ ঘন্টা ৫৫ মিনিট আগে
৩৭৫ দিন ২০ ঘন্টা ২৬ মিনিট আগে
৪০২ দিন ৪ ঘন্টা ৩৩ মিনিট আগে