বোরো ধানের বাম্পার ফলন পেয়ে কৃষক কৃষাণীর মুখে হাসি ফুটছে। সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায় সোনালীধান গোলায় তোলার উৎসব চলছে। এ উৎসবকে কেন্দ্র করে কৃষক ও কৃষাণী ধান কর্তন, মাড়াই ও শুকনা করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। আর এ ধান গোলায় তোলা উৎসবকে ঘিরে জগন্নাথপুর উপজেলার গ্রম-বাংলা এখন মুখরিত। বদলে গেছে দৃশ্যপট। কৃষক ও কৃষাণী মাঠ থেকে পাকা ধান কেটে আনছেন। তারপর বাড়ির আঙ্গিনা, চাতাল ও খোলা প্রান্তরে মাড়াই করা হচ্ছে। মাড়াই করা ধান রোদে শুকানো হচ্ছে। তারপর তোলা হচ্ছে গোলায়।
জগন্নাথপুর নিম্ন জলাভূমি বেষ্টিত উপজেলা। এ উপজেলার অধিকাংশ জমিতে বছরে একটি মাত্র ফসল বোরোধান ফলে। এ ধান দিয়েই অধিকাংশ কৃষকের সারা বছর চলে। তাই কষ্টের ফসল ঘরে তুলতে কৃষক চেষ্টা করছেন।
জগন্নাথপুর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, নলুয়া হাওরের জমি থেকে প্রায় ৯০ ভাগ ধান কাটা সম্পন্ন করেছেন। এখানে শ্রমিকরা কাঁচি দিয়ে ধান কেটে আঁটি বেঁধে বয়ে আনছেন। এ হাওরে সড়ক সংলগ্ন জমির ধান মেশিন দিয়ে কাটা হচ্ছে। এসব ধান খাস খালি জায়গায় ফাঁকা মাঠ, সড়ক, উঠানসহ বিভিন্ন জায়গায় মাড়াই করা হচ্ছে। এ উপজেলার কৃষক ও কৃষাণী ধান ঘরে তুলতে অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন। নতুন ধানের গন্ধে পুরো উপজেলা এখন মাতয়ারা। ধান কাটাকে কেন্দ্র করে শহরের মানুষ গ্রামে আবস্থান করছেন। ধান গোলায় তোলাকে কেন্দ্র করে জগন্নাথপুর উপজেলায় উৎসব চলছে। জগন্নাথপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কাওসার আহমদ বলেন, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ৯৫ ভাগ ধান কাটা শেষ হয়েছে। আশা করছি দুই চার দিনের মধ্যে ধান কাটা শেষ হবে। এবছর জগন্নাথপুরে ২০ হাজার তিনশত হেক্টর জমিতে বোরোধান আবাদ হয়েছে। তবে বোরোধানের বাম্পার ফলনে এবছর লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে।
শ্রীধরপাশা গ্রামের কৃষক শিরু মিয়া বলেন, আমরা নলুয়া হাওর পারের বাসিন্দা। আমাদের জমিতে বছরে একবার মাত্র বোরো ধান ফলে। তারপর সারা বছর জমি পানির নীচে চলে যায়। বোরো ধানই আমাদের প্রধান ফসল। এ ফসল দিয়েই আমাদের সারা বছরের খাবার জোঁটে। বোরো ফসলের বাম্পার ফলন পেয়েছি। এ ফসল ঘরে তুলতে সবাই আপ্রাণ চেষ্টা করছি।
নলুয়া হাওর পারের জগদীশপুর গ্রামের কৃষক আবুল কালাম বলেন, বোরো মৌসুমের শুরুতে আমরা টানের জমিতে ধান রোপণ করে দেই।পরে জেরা জমিতে ধান রোপন করি জেরা জমিতে কোন সেচ, সার ও কীট নাশক ছাড়াই ধান হয়ে যায়। তারপর আমরা ধান কেটে নিয়ে আসি। এ বছর ধানের ফলন ভালো হয়েছে। সব ধান কেটে ঘরে তুলতে পারলে বছরের খাবার হয়ে যাবে। বাড়তি ধান বিক্রি করতে পারব। উপজেলার বিভিন্ন হাওরে কম্বাইন্ড হারভেস্টার মেশিনে ধান কাটায় তারাতাড়ি হয়েছে। শ্রমিক সংকটের কারনে নীচু জমিতে ধান কাটতে দেরী হয়েছে না হয় আরও আগেই শেষ হয়ে যেত।
৫১ দিন ১৫ ঘন্টা ১ মিনিট আগে
৫৮ দিন ২২ ঘন্টা ৫১ মিনিট আগে
৭৩ দিন ১৪ ঘন্টা ২৯ মিনিট আগে
৮৩ দিন ১০ ঘন্টা ১৭ মিনিট আগে
৮৩ দিন ১০ ঘন্টা ২০ মিনিট আগে
১০৩ দিন ১৬ ঘন্টা ২১ মিনিট আগে
১১৫ দিন ১৭ ঘন্টা ২৭ মিনিট আগে
১১৫ দিন ১৭ ঘন্টা ৩৫ মিনিট আগে