বন্যা এ দেশে নতুন কোন ঘটনা নয়। প্রতিবছরই কোন না কোন এলাকা বন্যা কবলিত হয়। প্রবল বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলের পানিতে এই বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এই ভারী বর্ষণে ঘরবাড়ি থেকে শুরু করে মসজিদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া দেশের বিভিন্ন উপজেলায় বন্যার খবর পাওয়া গেছে। সব চেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সুনামগঞ্জ জেলার মানুষ। জগন্নাথপুর উপজেলার কয়েকটি গ্রাম বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। জুন মাসের প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ী ঢলে দেশের বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে করে চরম দুর্ভোগে পড়েছে বন্যা কবলিত এলাকার মাননুষগুলো। টানা বৃষ্টিতে জগন্নাথপুরে পানি বন্দী লাখো মানুষ।
জগন্নাথপুর উপজেলার কলকলিয়া ইউনিয়ন, চিলাউড়া হলদিপুর, জগন্নাথপুর পৌরসভা, মিরপুর, পাটলি, রানীগঞ্জ, আশারকান্দি, পাইলগাঁও, সৈয়দপুর শাহারপাড়া ইউনিয়ন বন্যায় প্লাবিত হয়ে এসব এলাকার মানুষ চরম ভোগান্তিতে পরেছেন। উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় উপজেলা সদরের সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্ধি হয়ে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। উপজেলার কলকলিয়া ইউনিয়নের সফাত উল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয় জগদীশপুর বন্যাকাম আশ্রয় কেন্দ্র, জগন্নাথপুর আব্দুস সামাদ আজাদ অডিটোরিয়ামসহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র গুলো গুলো খোলে দেয়া হয়েছে। বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র গুলোতে বন্যা কবলিত অসহায় মানুষ নিরাপদ আশ্রয় নিতে শুরু করেছে।
উপজেলার কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বন্যাকে পুঁজি করে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে বিদ্যুৎ না থাকায় বেশী দাম বৃদ্ধি পেয়েছে কেরোসিন ও মোমবাতি। স্থানীয়রা জানান, অতিবৃষ্টি ও বন্যার পানি রাস্তা তলিয়ে যাওয়ায় কোথাও যাতায়াত করতে পারতেছিনা। যাতায়াত ব্যবস্থা ভাল না হওয়ায় ত্রান সামগ্রী পাচ্ছেন না। অনেকের ঘরে চাল ডাল থাকার পরও বৃষ্টির কারনে আগুন জ্বালানোর সুযোগ পাচ্ছেনা ফলে রান্না করে খেতে পারছেনা।
পানি বন্দি অসহায় মানুষ। কিন্তু জনপ্রতিনিধিদের ভুমিকা হতাশা জনক। সফাত উল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয় জগদীশপুর বন্যাকাম আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়া একাধিক অসহায় লোকজন কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, নির্বাচন আসলে পরে আমরা ঘুমাইতে পারিনা মেম্বার চেয়ারম্যান মহিলা মেম্বারনির প্রচারনার কারনে আমরা চার দিন হয় আশ্রয় কেন্দ্রে স্থানীয় চেয়ারম্যান, মেম্বার, মেম্বারনি আমাদের কোন খোজখবর নেননি। আমরা কোন অবস্থায় আছি। জগন্নাথপুরের জগদীশপুর গ্রামের গরীব ও অসহায় মানুষের বন্ধু জননন্দিত সমাজ সেবক ছদরুল আমিন তালুকদার বলেন, বিগত ২০২২ সালের ১৭ জুন বন্যায় প্লাবিত হয়েছিল এদেশ। এবছরও জুন মাসে বিগত বছরের ন্যায় বন্যা ভয়ানক রুপ নিচ্ছে। বন্যায় পানি বন্দি হয়ে গরীব অসহায় মানুষ অনাহারে অর্ধাহারে অতি কষ্ঠে দিনাতিপাত কাটাচ্ছে। অসহায় মানুষের সাহায্যার্থে সমাজের বিত্তবান মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
সরেজমিনে দেখা যায়, পানি বাড়ায় উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের প্রধান প্রধান সড়ক পানিতে তলিয়ে যায়। বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় উপজেলা প্রশাসন উদ্ধার কাজে মাঠে কাজ করছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল বশিরুল ইসলাম বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় মানুষদের আশ্রয় কেন্দ্রে পাঠানো হচ্ছে। বাজারে অসাধু ব্যবসায়ীদের কারনে দ্রব্যমুল্যের উর্ধ্বগতি বাজার নিয়ন্ত্রণ ও বেশী দামে পন্য বিক্রি করার ব্যবস্থা নেয়া হবে।
৫১ দিন ১৫ ঘন্টা ১ মিনিট আগে
৫৮ দিন ২২ ঘন্টা ৫১ মিনিট আগে
৭৩ দিন ১৪ ঘন্টা ২৯ মিনিট আগে
৮৩ দিন ১০ ঘন্টা ১৭ মিনিট আগে
৮৩ দিন ১০ ঘন্টা ২০ মিনিট আগে
১০৩ দিন ১৬ ঘন্টা ২১ মিনিট আগে
১১৫ দিন ১৭ ঘন্টা ২৭ মিনিট আগে
১১৫ দিন ১৭ ঘন্টা ৩৫ মিনিট আগে