সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে ভারী বর্ষন আর পাহাড়ি ঢলে আবারো প্লাবিত হয়েছে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার নিম্নাঞ্চল। সুরমা, যাদুকাটা, কুশিয়ারা, নলজুর, ডাউকা, কালনী নদীসহ সকল নদ-নদীর পানি বাড়ছেই। আজ এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত, সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার ১২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।
ঢলের পানিতে প্লাবিত হয়েছে জগন্নাথপুর, দিরাইসহ বিভিন্ন উপজেলার নিম্নাঞ্চল। পাহাড়ি ঢলে ডুবছে গ্রামীন হাটবাজার, ঘর-বাড়ি, রাস্তা-ঘাট। এতে আবারো বন্যার দুর্ভোগে পড়েছে জগন্নাথপুরবাসী।
এদিকে, সুনামগঞ্জ জেলা শহর ও আশপাশ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বন্যার পানি আবারো বাড়ছে। গত শুক্রবার থেকে ভারতের মেঘালয়ে ভারি বৃষ্টি শুরু হওয়ায় এমন উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জুলাই মাসের শুরুর দিকে সিলেট- সুনামগঞ্জ জেলার সুরমা, কুশিয়ারা, নলজুর, ডাউকা, কালনী নদীসহ বিভিন্ন নদীর পানি বেড়ে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
যাদুকাটা নদী দিয়ে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে ডুবে গেছে তাহিরপুর-বাদাঘাট সড়ক, জেলার বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার শক্তিয়ার খলা-কৈয়ারকান্দা সড়ক। এছাড়া তাহিরপুর উপজেলার আনোয়ারপুর সড়ক পানিতে ডুবে যাওয়ায় ও শক্তিয়ার খলায় সড়ক ভেঙে যাওয়ায় সুনামগঞ্জ জেলার শহরে যাতায়াতে দুর্ভোগে পড়েছেন বিশ্বম্ভরপুর, তাহিরপুর, মধ্যনগর ও ধর্মপাশা উপজেলার চলাচলকারীরা। বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার বাঘমারা থেকে তাহিরপুরের আনোয়ারপুর পর্যন্ত নৌকা দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। সাচনাবাজার সুনামগঞ্জ সড়কের নিয়ামতপুর-ইচ্চার চরের মাঝখানে নতুন ব্রিজের ডাইভারসনে হাঁটু ও উরু পানিতে চলছে ছোট নৌকা।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, ঢলের কারণে রোববার থেকে থেমে থেমে বৃষ্টি হওয়ার কারণে সুরমা নদীর পানি ছাতক পয়েন্টে বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। সিলেট ও সুনামগঞ্জের বাকি সবগুলো নদনদীর পানিই বাড়ছে।
এদিকে, টানা কয়েক দিনের ভারি বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে জগন্নাথপুর উপজেলার কান্দারগাঁও, নোয়াগাঁও, তেলিকোনা, কামারখাল, গলাখাল, শ্রীধরপাশা, জগদীশপুর,কাদিপুর, সাদিপুরসহ বেশ কয়েকটি এলাকার রাস্তাঘাট। এমনকি ঢলের পানিতে কান্দারগাঁও, নোয়াগাঁও চন্ডিডহর তেলিকোনা-কলকলিয়া সড়কের প্রায় জায়গায়ই ডুবতে শুরু করেছে। এতে উপজেলা শহরের সাথে সরাসরি সড়কপথে যোগাযোগ বিছিন্ন হয়ে পড়েছে।
অপরদিকে জগন্নাথপুরসহ জেলার বেশ কয়েকটি উপজেলার নিম্নাঞ্চলের গ্রামীণ সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় আবারো ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে নিম্নাঞ্চলের লাখো মানুষ। পর পর দুইবার পানি বাড়ায় নাজেহাল হয়ে পড়েছে নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের জীবন।
জগন্নাথপুর উপজেলার সংবাদকর্মী মো: আক্তার হোসেন বলেন, ‘গত কয়েক দিনের বন্যায় মানুষে কষ্ট এখনো শেষ হয়নি। এখন আবারো সুরমা, কুশিয়ারা, নলজুর ও ডাউকা নদী দিয়ে নামছে ঢল, বাড়ছে নদীর পানি। বন্যার পানি না কমা পর্যন্ত এলাকার মানুষের অবস্থা নাজেহাল হয়ে পড়ছে।’
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, ‘সুনামগঞ্জে নদ-নদীর পানি এরইমধ্যে বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে ভারতের চেরাপুঞ্জিতে বৃষ্টি কমে গেলে সুনামগঞ্জের নদ-নদীর পানি কমে যাবে। আর এখন যেহেতু পানি বাড়ছে সেক্ষেত্রে জেলায় স্বল্পমেয়াদী একটা বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।
তিনি জানান, ছাতকে সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমার ২৩ সেন্টিমিটার ও তাহিরপুরের যাদুকাটা নদীর পানি বিপৎসীমার ৯৬ সেন্টিমিটারের উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল বশিরুল ইসলামবলেন, বন্যা পরিস্থিতিতে আমরা সতর্ক অবস্থানে আছি। উপজেলায় বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রগুলো খোলা রয়েছে। যেকোনো প্রয়োজনে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
৫১ দিন ১৫ ঘন্টা ১ মিনিট আগে
৫৮ দিন ২২ ঘন্টা ৫১ মিনিট আগে
৭৩ দিন ১৪ ঘন্টা ২৯ মিনিট আগে
৮৩ দিন ১০ ঘন্টা ১৭ মিনিট আগে
৮৩ দিন ১০ ঘন্টা ২০ মিনিট আগে
১০৩ দিন ১৬ ঘন্টা ২১ মিনিট আগে
১১৫ দিন ১৭ ঘন্টা ২৭ মিনিট আগে
১১৫ দিন ১৭ ঘন্টা ৩৫ মিনিট আগে