খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলার গোমতী ইউনিয়নে ৩ কি.মি. সড়ক নির্মাণে নিন্মমানের পাথর দিয়ে সড়কের কার্পেটিং করা হচ্ছে। সড়ক নির্মাণে অনিয়ম নিয়ে স্থানীয়রা উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরে মৌখিক অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার পাচ্ছেন না। এ নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।
ওই সড়কের তদারকির দায়িত্বে রয়েছেন সাব স্টেশন ইন্জিনিয়ার সুশবন চাকমা। তাকে সড়ক কার্পেটিংয়ে কতোটুকু পরিমান বিটুমিন ওয়ার্ক অর্ডারে ধরা আছে এবং কতোটুকু দিচ্ছে জিজ্ঞেস করলে তিনি কোন উত্তর দিতে পারেননি। বরং উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলতে বলেন তিনি।
সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল দপ্তরের আওতায় গোমতী আলীম রাইটার পাড়া থেকে বড়কুচি পাড়া সড়কের রক্ষণাবেক্ষণ প্রকল্পের ৩ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের জন্য বিকাশ এন্ড সন্স ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান সড়কের কাজ পায়।
শুক্রবার দেখা যায়, সড়কটির কাজ চলমান রয়েছে। তবে সড়কে ১৬,১২,৬ মিলিমিটার ভাঙ্গা পাথর ও উন্নতমানের ডাস্ট দিয়ে কাজ করার কথা থাকলেও তা করা হচ্ছে না।ডাস্টের বদলে পাথরের গুড়া সম্বলিত ডাস্ট দিয়ে কার্পেটিং করা হচ্ছে। তাছাড়া পাথর ও বিটুমিন মেশানো স্থানে গিয়ে দেখা যায়, কোথাও পাথরের সঠিক মাপের পাথর নেই। গোল গোল পাথর দিয়েই চলছে কার্পেটিংয়ের কাজ। এবং প্রচুর পরিমাণে ময়লা আর্বজনায় মেশানো ডাস্ট। বিটুমিনের পরিমানও খুবই অল্প।
প্রকৌশলীদের মতে, সড়কে পরিস্কার ডাস্ট না দিলে সড়কের ফিনিসিং খারাপ হয়। এবং ভাঙ্গা পাথর না দিলে বিটুমিনের সাথে পাথরের জয়েন্ট থাকে না। এতে সড়ক নির্মাণের কিছুদিন পর থেকেই সড়ক থেকে পাথর উঠে যায়। তাই সড়ক অব্যশই সঠিক পরিমাপের ভাঙ্গা পাথর দিয়ে নির্মাণ করতে হবে।
ওই সড়ক এলাকার বাসিন্দা, মনির হোসেন সহ একাধিক ব্যক্তি জানান, সড়কটির সংস্কার হচ্ছে কিন্তু কাজটি ভালো হচ্ছে না। সড়কটি যেনতেন ভাবে ময়লা পরিস্কার করে কার্পেটিং করছে। এ নিয়ে বিভিন্ন স্থানে মৌখিক অভিযোগ করেও কোন কাজ হচ্ছে না ওই পাথর দিয়েই সড়কের নির্মাণ কাজ ইতোমধ্যে হয়ে গেছে।
গোমতী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ তোফাজ্জল হোসেন বলেন, আমার কাছেও ঐ এলাকার স্থানীয় লোকজন সড়ক কার্পেটিং কাজের অনিয়মের বিষয়ে অভিযোগ করেছিল অসুস্থতার কারণে আমি ঘটনাস্থলে যেতে পারিনি।
বিকাশ এন্ড সন্স ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি বিমল ত্রিপুরার কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা ১২,৬ মিলিমিটার পাথর দিয়ে কাজ করছি, ডাস্টে কোন ময়লা নেই, ডাস্ট মানেই পাথরের গুরা।
এবিষয়ে জানার জন্য উপজেলা প্রকৌশলী মো: শাহাজাহানকে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত কয়েকবার তার অফিসে গিয়েও তাহাকে পাওয়া যায়নি। অফিস খোলার দিনেও উপস্থিতির অনিয়ম করে যাচ্ছেন।
পরবর্তীতে তিনি আসলে তার কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে বলেন, তিনি এ বিষয়ে কোন কথা বলবেন না। আগে তার মতো ইন্জিনিয়ার হয়ে আসতে তারপর এবিষয় নিয়ে নিউজ করিয়েন। কোন কাজে অনিয়ম হয়নি। পজেটিভ লিখলে তিনি কথা বলবেন। বলে তার অফিস থেকে সাংবাদিকদের বাহির হয়ে যেতে বলেন এবং যা মন চায় তাই লিখতে বলেন তিনি।
মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ডেজী চক্রবর্তী বলেন, এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
২৬ দিন ২২ ঘন্টা ৩৬ মিনিট আগে
৩২ দিন ২১ ঘন্টা ৫৫ মিনিট আগে
২১৮ দিন ৬ ঘন্টা ২০ মিনিট আগে
৩৪৩ দিন ২৩ ঘন্টা ৫৯ মিনিট আগে
৩৬৩ দিন ৫ ঘন্টা ১৮ মিনিট আগে
৩৭৮ দিন ৪ ঘন্টা ৩৬ মিনিট আগে
৪১৭ দিন ২২ ঘন্টা ১৬ মিনিট আগে
৪১৭ দিন ২২ ঘন্টা ২৩ মিনিট আগে