শরীয়তপুরের সখিপুর থানাধীন চরভাগা ইউনিয়নের মমিনআলী মোল্লার বাজারে ৩০ আগষ্ট সকালে বিএনপি'র সাবেক যুগ্ম আহবায়ক মানিক উদ্দিন বকাউল এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। এ সংবাদ সম্মেলনে তিনি ২০০৮ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত স্বৈরাচারী আওয়ামী সরকার কর্তৃক চরভাগা বি.এন.পি. নেতাকর্মীদের উপর দুঃশাসন ও পাশবিক নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরেন এবং আলামত হিসেবে তার উপর হামলায় তার ক্ষত বিক্ষত পোশাকটি দেখাতে গিয়ে ডুকরে কেঁদে উঠেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন- ২০০৮ সাল হতে আওয়ামীলীগ যখন ক্ষমতায় আসে তখন আমি ৮ মাস যাবত নিজ বাড়ীতে থাকতে পারি নাই। দীর্ঘদিন প্রিয় নেতা শফিকুর রহমান কিরণ'র অফিসে থাকার পর আওয়ামী নির্যাতন একটুখানি কমিয়ে দিলে নিজ বাড়ীতে ফিরে এসে রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করি। তখন আমাদের এলাকার তারাবুনিয়া, চরভাগা নদীতে প্রায় ৫০০০ ঘরভাড়ী নদীগর্বে বিলীন হয়। এমতাবস্থায় প্রিয় নেতার নির্দেশে আমরা ৫০০০ হাজার পরিবারের জন্য ত্রান-সামগ্রী দেওয়ার উদ্যেগ নেই, তখন সখিপুর থানা পুলিশের কাছ থেকে মৌখিক অনুমতি নিয়ে আমরা সখিপুর আমাদের নেত্রীবৃন্দ জড়ো হতে থাকি। এমতাবস্থায় সখিপুরের চেয়ারম্যান ও আওয়ামীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক সন্ত্রাসী মানিক সরদার এর নেতৃত্বে আমার উপরে অমানবিক এবং পাশবিক হামলা করে আমাকে হেনস্থ করে শারীরিক ভাবে নির্যাতন করা হয়। এবং আমার গায়ের জামা কাপড় ছিড়ে ফেলে আমাকে অনেক মারধর করে। যাহা যুগান্তর পত্রিকায় প্রচার করা হয়েছে। এই সংবাদ যখন প্রিয় নেতার কাছে পৌঁছায় তখন তিনি চাঁদপুর থেকে তারাবুনিয়ার উদ্যেশে রওয়ানাকৃত ট্রলার নিয়ে মাঝ পথে আটকে যায়। তখন আওয়ামী সন্ত্রাসী বাহিনী তারাবুনিয়াতে গিয়ে আমাদের নেতাকর্মীদেরকে ব্যাপক মারধর করে আমাদের ত্রান ছিনিয়ে নিয়ে যায়, তখন প্রিয় নেতা ত্রান কার্যক্রম স্থগিত করে ঢাকা চলে যান। অতঃপর ২০১৮ সালের ৩০ শে ডিসেম্বর জাতীয় নির্বাচনের তারিখ ঘোষনা করিলে তখন নেতার নির্দেশ মোতাবেক নির্বাচন পরিচালনার জন্য বিভিন্ন ইউনিয়নে গনসংযোগ শুরু করি। তথাকথিত আওয়ামী সন্ত্রাসী ০৩/১২/২০১৮ ইং তারিখে সখিপুর থানার ০২/১৪৩ নং মামলার বাদী হন উত্তর তারাবুনিয়া নিবাসী শেখ মোহাম্মদ মানিক। ঐ মামলার মোট আসামীর সংখ্যা ছিলো ২৭ জন এবং আমাকে উক্ত মামলার ১৫ নং আসামীকরা হয়। আমি মোঃ মানিক উদ্দিন বকাউল সহ আমাদের সকল নেতাকর্মীদেরকে প্রিয় নেতা মহামান্য হাইকোর্ট থেকে জামিনে আনার ব্যবস্থা করেন। তাহার ১৮ দিন পর সখিপুর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মানিক সরকার বাদী হয়ে সখিপুর থানায় আরেকটি মামলা দায়ের করেন যাহার মামলা নং ১০/১৫১ নং মোট আসামীর সংখ্যা ছিলো ৫৬ জন এবং আমি ঐ মামলার ৫২ নং আসামী ছিলাম। এমতাস্থায় মহামান্য হাইকোট থেকে আগাম জামিনের বেঞ্চ ভেঙ্গে দেয়। তখন আমরা আর হাজিরা দিতে পারলাম না। তখন নির্বাচনের বাকী থাকে মাত্র ০৯ দিন। প্রিয় নেতা দিশেহারা হয়ে আমাদের কি করবে সেটা ভেবে খুব চিন্তিত হয়ে পড়েন। তখন আমাদেরকে নির্দেশ দেন যেকোনো কিছুর বিনিময়ে হোক না কেনো আমাদের বি.এন.পির সকল নেতাকর্মী যার যার অবস্থানে কার্যক্রম চালাতে হবে। আমি তাহার নির্দেশ মোতাবেক ২৭/১২/২০১৮ ইং তারিখে তাহার সাথে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করে রাত আনুমানিক ০২ টার দিকে চাঁদপুর হয়ে আমি আমার নিজ বাড়ীতে পৌছাই। এবং ২৮ তারিখ সকালে আমি আমার বাড়ী থেকে বিভিন্ন দলীয় লোকজন ডেকে এনে নেতার নির্দেশনা প্রদান করি। তখন হঠাৎ করে আওয়ামী সন্ত্রাসী গুন্ডাবাহিনী এবং সাথে ৪০-৫০ জন পুলিশ নিয়ে আমার নিজ বাড়ী ঘিরে ফেলে। আমার হাতে থাকা নির্বাচনী এজেন্টের একটি তালিকা থাকার কারনে আমি ঘর থেকে বাহিরে দৌড় দেই। তখন দেখি আওয়ামী সন্ত্রাসীবাহীনি চতুর দিকে আমাকে ঘিরে ফেলেছে তখন সখিপুর থানার পুলিশ আমাকে আটক করে সাথে সাথে শরীয়তপুর জেলা কারাগারে চালান করে। অতঃপর নির্বাচনের ২ দিন পর আমি জামিনে আমার নিজ বাড়িতে আসি। এসে আবার রাজনৈতিক কার্যক্রম চালাতে থাকি। তখন আওয়ামী সন্ত্রাসীরা আমার উপরে সামাজিক এবং রাজনৈতিক স্টীম রোলার চালাতে থাকে, তখন আমি প্রিয় নেতাকে সকল বিষয়ে অবগত করি। এবং রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করি। এমতাস্থায় আমি আমার ব্যবসা পরিচলানার জন্য আমার বাজারের ভিটা এবং জমি বন্ধক রেখে কার্তিকপুর ন্যাশনাল ব্যাংক থেকে মটগেজ রেখে ২০ লক্ষ টাকা নগদ লোন এবং ১০ লক্ষ টাকার ব্যাংক গ্রান্টি মোট ৩০ লক্ষ টাকা ন্যাশনাল ব্যাংক পিএলসি (কার্তিকপুর শাখা) আমার অনুকুলে প্রদান করেন। আমি যখন ব্যবসা করে জীবন জীবিকার প্রয়োজনে ব্যাবসার পরিধি একটু বৃদ্ধি করি, তখন আমাকে বিভিন্ন ভাবে হুমকি দিতে থাকে এবং ব্যবসা বন্ধ করে আমাকে দেশ ছাড়ার হুমকি দেয়। এমতাস্থায় রমজান মাসে থানা বি.এন.পির সদস্য সচিব মাজহারুল ইসলাম সরদার ফোন করে আমার দোকানে ইফতার করবে বলে আমাকে অবগত করেন। আমি আমার ইউনিয়ন বি.এন.পির সভাপতি জনাব জহিরুল ইসলাম বেপারীর সাথে পরামর্শ করে আমার নিজ প্রতিষ্ঠানে ছোট পরিসরে ইফতারের ব্যবস্থা করি। সেখানে তারাবুনিয়ার মোতালেব মালসহ বিভিন্ন নেতাকর্মী ইফতার করেন। যাহা সোশাল মিডিয়া ফেইসবুকে ছবি আপলোড করা হয়। তখন আওয়ামী সন্ত্রাসীবাহিনী আমার উপর হামলা করার ছক তৈরি করে। এমতাবস্থায় আমাদের বকাউল পরিবারের ঢাকাস্থ মুরুব্বিগণ ৫০০ কম্বল বিতরন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিলে তাহা আমি সকল ওয়ার্ডে বন্টন করে দেই। এবং কিছু কম্বল আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বসে হতদরিদ্রের মাঝে বিতরন করি। তাহার একদিন পরেই আমার দোকানে শরীয়তপুর ০২-আসনের এম.পি ও বাংলাদেশ পানি সম্পদ মন্ত্রনালয়ের সাবেক উপমন্ত্রী এনামুল হক শামীমের নির্দেশে কিছু আওয়ামী সন্ত্রাসীরা আমার দোকানে অতর্কীত হামলা করে এবং আমার দোকানের ৫-৭ লক্ষ টাকার মালামাল লুট করে। অতঃপর দোকানে তালা মেরে দোকানটি বন্ধ করে চাবীগুলো আওয়ামী সন্ত্রাসীরা নিয়ে যায়। আমি বাজার থেকে পালিয়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেই। এর কিছুক্ষন পরই আমাদের কাছে সংবাদ আসে সখিপুর থানায় আমাদের বিরুদ্ধে একটি চাদাবাজীর মামলা দায়ের করেন। যাহার মামলা স্বারক নং ১৪৮২(৩)/১। যাহার বাদী চরভাগা ইউনিয়নের সেচ্ছাসেবকলীগের সাধারন সম্পাদক বিল্লাল বেপারী এবং আসামী মানিক বকাউল, সরোয়ার মোল্যা, শাহালম সরকার, সোহাগ প্রধানিয়াসহ অজ্ঞাত ২০-২৫ জন। ঐ রাত্রেই প্রিয় নেতার নির্দেশে তারাবুনিয়া দিয়ে দীঘীর পাড় হয়ে ঢাকা চলে যাই। ঢাকা গিয়ে নেতার নির্দেশ মোতাবেক অবস্থান করি। ভাগ্যের নির্মম পরিহাস করোনাকালীন সমেয়ের কারনে প্রিয় নেতা অনেক চেষ্টা করে ও হাইকোর্ট বন্ধ থাকার কারনে আমাদের জামিন করাতে পারলো না। ঠিক তখনই একের পর এক বাড়ী থেকে দুঃসংবাদ আসতে থাকে যে বাজারে পশ্চিম পাশে আমার দোকান ঘরটি দখল হয়ে যায়। ঐ আওয়ামী সন্ত্রাসীদের হাতে, এবং আমার ভাগিনা মোহাম্মদ আলী বকাউল এর নিকট একটি ঘর ভাড়া থাকা অবস্থায় তাহার দোকানের আসবাবপত্র বাহির করিয়ে নিয়ে যাবে বলে চাপ দিতে থাকে। এমন সময় কার্তিকপুর ন্যাশনাল ব্যাংক থেকে নোটিশ প্রদান করেন ৩০ দিনের ভিতরে আপনার লোনের সমুধয় টাকা ফেরত প্রদান করতে অনুরোধ জানানো হল, যদি এই সময়ের ভিতর আমি টাকা পরিশোধ করিতে না পারি তাহলে ব্যাংকের নিয়ম মোতাবেক আমার ভূমি ও ভিটা নিলামে বিক্রি করে দিবে। এমতাবস্থায় আমি দিশেহারা হয়ে পড়ি। এক পর্যায় আমার সম্পত্তি রক্ষার স্বার্থে আমি তাহাদের নেতার সাথে সমঝোতা করতে বাধ্য হই। যাহা অনেকেরই অজানা। আমি যখন বিভিন্ন সময় তাহার সাথে দেখা করিতে না যাইতাম তখনই আমার উপরে হুমকি এবং চাপ শুরু হইতো। এমতাবস্থায় আমি একটু যাতায়াত কম করায় আমার বিরুদ্ধে সখিপুর থানায় আরেকটি চাঁদাবাজির মামলা করা হয়। যাহার মামলা নং ০১/১৮৮, যাহার বাদী চরভাগা ০৪ নং ওয়ার্ড নিবাসী গিয়াসউদ্দিন। মামলার আসামী আমি সহ আরো ১০ জন। উক্ত মামলা করে আমাকে কাবু করে ফেলে এবং তাহার গুনকীর্তন করার নির্দেশ প্রদান করেন। যদি না করি তাহালে আমাকে প্রত্যেকটি মামলার ভয়ভীতি দেখিয়ে রাখে। এবং বি.এন.পির সমস্থ লোকজন আমার দোকানে বিভিন্ন সময়ে চা, খাওয়ার অযুহাতে গোপনে রাজনৈতিক আলাপ আলোচনা চলমান থাকতো। যাহা চরভাগা ইউনিয়ন বি.এন.পির সমস্থ অঃসংগঠন অবগত আছেন। আমার দ্বারা চরভাগা বি.এন.পির এমন একজন নেতাকর্মী বলতে পারবে না যে, কেহ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন। যখন চাঁদাবাজির মামলাটি মিথ্যা প্রমানিত হয়েছে তখন সখিপুর থানা যুবলীগের আহবায়ক কুখ্যাত ডাকাত, চোর খালেক খালাসী যাকে নতুন বাজার চুরির দায়ে ১০০ জুতা মারার রায় হয়েছিল; তার নির্দেশে যুবলীগ নেতা মোহাম্মদ আলী, পিতাঃ গিয়াসউদ্দিন, চরভাগা ০৪ নং ওয়ার্ড, শরীয়তপুর জেলা দায়রা আরেকটি চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেন। এবং ঐ আগের মামলাটি না-রাজি দেন। যাহার মামলা নং সি.আর-৪১০/২০২৩। যাহার তদন্ত ডিবি কর্মকর্তার উপর ন্যস্ত করেন। বর্তমানে ০২ টি চাঁদাবাজির মামলা আমার বিরুদ্ধে চলমান আছে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে হাসিনার পতন হলে সকল সন্ত্রাসীরা গা ঢাকা দিয়েছেন। আমি একজন নির্যাতিত বি.এন.পির কর্মী হিসেবে এর সুষ্ঠ তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করার জন্য গণমাধ্যম ও আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নড়িয়া সখিপুরের গনমানুষের প্রিয় নেতা জনাব, সফিকুর রহমান কিরন সাহেব সহ সকল নেতৃবৃন্দদের সহযোগিতা কামনা করছি।
৫ দিন ১৪ ঘন্টা ৪২ মিনিট আগে
৭ দিন ৮ ঘন্টা ৩১ মিনিট আগে
৮ দিন ৬ ঘন্টা ১৬ মিনিট আগে
৮ দিন ৬ ঘন্টা ২১ মিনিট আগে
৮ দিন ১৩ ঘন্টা ১২ মিনিট আগে
১৪ দিন ১৫ ঘন্টা ৬ মিনিট আগে
১৯ দিন ৫ ঘন্টা ৩৫ মিনিট আগে
১৯ দিন ৮ ঘন্টা ২ মিনিট আগে