বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নিয়ে ৫ আগষ্ট আহত হয়ে দীর্ঘদিন বিছানায় কাতরাচ্ছিলেন শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার ঘড়িষারের আরিফ দেওয়ান (১৮)। তাকে নগদ আর্থিক সহায়তা ও চিকিৎসা সংক্রান্ত সমস্ত ব্যয় বহনের দায়িত্ব নেন ডা. আব্দুর রাজ্জাক। ডা. আব্দুর রাজ্জাক শরীয়তপুর জেলার সখিপুর থানার তারাবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সহকারী সার্জন হিসেবে কর্মরত আছেন।
বছর খানেক আগে পরিবারের অভাব ঘোঁচাতে ঢাকা পাড়ি জমান পরিবারের একমাত্র ছেলে আরিফ (১৮)। ৫ আগষ্ট স্বৈরাচার পতনের লং মার্চে অংশ নিয়ে গুলিস্তান জিরো পয়েন্টে পৌছালে দুর্বৃত্তদের হামলায় তার পায়ের রগ ও মাংস আলাদা হয়ে যায়। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেলে নেওয়া হলে আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা করাতে পারছিলেন না তার পরিবার। এই ঘটনাটি দেশচিত্রের প্রতিনিধি মোঃ মাহবুব আলম তার সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইলে শেয়ার করলে ডা. আব্দুর রাজ্জাক এ বিষয়ে অবগত হন। তৎক্ষনাৎ এই চিকিৎসক যোগাযোগ করে আহত আরিফের সাথে দেখা করা ও তাকে সাহায্য করার কথা ব্যক্ত করেন।
মঙ্গলবার রাতে ডা. আব্দুর রাজ্জাক স্থানীয় সাংবাদিক ও বসুন্ধরা শুভসংঘের সদস্যদের নিয়ে আহত আরিফের বাসায় যান। আরিফ থেকে ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ শোনেন এবং তার চিকিৎসার রিপোর্টগুলো দেখেন। আরিফের বাবা তার পরিবারের বর্তমান পরিস্থিতি ও চিকিৎসা ব্যয় সম্বন্ধে জানান।
ডা. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আমি তার সবগুলো রিপোর্ট দেখেছি। এখন থেকে সুস্থ হওয়া পর্যন্ত আরিফের ওষুধসহ চিকিৎসার সমস্ত ব্যয় আমি বহন করব। প্রতি মাসের ওষুধটা আমি নিজ হাতে তাকে কিনে দিয়ে যাব। সেই সাথে তার পুরো পরিবারের কেউ যদি ঘড়িষার ডিজিটাল হাসপাতালে আমার চেম্বারে যায় সেখানে আমি বিনা ভিজিটে তাদের চিকিৎসা সেবা দিব। এছাড়া অন্যান্য অসুবিধার ক্ষেত্রেও আমরা পাশে থাকার চেষ্টা করব।
তিনি আরও বলেন, প্রথমে আরিফকে তার ত্যাগের জন্য ধন্যবাদ জানাই। মানুষ বিভিন্নভাবে পা হারান কেউ দূর্ঘটনা বা এক্সিডেন্টে পা হারান কিন্তু সে দেশের স্বার্থে, দেশকে বৈষম্যমুক্ত করতে যেয়ে আজ আহত হয়ে পা দিয়ে হাটতে পারছেননা। তার এই আত্মত্যাগের বিনিময়ে ঘড়িষারবাসীসহ সারা দেশের মানুষ ভালো থাকব। এমনটাই কামনা করি।
আরিফের পরিবার জানান, স্যাররা এসে আমার ছেলের খোজ খবর নিয়েছে এতেই আমরা খুশি। রাজ্জাক স্যার আমার ছেলের চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছেন, স্যারের জন্য আজীবন দোয়া থাকবে।
৫ দিন ১৪ ঘন্টা ৪৪ মিনিট আগে
৭ দিন ৮ ঘন্টা ৩৩ মিনিট আগে
৮ দিন ৬ ঘন্টা ১৭ মিনিট আগে
৮ দিন ৬ ঘন্টা ২২ মিনিট আগে
৮ দিন ১৩ ঘন্টা ১৪ মিনিট আগে
১৪ দিন ১৫ ঘন্টা ৭ মিনিট আগে
১৯ দিন ৫ ঘন্টা ৩৬ মিনিট আগে
১৯ দিন ৮ ঘন্টা ৩ মিনিট আগে