নাহিদ সরদার—৪০ বছরের এক অসহায় মানুষ। শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার ঘড়িষার ইউনিয়নের সুজাবাজ গ্রামে একটি ভাঙা ছোট ঝুপড়িতে তার জীবন কেটেছে দুর্বিষহ কষ্টে। হার্টের রোগে আক্রান্ত নাহিদ দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। তার অসুস্থ শরীর আর ভাঙা ঘর যেন প্রতিনিয়ত একসঙ্গে ধসে পড়ছে। জীবনযুদ্ধে ক্লান্ত এই মানুষটি এখন স্ত্রী শাহনাজ ও একমাত্র সন্তানকে নিয়ে কোনোভাবে বেঁচে থাকার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।
নাহিদের ঘরটি আসলে ঘর নয়, যেন একটা সামান্য আশ্রয়। কাগজ আর পলিথিনের বেড়া দিয়ে বানানো এই ঝুপড়ি ঘরে বৃষ্টি হলেই পানি ঢোকে। শীতের সময় ঠাণ্ডা বাতাসে পুরো পরিবারটি জমে থাকে। রাতের পর রাত ঘুমানোর পরিবর্তে তারা সময় কাটান শীতে কাঁপতে কাঁপতে। নাহিদ বলেন, “এই ঘরে বাচ্চাটাকে নিয়ে থাকি। বৃষ্টি হলে কোলের কাছে এনে বসে থাকি যেন ভিজে না যায়। শীতকালে যে ঠাণ্ডা বাতাস ঢোকে, তা বলে বোঝানো যাবে না। মনে হয়, এভাবে আর বাঁচা সম্ভব নয়।”
নাহিদের জীবনের সবচেয়ে বড় কষ্ট হলো, তিনি কোনোদিন সরকারি সহায়তা পাননি। বহুবার স্থানীয় চেয়ারম্যান, মেম্বার, এমনকি এমপির কাছে গেছেন। কিন্তু শুধু প্রতিশ্রুতি পেয়েছেন, সাহায্য পাননি। ভাঙা কণ্ঠে তিনি বলেন, “আমার কিছু জমি আছে, কিন্তু টাকার অভাবে একটা ঘর বানাতে পারি না। আমি মরার আগে যদি একটা ঘর করতে পারতাম, তাহলে শান্তি নিয়ে মরতে পারতাম। ঘরের বেড়া দিয়ে পানি ঢোকে। কেউ সাহায্য করতে চায় না। আমি মরে গেলে আমার ছেলেটা কোথায় থাকবে, কে ওকে ঘর করে দেবে?”
নাহিদের এই কান্না শুনে গ্রামের লোকজনও কষ্টে আপ্লুত। তারা বলেন, “সরকারি ঘর পেতে হলে টাকা লাগে। কিন্তু নাহিদ টাকা কোথা থেকে দেবে? তাই সে আজও ঘর পায়নি।” স্থানীয়রা আরও বলেন, নাহিদের মতো অসহায় মানুষেরা প্রকৃতপক্ষে সরকারি সহায়তার যোগ্য, কিন্তু সেসব সুযোগ বঞ্চিত হয়ে তারা কষ্টে দিন কাটাচ্ছে।
এ বিষয়ে নড়িয়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা শংকর চন্দ্র বৈদ্য বলেন, “বিষয়টি আমার জানা ছিল না। তবে আমরা দ্রুত তদন্ত করে নাহিদের জন্য পূর্ণাঙ্গ বাসনের ব্যবস্থা নেব।”
নাহিদের এই অসহায় অবস্থা সমাজের সেই করুণ বাস্তবতাকে সামনে আনে, যেখানে গরিব মানুষগুলোর কষ্ট কেউ দেখে না। তাদের কান্না যেন রাষ্ট্রের কর্ণকুহরে পৌঁছায় না। নাহিদের মতো একজন অসহায় মানুষ আজ মৃত্যুর আগে শুধু একটি ঘরের স্বপ্ন দেখছেন। তার এই আর্তি কি আমাদের বিবেককে স্পর্শ করে না?
৫ দিন ১৪ ঘন্টা ৪২ মিনিট আগে
৭ দিন ৮ ঘন্টা ৩১ মিনিট আগে
৮ দিন ৬ ঘন্টা ১৬ মিনিট আগে
৮ দিন ৬ ঘন্টা ২০ মিনিট আগে
৮ দিন ১৩ ঘন্টা ১২ মিনিট আগে
১৪ দিন ১৫ ঘন্টা ৬ মিনিট আগে
১৯ দিন ৫ ঘন্টা ৩৪ মিনিট আগে
১৯ দিন ৮ ঘন্টা ১ মিনিট আগে