বরগুনার তালতলীতে সবজি খ্যাত দেশ নামে পরিচিত সওদাগর পাড়া। এখানের ৮০ ভাগ মানুষ সবজী চাষ করছেন। বছরে প্রায় ৭ কোটি টাকার সবজি বিক্রী হয় এখানে। যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। তবে তিন কিলোমিটার সড়কের অভাবে ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে কৃষকরা। কৃষকদের প্রানের দাবি পাকা সড়কের। এই সড়কটি পাকা হলে পাল্টে যাবে অর্থনৈতিক দৃশ্যপট।
জানা যায়, উপজেলার দক্ষিণে সওদাগর পাড়া এলাকায় অধিকাংশ মানুষ এখন সবজী চাষের দিকে ঝুঁকছেন। এতে সফলও হয়েছেন তারা। শিশির ভেজা ঘাসে পাখির কিচিরমিচির শব্দে ঘুম ভাঙা ভোরে কোদাল হাতে কৃষক চলেন ফসলের মাঠের দিকে। সারাবেলা মাঠে হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে ফসল ফলান এ গ্রামের কৃষকরা। আর তাদের সবজি স্থানীয় বাজারসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হয়। বাজারজাত করে আর্থিকভাবে স্বচ্ছল হয়েছেন সওদাগর পাড়া গ্রামের ৫ শতাধিক কৃষক। এ গ্রামের শতকরা ৮০ ভাগ মানুষই কৃষি কাজের সাথে জড়িত। এখানকার মানুষের সবজি চাষই অন্যতম আয়ের উৎস। বছরের ১২ মাসই বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করেন তারা। এই সবজি যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। প্রতি বছর ৭ থেকে ৮ কোটি টাকার সবজি বিক্রী করেন এখানকার কৃষকরা। তবে তিন কিলোমিটার পাকা সড়কের অভাবে ন্যায্য মূল্য পাচ্ছে না। বর্ষার সময় কৃষকদের ভোগান্তির অন্যতম কারন হচ্ছে এই কাদামাটির সড়ক। এই তিন কিলোমিটার সড়ক পাকা হলে পাল্টে যাবে এখানকার অর্থনৈতিক দৃশ্যপট। বছরে প্রায় ১০ থেকে ১২ কোটি টাকার সবজি বিক্রী হওয়ার আশা করছেন কৃষকরা। আর এতে সরকার রাজস্ব পাবে।
সবজি চাষি শাহাদাত মাতুব্বর বলেন, এই এলাকার ৮০ ভাগ মানুষ ১২ মাস সবজি চাষ করেন। এই এলাকার সবজি দেশের বিভিন্ন স্থানে যাচ্ছে। বছরে প্রায় ৭ কোটি টাকার সবজি এই এলাকা থেকে বিক্রী হচ্ছে। তবে তিন কিলোমিটার কাঁচা সড়কের কারণে এই সবজি খ্যাত এলাকাটি অর্থনৈতিকভাবে একটু পিছিয়ে রয়েছে। এই সড়ক যদি পাকা হয় তাহলে এই এলাকার অর্থনৈতিক অবস্থা পাল্টে যাবে।
আরেক সবজি চাষি মো.খলিলুর রহমান বলেন, আমি বছরে প্রায় ২০ থেকে ৩০ লাখ টাকার সবজি বিক্রী করি। কিন্তু কাঁচা রাস্তা থাকায় এই সবজি পরিহন করতে অনেক কষ্ট হচ্ছে। যার কারণে আমরা সঠিক মূল্য পাচ্ছি না। রাস্তা কাঁচা হওয়াতে আমাদের ভোগান্তি এখন নিত্যদিনের সঙ্গি। দ্রুত এই সড়কটি পাকা করার দাবি করছি।
এবিষয়ে ঐ এলাকার ইউপি সদস্য ছিদ্দিকুর রহমান বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে মাটির কাজ করা হয়। কিন্তু এখানে পাকা সড়ক দেওয়া দরকার। তাহলে এই এলাকার অর্থনৈতিক অবস্থার পরিবর্তন হবে। কৃষকরা তাদের পণ্যের সঠিক মূল্য পেলে যেমন তাদের ভাগ্যের চাকা ঘুরে দাড়াবে তেমনি ভাবে সরকারও রাজস্ব পাবে। তিনি আরও বলেন, এই কাঁচা সড়কের জন্য দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বড় পাইকার আসে না সবজি ক্রয় করতে। এজন্য সঠিক মূল্য পাচ্ছে না সবজি চাষিরা।
এবিষয়ে তালতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার বলেন, তিন কিলোমিটার রাস্তা কাদামর্দক আছে। এজন্য সবজি চাষিরা ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেনা। পাকা বা এইচবিবি সড়কের জন্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হবে। ওখানে পাকা সড়ক হলে ঘুরে যেতে পারে অর্থনৈতিক অবস্থা।
৬০ দিন ২০ ঘন্টা ১৭ মিনিট আগে
১০২ দিন ১৭ ঘন্টা ৫৫ মিনিট আগে
১১০ দিন ১৯ ঘন্টা ৫৫ মিনিট আগে
১১৭ দিন ১৩ ঘন্টা ১২ মিনিট আগে
১৩৩ দিন ১১ ঘন্টা ১৮ মিনিট আগে
১৩৫ দিন ১৬ ঘন্টা ১ মিনিট আগে
১৩৯ দিন ২০ ঘন্টা ২৬ মিনিট আগে
১৪৭ দিন ২০ ঘন্টা ১২ মিনিট আগে