টেকনাফে কোস্টগার্ডের হাতে আটক এক ব্যক্তিকে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ভারী অস্ত্র দিয়ে মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে এই ষড়যন্ত্রমূলক মামলা হতে অব্যাহতি দেওয়ার দাবী জানিয়েছে ভোক্তভোগী পরিবার-পরিজন।
শনিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট (বিএম) মোঃ সিয়াম উল হক জানান, রাতের প্রথম প্রহর দেড়টায় টেকনাফ বিসিজি স্টেশন কমান্ডার লেঃ কমান্ডার লুৎফুল লাহিল মাজিদ এর নেতৃত্বে কোস্টগার্ডের একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সাবরাং উপকূলীয় ঘাট এলাকায় ১টি বসত-বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ১টি জি-৩ রাইফেল ও ৮টি তাঁজা বুলেটসহ মোঃ শহিদ নামের এক যুবককে আটক করা হয়। তিনি আরো জানান,‘শহিদ দীর্ঘদিন যাবত পার্শ্ববর্তী দেশ মিয়ানমার থেকে অস্ত্র পাচার করে টেকনাফের ডাকাত দলকে সরবরাহ করছিল। ’তিনি আরো বলেন,‘আমরা আটক পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে অস্ত্র উদ্ধার করেছি। এখন এসে পরিবারের পক্ষ থেকে যে বিষয়টি দাবি করেছে সেটি তাদের ব্যক্তিগত মতামত। সেখানে আমার কিছু বলার নেই এবং অস্ত্রসহ ধৃত ব্যক্তিকে মামলা দিয়ে থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।’
ঐদিন দুপুরেই ভিকটিমের পরিবার টেকনাফ পৌরসভার বাসস্টেশনস্থ আবু ছিদ্দিক মার্কেটের একটি অফিসে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। এতে উপস্থিত হয়ে বক্তব্য রাখেন শহিদের স্ত্রী জেয়াসমিন করিম জোসনা তার ভাই রাকেব উল্লাক ও নুর কামাল। ধৃত শহিদের ভাই রাগেব উল্লাহ ও পরিবারের সদস্যদের দাবী, শহীদকে ডেকে নিয়ে অস্ত্র দিয়ে মামলায় ফাঁসিয়েছে। ‘আমার বড় ভাইকে ফাঁসিয়ে আমার চোখের সামনে আটকের নাটক মঞ্চস্থ করা হয়েছে। আমার সামনেই ভাইয়ের বাড়িতে তল্লাশী করে কিছুই পায়নি। কিন্তু বাড়ি থেকে প্রায় ৮০-১০০ ফুট দূরে সুপারী ভিটা থেকে বস্তায় মোড়ানো অস্ত্র নিয়ে আসে। তখন আমি বাকরুদ্ধ এবং আমার বড় ভাই শহিদুল্লাহ পাথরের মতো দাঁড়িয়ে হাউ মাউ করে কান্না শুরু করে। এরপর তাঁর নিকট হতে অস্ত্র ও বুলেট পাওয়ার কথা বলে তাকে অস্ত্রসহ ধরে নিয়ে যায় কোস্ট গার্ড।
তিনি আরো বলেন,‘মূলত ঘটনাটি হচ্ছে এলাকার চোরাকারবারি মোয়াজ্জেম হোসেন প্রকাশ দানু ও আবদুল আমিন প্রকাশ রুইল্ল্যা মাঝিকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করে মুন্ডারডেইল নৌঘাটে আমার ভাইকে সভাপতি বানানো হয়। ফলে তাদের চোরাচালানে বাঁধা হয়ে দাড়াঁয় আমার ভাই। এ কারণে চোরাকারবারিরা ষড়যন্ত্র করে কোস্টগার্ডকে দিয়ে সুপারী বাগানে অস্ত্র দিয়ে মিথ্যা মামলা সাজিয়েছে। শহিদ কোনক্রমে অবৈধ মাদক ও মানবপাচারের সাথে জড়িত নয়। যা তদন্ত করলে সত্যতা পাওয়া যাবে। মূলত শহিদকে উক্ত নৌঘাঁটের সভাপতি থেকে সরিয়ে দিতে পারলে মাদক, মানবপাচার, মিয়ানমারে পণ্য পাচার সুবিধাজনক হবে। তাই অস্ত্রসহ আটক দেখানো ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলায় দিয়ে ফাঁসানো হয়েছে। আমি বর্তমান সরকারের কাছে তদন্তপূর্বক মামলা প্রত্যাহার ও তার মুক্তি দাবী করছি।’
অপরদিকে ধৃত শহীদের স্ত্রী জেয়াসমিন করিম জোসনা ৩ সন্তানকে পাশে রেখে কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, ‘আমার তিন সন্তান, কোনদিন দেখেনি স্বামী কোন অবৈধ কার্যক্রমে জড়িত ছিল। মূলত নৌঘাঁটের সভাপতি হওয়ার পর তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে নেমেছে চিহ্নিত চোরকারবারিরা। আমি সঠিক তদন্তের মাধ্যমে সরকারের কাছে সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।’
টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন,কোস্টগার্ডের পক্ষ থেকে আসামীকে থানায় সোপর্দ করে। পরবর্তীতে পুলিশের পক্ষ থেকে সঠিক তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বস্থ করেন। ###
১২ ঘন্টা ১৭ মিনিট আগে
১১ দিন ১৪ ঘন্টা ৬ মিনিট আগে
৩১ দিন ৭ ঘন্টা ১৩ মিনিট আগে
৪৪ দিন ১১ ঘন্টা ৪৩ মিনিট আগে
৭০ দিন ১৭ ঘন্টা ৩ মিনিট আগে
৮৮ দিন ১৭ ঘন্টা ৩০ মিনিট আগে
৮৮ দিন ১৭ ঘন্টা ৩১ মিনিট আগে
৯০ দিন ১৬ ঘন্টা ৪০ মিনিট আগে