◾ আন্তর্জাতিক ডেস্ক
পাকিস্তানে টানা অতিবৃষ্টিতে সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতিতে ‘জাতীয় জরুরি অবস্থা’ ঘোষণা করা করা হয়েছে। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার বর্ষাকালীন অবিরাম বর্ষণকে ‘জলবায়ুজনিত মানবিক সংকট’ অভিহিত করে দেশটির সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এ ঘোষণা দেয়।
দ্য ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলমান বন্যায় এ পর্যন্ত ৩৪৩ শিশুসহ ৯৩৭ জনের মৃত্যু এবং অন্তত তিন কোটি মানুষ আশ্রয়হীন হয়েছে।
পাকিস্তানের জাতীয় দুর্যোগব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের (এনডিএমএ) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জুনের মাঝামাঝি থেকে শুরু হওয়া এই বন্যা ও বৃষ্টিজনিত ঘটনায় সবচেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে সিন্ধু প্রদেশে। এ পর্যন্ত এখানে মারা গেছে ৩০৬ জন।
বেলুচিস্তান প্রদেশে ২৩৪ জন, খাইবার পাখতুনখোয়ায় ১৮৫ এবং পাঞ্জাবে ১৬৫ জন মারা গেছে। এ ছাড়া আজাদ জম্মু ও কাশ্মীরে ৩৭ এবং গিলগিট-বালতিস্তান অঞ্চলে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময় ইসলামাবাদেও একজনের মৃত্যু হয়।
এনডিএমের তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানে আগস্টে ১৬৬ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে, যা এই মাসের বৃষ্টিপাতের স্বাভাবিক গড় ৪৮ মিলিমিটার থেকে ২৪১ শতাংশ বেশি। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা সিন্ধু ও বেলুচিস্তানে স্বাভাবিক গড়ের চেয়ে যথাক্রমে ৭৮৪ শতাংশ এবং ৪৯৬ শতাংশ বেশি বৃষ্টি হয়েছে।
এ অবস্থায় দেশটির জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী শেরি রেহমান আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে বলেন, ‘পাকিস্তানে আশ্রয়হীন ও খাদ্যহীন হয়ে পড়েছে হাজার হাজার মানুষ। যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এটি মারাত্মক মানবিক সংকট।’
জাতিসংঘের মানবিক কার্যক্রমের সমন্বয় কার্যালয়ের (ওসিএইচএ) তথ্যমতে, পাকিস্তানে বন্যা ও ভারী বৃষ্টিপাতে অন্তত ২৩ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কমপক্ষে ৯৫ হাজার ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে।
পাকিস্তানের জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী শেরি রেহমান বলেন, চলমান বন্যায় বহু শিশুর প্রাণহানি ছাড়াও লাখো ঘরবাড়ি ও অবকাঠামোর ক্ষতি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বেলুচিস্তান ও সিন্ধু প্রদেশ।
ওসিএইচএ বলছে, এ বন্যায় বেলুচিস্তানে অন্তত পাঁচ লাখ গবাদি পশু মারা গেছে। তিন হাজার কিলোমিটারের বেশি রাস্তা ও ১২৯টি সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে বন্যাকবলিত এলাকা যোগাযোগবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
চলতি বর্ষা মৌসুমে নজিরবিহীন বৃষ্টির কারণে পাকিস্তানে প্রায় সবগুলো প্রদেশেই বন্যা দেখা দেয়। বন্যার পাশাপাশি ভূমিধসে বহু প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি হয়। বন্যাদুর্গতদের পুনর্বাসন ও অবকাঠামো মেরামতে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন।
বুধবার এনডিএমএ জানিয়েছে, বন্যায় ত্রাণ, পুনর্বাসন এবং ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্গঠনের জন্য আরও আন্তর্জাতিক অর্থায়নের প্রয়োজন।
এনডিএমএর সংবাদ সম্মেলনে শেরি রেহমান বলেন, ‘২০১০ সালের পর এটি সবচেয়ে বড় বন্যা। এতে বেলুচিস্তানের বেশির ভাগ এলাকা, দক্ষিণ পাঞ্জাব ও সিন্ধুর ৩০টি জেলা ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। বহু মানুষ ও গবাদি পশু বন্যার স্রোতে ভেসে গেছে; ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শস্য।’
ভারী বৃষ্টি ও বন্যা পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতে গত সপ্তাহ থেকে বেলুচিস্তান ও সিন্ধুর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
পাকিস্তানে প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে ভারী বৃষ্টিপাত হয়। তবে গ্রীষ্মে এমন পরিস্থিতি কখনো হয় না। শেরি রেহমান সিএনএনকে বলেন, ‘এবার পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় শহর করাচিতে কয়েক ঘণ্টায় ৪০০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এমন কোনো শহর নেই যে এত কম সময়ে এত বেশি পানি ব্যবস্থাপনা করতে পারে।’
১ দিন ৪ ঘন্টা ৩ মিনিট আগে
১ দিন ২২ ঘন্টা ৩৫ মিনিট আগে
২ দিন ১৬ ঘন্টা ১৫ মিনিট আগে
৫ দিন ৪ ঘন্টা ২১ মিনিট আগে
৬ দিন ৩ ঘন্টা ৪৫ মিনিট আগে
৭ দিন ১ ঘন্টা ৫১ মিনিট আগে
৭ দিন ১ ঘন্টা ৫৩ মিনিট আগে
৭ দিন ১ ঘন্টা ৫৯ মিনিট আগে