ঝিনাইগাতীতে ব্যবসায়ীদের সাথে বিএনপি প্রার্থী রুবেলের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত সাতক্ষীরা জেলা আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক মাসিক সভায় অনুষ্টিত জয়পুরহাটে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস ও হানাদার মুক্ত দিবস পালিত ‘মস্তিষ্কে পানি জমে আছে, ক্লিনিক্যালি উন্নতি নেই’ হাতীবান্ধায় নানা আয়োজনে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালিত খাস পুকুর অনুমোদিত দরের চেয়ে কম টাকায় দলিল, সরকারের বড় অঙ্কের রাজস্ব ক্ষতির দাবি ঝিনাইগাতীতে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালিত ভোট দিতে ৩ লাখ ৭১ হাজারের বেশি প্রবাসীর নিবন্ধন মধুপুরে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালিত হাদির ওপর হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের মালিক গ্রেপ্তার আশঙ্কা করছি, হাদির মতো এ রকম ঘটনা আরও ঘটতে পারে: মির্জা ফখরুল সুদানে ৬ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী নিহত: আইএসপিআর গলাচিপায় নিরাপত্তা জোরদারে ডিআইজি’র আকস্মিক থানা পরিদর্শন বকশীগঞ্জের 'বটগাছ' খ্যাত আব্দুর রউফ তালুকদার যোগ দিলেন ইসলামী আন্দোলনে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস আজ শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা লোহাগাড়ায় সাবেক ইউ পি সদস্য মৃনাল কান্তি দাশের পরলোক গমন। মিরসরাইয়ে শিক্ষক ফেডারেশন মেধাবৃত্তি পরীক্ষা শতাব্দী এলিট কাপ ক্রিকেট টুর্ণামেন্ট চ্যাম্পিয়ন নাইন উইংস চট্টগ্রাম ১৫ আসনের বি এন পি প্রার্থীকে পঞ্চাশ হাজার টাকা জরিমানা।

ক্ষেতলালে সরিষার জমিতে মধু সংগ্রহের ব্যস্ত মৌয়ালরা

জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে সরিষার জমির পাশে মৌ-বক্স স্থাপনের মাধ্যমে মধু সংগ্রহের কাজ করেছেন মৌ-চাষীরা। উপজেলার তুলসীগঙ্গা ইউনিয়নের বিলের ঘাট থেকে জামালগঞ্জ চারমাথা রাস্তার পাশে এ মধু সংগ্রহের কাজ করছেন তারা। 


জানা গেছে, মধু সেবন মানব দেহের জন্য বেশ উপকারী ও ঔষধী গুনাগুণ সমৃদ্ধ হওয়ায় বাজারে এর ব্যাপক চাহিদা। তারমধ্যে নির্ভেজাল মধু প্রেমীর সংখ্যা আরো বেশি। এ ছাড়াও সরিষার পরাগায়নের জন্য মৌমাছি বড় ধরনের নিয়ামক হিসাবে কাজ করে। তাইতো প্রতি বছর এই সময়ে চাষীরা সরিষা থেকে মধু সংগ্রহ করতে ব্যস্ত সময় পার করেন। 


ক্ষেতলাল উপজেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের তথ্য মতে গত বছর এ উপজেলায় ১ হাজার দুইশো ৮০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়েছিলো। তবে কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় বিনামূল্যে কৃষকের বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণ, রাজস্ব প্রদর্শনী ও ফলোআপ কার্যক্রমসহ অন্যান্য প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষককে সহায়তা ও উদ্বুদ্ধকরণের ফলে এ বছর চলতি মৌসুমে ১ হাজার চারশত ২০ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদ হয়েছে। যা গতবছরের তুলনায় অনেকটা বেশি।


সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, উপজেলার তুলসীগঙ্গা ইউনিয়নের বিলের ঘাট টু জামালগঞ্জ চারমাথা রাস্তার দুপাশে সরিষা চাষে পুরো মাঠ যেন ঢেকে আছে সুন্দর এক হলুদের চাদরে। এমন চাদরে ঘেরা প্রকৃতিতে ফুলের গন্ধ আর মৌমাছির গুঞ্জন ছড়াচ্ছে মাঠে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে মধু সংগ্রহ করছেন ঢাকার নারায়ণগঞ্জ থেকে আগত খোরশেদ এবং জয়পুরহাট সদর উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের শাহানুর নামের দুই মৌ-চাষী।


সরিষা ক্ষেতের পাশে খোলা জায়গায় সারিবদ্ধভাবে রাখা হয়েছে পোষা মৌমাছির প্রায় ১০০টি বাক্স। একেকটি বাক্সে মোম দিয়ে তৈরি ছয় থেকে সাতটি মৌচাকের ফ্রেম রাখা হয়েছে। বাক্সগুলোর ভেতরে দেওয়া হয়েছে একটি করে রাণী মৌমাছি। যাকে ঘিরে আনাগোনা করছে হাজারো পুরুষ মৌমাছি। একটি রাণী মৌমাছির বিপরীতে প্রায় তিন থেকে চার হাজারের মতো পুরুষ মৌমাছি থাকে একেকটি বাক্সে। রাণীর আকর্ষণে সরিষা ফুল থেকে মধু এনে বাক্সের ভেতরের চাকে জমা করছে মৌমাছিরা। পরে এই চাক থেকেই মধু সংগ্রহ করেছেন মৌ-চাষীরা। 


প্রতি দিন সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত এসব মৌচাক থেকে মধু সংগ্রহ করেছেন মৌ- চাষীরা। এরপর এসব মধু তারা স্থানীয়দের কাছে বিক্রি করছেন। মৌ-চাষের মাধ্যমে চাষীরা একদিকে যেমন আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন, অন্যদিকে দূর হচ্ছে বেকারত্ব। 


এ বিষয়ে মৌ-চাষী শাহানুর ইসলাম বলেন, আমি প্রায় ৮-৯ বছর ধরে এই মধু সংগ্রহের কাজ করছি। এবছর আমার দুটি সাইটে মধু সংগ্রহের কাজ চলছে এটি বাদেও জয়পুরহাটের পুরানাপৈল একটি সাইটে মধু সংগ্রহের কাজ করছি। এখানে প্রায় ২০ দিন ধরে এই মধু সংগ্রহ করছি এখন পর্যন্ত প্রায় ১৬ মন মধু সংগ্রহ করতে পেরেছি। এসব মধু ৪০০ টাকা কেজি হিসেবে এখান থেকেই বিক্রি করছি। মধু সংগ্রহ করে অর্থনৈতিক ভাবে লাভবান হচ্ছি।


 ঢাকার নারায়ণগঞ্জ থেকে মধু সংগ্রহ করতে আসা মৌ-চাষী খোরশেদ আলম বলেন, আমরা মধু সংগ্রহের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছি। মধু সংগ্রহের জন্য স্টিল ও কাঠ দিয়ে তৈরি প্রায় ১০০টি বাক্স বসিয়েছি। এসকল বাক্সের ভেতরে কাঠের তৈরি সাতটি ফ্রেমের সঙ্গে মোম দিয়ে বানানো বিশেষ কায়দায় লাগানো থাকে এক ধরনের সিট। প্রতিটি বাক্স থেকে ৬-৭ কেজি মধু পাই। গত ২০ দিন ধরে সবগুলো বাক্স মিলে ১৫ থেকে ১৬ মন মধু সংগ্রহ করেছি। প্রতি কেজি মধু ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করি। এসব সরিষা ফুলের মধু খাঁটি ও সুস্বাদু হওয়ায় আশেপাশের বিভিন্ন স্থান থেকে লোকজন ভীড় জমাচ্ছে মধু কিনতে।


ক্ষেতলাল উপজেলা কৃষি অফিসার জাহিদুর রহমান বলেন, উপজেলায় এ বছর চলতি মৌসুমে ১ হাজার চারশত ২০ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদ হয়েছে। যা গতবছরের তুলনায় অনেকটা বেশি। সরিষা খেতে মৌমাছির বিচরণ থাকায় ফুলের পরাগায়নে সহায়তা হয়, ফলে সরিষার ফলনও বেশি হয়।


জয়পুরহাট বিসিকের উপব্যবস্থাপক লিটন চন্দ্র ঘোষ বলেন, চলতি মৌসুমে এ জেলায় ৩০ টন মধু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। আমাদের পক্ষ থেকে ১০০ কৃষককে পরামর্শ ও উৎসাহিত করছি এবং বিগত দিনে মৌচাষের প্রশিক্ষণও দেয়া হয়েছে। যাতে সরিষা খেতে মৌবাক্স স্থাপনের মাধ্যমে মৌ-চাষ করে তারা আর্থিকভাবে লাভবান হতে পারেন।

আরও খবর